বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনো পিছিয়ে পড়েনি: প্রতিমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৫৮ পিএম, ১৪ আগস্ট ২০২২

বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনো পিছিয়ে পড়েনি বা সংকটে নিপতিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম।

তিনি বলেছেন, আমাদের দেশে উৎপাদন ব্যাহত হয়নি। সবকিছু ভালোভাবে চলছে। অর্থনীতি স্বস্তিদায়ক জায়গায় আছে এবং আমাদের সক্ষমতা আছে, তাই যত দ্রুত সম্ভব ঋণ নিতে হবে। এটা আইএমএফ, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক বা অন্য যারা সরকারকে ঋণ দেয়, তাদের কাছ থেকে ঋণ নিতে হবে।

রোববার (১৪ আগস্ট) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বেসরকারি খাতের দৃষ্টিতে ২০২১-২২ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বাংলাদেশের অর্থনীতির সামগ্রিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামনে নির্বাচন। দেড় বছরের কম সময়, এ সময়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক একধরনের প্রচেষ্টা জোরদার হবে। কিছু দাবি-দাওয়ার কথা বলে উসকে দেওয়ার চেষ্টা হবে। নানা রকম কথা উঠবে। আশঙ্কাবাদীরা নানা রকম আশঙ্কা প্রকাশ করবে। তবে এ নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই।

তিনি বলেন, অর্থনীতি এখনো পিছিয়ে পড়েনি বা সংকটে নিপতিত হয়নি। বলা হচ্ছে, আমরা সংকটে পড়েছি বলে আইএমএফ’র কাছে যেতে হচ্ছে। বলা হচ্ছে, আমরা শ্রীলঙ্কা হতে যাচ্ছি। এ রকম একটা আভাস অর্থনীতিবিদরা তুলে ধরছেন। আমি বলবো, আশঙ্কাবাদী অর্থনীতিবিদরা এ বিষয়গুলো সামনে নিয়ে আসছেন এবং বিশেষ বিশেষ মহল সেটাকে আরও উৎসাহিত করছেন। আন্তর্জাতিকভাবেও কেউ কেউ নানা মন্তব্য করছেন, বাংলাদেশকে নানাভাবে সতর্ক করে দিচ্ছেন। এগুলো আসলে একটা সমন্বিত প্রয়াস। এক ধরনের অনিশ্চয়তা, এক ধরনের গভার্ন্যান্স ফেলিওর, এখন অর্থনীতি কলাপ্স (ধস) করতে যাচ্ছে, এ ধরনের একটা হাইপ.. এ ধরনের প্রচেষ্টা কিন্তু চলছে।

মূল্যস্ফীতি এখন বড় একটা চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে শামসুল আলম বলেন, আমরা বাজেটটা সেভাবে করেছিলাম, যেন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। আসলে মূল্যস্ফীতি এই বিষয়টা আমাদের হাতে নেই। এটা আমদানিজনিত মূল্যস্ফীতি। পণ্য আমদানিতে অতিরিক্ত মূল্য এবং পরিবহন খরচের কারণে আমাদের দেশে দাম বেড়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশে উৎপাদন ব্যাহত হয়নি। কৃষিতে হয়নি, শিল্পে হয়নি। সবকিছু ভালোভাবে চলছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন আমাদের সঞ্চয় ২৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। বিনিয়োগ হচ্ছে ৩১ দশমিক ৬৮ শতাংশ। সঞ্চয়ের তুলনায় বিনিয়োগ ৬ শতাংশের মতো বেশি। সাধারণত এটা দু-তিন শতাংশ বেশি হয়। আমাদের জাতীয় সঞ্চয় কিছুটা কমেছে। এটা অবশ্যই কমবে, কারণ কোভিড সময়ে অনেকেই সঞ্চয় ভেঙেছেন। কিন্তু বিনিয়োগ ঠিক আছে।

‘একটা কথা প্রায় শোনা যায় শ্রীলঙ্কা হয়ে যাবো, শ্রীলঙ্কা হয়ে যাবো। শ্রীলঙ্কার ঋণ জিডিপির ১১২ শতাংশ। আমাদের এটা ৩৪ শতাংশ। সরকারের ২০ শতাংশ ঋণ ব্যাংকগুলো থেকে এবং ১৪ শতাংশ বাহির থেকে। আমাদের দ্রুত যত ঋণ নেওয়া যায় সেটা আইএমএফ হোক, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক হোক, অন্য যারা ঋণ দেয় সরকারকে তাদের কাছে থেকে ঋণ নিতে হবে। আমাদের সক্ষমতা আছে, আমরা যেহেতু কমফোর্ট জোনে আছি, কেন আমরা ঋণ নেবো না?

তিনি আরও বলেন, এখন আমাদের ৪২ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ আছে। এটা দিয়ে সাড়ে ৫ মাসের আমদানি ব্যয়ের সমান। আর যদি শুধু খাদ্য আমদানি করি তা দিয়ে ১০ মাস চলে যাবে। আমরা ভালো একটা কমফোর্ট জোনে আছি। কাজেই দ্রুত আমি ঋণ নেওয়ার পক্ষ চাইবো। ঋণ নেওয়াটা একেবারেই দেশ গেলো, দুনিয়া গেলো এমন মনে করার কোনো কারণ নেই।

শামসুল বলেন, ঋণ নেওয়া মানে ব্যবসাকে সহযোগীতা করা। ঋণ নেওয়া মানে ব্যবসাকে চালু করা। এই জন্য যতদ্রুত সম্ভব আমরা ঋণ নিতে চাইবো। বাজেট সাপোর্টের অংশ হিসেবে আমরা ঋণ নেবো। আশঙ্কাবাদীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। আমি মনে করি নিঃসন্দেহে আশঙ্কা বাদ দিতে পারেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। সময়টা খুব সংবেদশীল। সামনে নির্বাচন আসছে বহু রকম কথা এখানে উঠবে। অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলবে। ভিন্ন দেশের পত্রিকা থেকে বাংলাদেশের সাফল্যর কথা প্রকাশিত হয়। বাহিরের লোক বলে দারিদ্র্য নিরসনে বাংলাদেশ থেকে শিক্ষা নিতে। কিন্তু আমাদের দেশের অর্থনীতিবিদরা বলবেন না। তারা বলবেন দারিদ্র্য বেড়ে গেছে। দারিদ্র্য নিরসনের সাফল্যের কথা তারা বলবেন না।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- সংসদ সদস্য ও এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিকেএমইএ’র নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রমুখ।

বিকেএমইএ’র নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, তেলের যে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে তা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের দেশে একটা কথা আছে একবার দাম বাড়লে, বিশ্ববাজারে দাম কমলেও তার সুফল পাওয়া যায় না। তাই তিন মাস অন্তর তেলের দাম সমন্বয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ডলারের সংকটের কথা আমরা শুনি। এই মুহূর্তে ডলারের ক্রয় ও বিক্রয় মূল্যের পার্থক্য সব থেকে বড় সমস্যা। ব্যাংক আমাদের কাছ থেকে এক্সপোর্ট ডকুমেন্টের বিপরীতে ডলার কিনে নিচ্ছে সর্বোচ্চ ৯৫ টাকা। এই ৯৫ টাকার ডলার আমরা যখন এলসি করছি তখন আমাদের ১০৭-১০৮ দিয়ে কিনতে হচ্ছে। ব্যাংকগুলো কেন এই ডলারের ব্যবসা করবে। ক্রয়-বিক্রিয়ের মধ্যে কোনো অবস্থাতেই এক টাকার বেশি ব্যবধান থাকতে পারবে না। এটা বাংলাদেশ ব্যাংককে নিশ্চিত করতে হবে।

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, আমাদের আমদানি-রপ্তানির প্রধান বাধা হচ্ছে এনবিআর ও কাস্টমস। আমাকে প্রায় প্রতিদিনই চট্টগ্রাম কাস্টমস, ঢাকা কাস্টমস ও উত্তর-দক্ষিণের কাস্টমসের কমিশনারকে ফোন দিয়ে ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করতে হয়। নানা অজুহাতে গাড়ি ও পণ্য আটকে রাখা হচ্ছে। এই জ্বালাতন কেন হবে? অপকর্ম যারা করেন তাদের ধরেন। অপকর্মকারীদের ধরেন, দৃষ্টান্তমূলক সাজা দেন। আমাদের আপত্তি নেই। বন্ড অপব্যবহারকারীদের সাজা দিয়ে সারাজীবনের জন্য বন্ধ করে দেন, আপত্তি নেই।

সংসদ সদস্য ও এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, অনেক সংগ্রামের পর সুদের হার এক অঙ্কে নেমে এসেছে। সুদের হার যেনে এক অঙ্কে থাকে। মানি সাপ্লাই কমিয়ে দিলে বিনিয়োগ কমে যাবে।

এমএএস/আরএডি/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।