বাসে ওয়েবিল-চেকার

‘ইচ্ছামতো’ ভাড়া আদায়ের অভিযোগ যাত্রীদের

মুরাদ হুসাইন
মুরাদ হুসাইন মুরাদ হুসাইন , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৩১ পিএম, ১৫ আগস্ট ২০২২

রাজধানীতে ওয়েবিল ও চেকার বহাল রেখে একই গন্তব্যের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গণপরিবহন মালিক-শ্রমিকদের বিরুদ্ধে। যাত্রীদের অভিযোগ, বাসগুলোর সুপারভাইজাররা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন।

এমনকী একই বাস কোম্পানির স্টাফরা একই গন্তব্যের জন্য আলাদা ভাড়া আদায় করছেন। বাসমালিকদের নির্দেশেই সরকার নির্ধারিত ভাড়ার পরিবর্তে অতিরিক্ত ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান একাধিক বাসচালক।

জানা গেছে, এখন বড় বাসস্ট্যান্ডগুলোতে অপেক্ষারত চেকাররা স্লিপ আকারের ওয়েবিল সই করছেন। বাস থামিয়ে যাত্রীসংখ্যা উল্লেখ করলে স্লিপ আকারের ওই ওয়েবিলে সই করে স্টাফকে ধরিয়ে দিচ্ছেন তারা।

সোমবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, ইসিবি চত্বর থেকে আজিমপুর যেতে মিরপুর সুপার লিংক পরিবহনের বাসে যাত্রীদের কাছ থেকে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। বাড়তি ভাড়া দিতে না চাইলে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে যাত্রীদের। সম্মানের কথা চিন্তা করে যাত্রীরাও প্রতিবাদ করছেন না।

মিরপুর সুপার লিংকের বাসচালক মিজানের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, প্রতিদিন বাসমালিককে তিন হাজার টাকা, তেল কিনতে সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার টাকা, চাঁদা ৩০০ টাকা, হেলপারদের দুই হাজার টাকা দিতে হয়। তারওপর কয়েকটি বাসস্ট্যান্ডে চেকারকে প্রতি বাস থেকে ১০ টাকা করে দিতে হয়। এসব কারণে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে।

মিরপুর-১২ থেকে বাংলাবাজার যাওয়ার জন্য যাত্রীদের কাছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা নিচ্ছে বিহঙ্গ পরিবহন। সরকারি হিসাবে ৪২ টাকা ভাড়া হলেও তা নেওয়া হচ্ছে না। পথে শেওড়াপাড়া, কারওয়ান বাজার ও গুলিস্তানে ওয়েবিল সই করে বাস ছাড়ছেন চেকাররা।

জানতে চাইলে বিহঙ্গ পরিবহনের স্টাফ মানিক মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, বাসমালিকরা যে ভাড়া নিতে বলেন তারা সেটিই আদায় করছেন। একেক বাসমালিক একেক অংকের ভাড়া নিতে নির্দেশ দেওয়ায় বাসভেদে কম-বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

একই পরিস্থিতি শেকড়, পরিস্থানসহ অন্যান্য বাসেও। যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। অধিকাংশ বাসের মধ্যে টাঙাতে দেখা যায়নি সরকারি ভাড়ার চার্ট।

গুলিস্তানে একাধিক বাসযাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মিরপুর থেকে শেকড় পরিবহনে কোনো বাসে ৪৫ টাকা আবার কোনো বাসে ৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। বিহঙ্গ বাসের অবস্থাও একই রকম।

তবে বিকল্পসহ দুই-তিনটি পরিবহনে ওয়েবিল ও চেকার পদ্ধতি তুলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন বাসচালক মুজিব মিয়া। বিকল্প বাসের এ চালক বলেন, এখন আর আগের মতো চুক্তিভিত্তিক বাস চালাতে হচ্ছে না। সারাদিন যতটুকু আয় হয় ততটুকুই মালিককে নিয়ে জমা দিই। দিনে তিন ট্রিপ দিতে পারলে আমি ৮০০ আর হেলপার ৪০০ টাকা পাচ্ছেন।

অভিযোগ স্বীকার করে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, যেসব বাসমালিক ওয়েবিল-চেকার পদ্ধতি বাতিল করেছেন তারা আগের থেকে কম টাকা জমা পাচ্ছেন। সে কারণে অনেকেই এখনো ওয়েবিল-চেকার পদ্ধতি বহাল রেখেছেন। আমরা এটি নিয়ে কাজ করছি। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান আসবে।

তিনি আরও বলেন, একই কোম্পানির হলেও মালিক আলাদা হওয়ায় বাসভেদে ভিন্ন ভিন্ন অংকের ভাড়া আদায় করা হবে তা হতে পারে না। সরকারি নির্দেশনা মেনে বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধে আমরা দুই-তিন দিনের মধ্যে বাসমালিকদের নিয়ে বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধে তারা কী চান সেটি জানতে চাওয়া হবে।

‘তাদের কাছ থেকে সবকিছু শুনে একটি সমাধান বের করা হবে। এর আগে বাস কোম্পানির প্রধানদের সঙ্গে সভা করে ওয়েবিল-চেকার পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু তাতে কোনো লাভ না হওয়ায় এবার সব বাসমালিকের সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

এমএইচএম/এসএএইচ/বিএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।