বঙ্গবন্ধুকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন জিয়া: তাপস

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৫২ পিএম, ১৫ আগস্ট ২০২২

কর্নেল রশিদকে ‘ইউ গো অ্যাহেড’ আদেশের মাধ্যমে খুনি জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।

বঙ্গবন্ধুর ৪৭তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সোমবার (১৫ অগাস্ট) বিকেলে নগর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন ডিএসসিসি মেয়র। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।

মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‌‘খুনি কর্নেল রশিদ আর কর্নেল ফারুক-দুজনই ভায়রা ভাই। তারা তাদের স্বীকারোক্তিতে সংবাদমাধ্যমের কাছে সাক্ষাৎকারে বার বার উল্লেখ করেছেন— যে এ দুইজনের (জিয়াউর রহমান ও খন্দকার মোশতাক) সঙ্গে আমরা বারবার শলা-পরামর্শ করেছেন, দেখা করেছেন, কথা বলেছেন। মোশতাকের সঙ্গে কুমিল্লার বার্ডে সভা করেছেন। ৭৫ সালের মার্চ মাসে কর্নেল রশিদ খুনি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে গিয়ে বঙ্গবন্ধুকে খুন করার জন্য সম্মতি চেয়েছেন। উপ-সেনাপ্রধান (এর মতো) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে যদি সেনাবাহিনীর অধঃস্তন কর্মকর্তা গিয়ে বলে যে, আমরা রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো। আমরা ক্যু করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছি। উনি (জিয়া) জবাবে কি বলরছেন? উনি কি সেই অধঃস্তন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন? উনি কি সেই অধঃস্তন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মার্শাল ‘ল’ কোর্টে ব্যবস্থা নিয়েছেন? তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা নিয়েছেন? না, তিনি বলেছেন— ‘ইউ গো অ্যাহেড’, তোমরা এগিয়ে যাও। তোমরা এগিয়ে যাওয়া মানে— হ্যাঁ, তোমরা এগিয়ে গিয়ে রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করো। তোমরা এগিয়ে গিয়ে ক্যু করো। রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করো। একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যখন সেনাবাহিনীর অধঃস্তন কোনো কর্মকর্তাকে সম্মতি দেয়— সেটা হল আদেশ। নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছেন। খুনের নির্দেশনা দিয়েছেন জিয়াউর রহমান।’

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে জিয়াউর রহমান পুরোপুরি অবগত ছিলেন এবং মদদ দিয়েছেন, সহযোগিতা করেছেন উল্লেখ করে শেখ তাপস বলেন, ‘মার্চ মাস থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত তিনি এ পুরো তথ্য নিজে লুকিয়ে রেখেছেন এবং খুনিদের সবরকম সহযোগিতা করেছেন। সেনাবাহিনীর মহড়া করার জন্য, অস্ত্র গোলাবারুদ দেওয়ার জন্য সবরকম সহযোগিতা-সহায়তা করেছেন জিয়া।’

খুনিরা ১৫ অগাস্ট হত্যাকাণ্ডের পরে কোথায় গিয়েছিলেন প্রশ্ন রেখে মেয়র শেখ তাপস বলেন, ‘আবারও গিয়েছে খুনি মোস্তাকের কাছে। বঙ্গভবনে। তাকে নিয়ে রেডিওতে বার্তা দেওয়ার জন্য। আর গিয়েছে খুনি জিয়াউর রহমানের কাছে। যারা প্রথম এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেছিল, প্রতিহত করার চেষ্টা করেছিল— কর্নেল নুরুদ্দীনসহ শাফায়াত জামিলকে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ধরে জিয়াউর রহমানের কাছে নিয়ে গিয়েছিল। কেন জিয়াউর রহমানের কাছে যাবে তারা? কারণ, তারা তো জিয়াউর রহমানের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে সংশ্লিষ্ট এবং তাদের আস্থার জায়গা হলো খুনি জিয়াউর রহমান।’

অনুষ্ঠান শেষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্টের কালরাতে শাহাদতবরণকারী সবার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

আলোচনাসভা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির, ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মোর্শেদ হোসেন কামালসহ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এমএমএ/এমএএইচ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।