বাজারদরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ করে চা-শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:২৫ পিএম, ১৬ আগস্ট ২০২২
মজুরি বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলনরত চা-শ্রমিকরা

অবিলম্বে বাজারদরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ করে চা-শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনয়িন সংঘ। মঙ্গলবার (১৬ আগষ্ট) চা-শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে এমন দাবি জানায় সংগঠনটি।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যুক্তবিবৃতিতে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হাবিবুল্লাহ বাচ্চু ও সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলমের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়।

তারা বলেন, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতির বাজারে একজন চা-শ্রমিকের সর্বোচ্চ দৈনিক মজুরি মাত্র ১২০ টাকা। চা-শিল্পের ১৬৮ বছরের ইতিহাসে শ্রমিকদের মজুরি ১৬৮ টাকাও করা হয়নি। অথচ শ্রমিকদের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমে প্রতিবছরই দেশে রেকর্ড পরিমাণ চা উৎপাদিত হচ্ছে।

‘২০২১ সালেও দেশে ৯৬.৫০৬ মিলিয়ন কিলোগ্রাম চা-উৎপাদনের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়। স্বাভাবিক কারণে মালিকদের মুনাফা বাড়লেও দ্রব্যমূল্যের উধ্র্বগতির এ সময়ে একজন শ্রমিককে দৈনিক মাত্র ১২০ টাকা দেওয়া হচ্ছে।’

সংগঠনটির দুই নেতা চা বাগান মালিকপক্ষ শ্রমিকদের বাসস্থান, রেশন, চিকিৎসা ইত্যাদি সুবিধা মিলিয়ে দৈনিক প্রায় ৪০০ টাকা মজুরি দেওয়ার যে বক্তব্য দিয়েছেন তার সমালোচনা করেন।

তারা বলেন, চা-বাগান মালিকরা সরকারের ব্যাংক ঋণ, ভর্তুকি মূল্যে আটা-চাল, সার, কীটনাশক কেনারসহ আরও অনেক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে শ্রমিকদের যতটুকু দেন তার আর্থিক মূল্য কোনোভাবেই ২০০-২৫০ টাকার বেশি হবে না।

‘অধিকাংশ সময়ই রেশন হিসেবে শ্রমিকদের যে চাল ও আটা দেওয়া হয়, তা খাওয়ার উপযোগী থাকে না। দুই কক্ষের যে বাসস্থান দেওয়া হয়, সেখানে রান্নাঘর পর্যন্ত থাকে না। কম্পাউন্ডারের মাধ্যমে নামমাত্র যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়, তা খুবই অপ্রতুল। বিভিন্ন সূচকে চা-শ্রমিকদের স্বাস্থ্যগত করুণ চিত্রের মাধ্যমে তা ফুটে উঠে।’

তারা বলেন, নিম্নতম মজুরি বোর্ড ঘোষিত ৪২টি শিল্পখাত ও মজুরি কমিশন ঘোষিত রাষ্ট্রায়াত্ব শিল্পখাতের মজুরির সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, চা-শ্রমিকদের মজুরি সবচেয়ে কম। ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি হতে চা-শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি করা কথা, কিন্তু নির্ধারিত মেয়াদের প্রায় ২০ মাস অতিক্রান্ত হতে চললেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

বাচ্চু ও আশিকুল বলেন, দ্রব্যমূল্যের কষাঘাতে জর্জরিত চা-শ্রমিকরা যখন বাধ্য হয়ে কর্মবিরতি পালন করে বিক্ষোভ করছেন, তখন শ্রম অধিদপ্তর থেকে আইনের ভয় দেখিয়ে শ্রমিকদের আন্দোলন দমনের চেষ্টা করা হয়েছে।

‘অথচ গত ২০ মাসে কেন শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানো হলো না তা নিয়ে মালিকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়নি। এমনকি সরকারের নিম্নতম মজুরি বোর্ডও আগামী পাঁচবছরের জন্য চা-শ্রমিকদের মজুরি দৈনিক ১২০ টাকা নির্ধারণ করার প্রস্তাব পেশ করে। তখনই শ্রমিকরা সরকার আর বাগান মালিকদের একাত্মতা বুঝে যান।’

তারা বলেন, চা-শ্রমিক ইউনিয়নের ৩০০ টাকা মজুরির দাবিকে নেতারা বর্তমান বাজারদরের তুলনায় অনেক কম বলে মনে করেন। অথচ, মালিকপক্ষ দীর্ঘদিনেও এ ন্যূনতম মজুরি বাড়াতে রাজি হননি। এ থেকে মালিকদের অতিমাত্রায় শোষণমূলক প্রবৃত্তি প্রকাশ পায়।

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের দুই নেতা বলেন ‘বর্তমানে পাঁচ-সাতজনের একটি পরিবারের জন্য যেখানে ন্যূনতম ৬৭০-৭০০ টাকা দরকার হয়, সেখানে চা-শ্রমিক ইউনিয়ন দাবিই করেছে মাত্র ৩০০ টাকা। এমনকি ২০২০ সালেও তারা একই মজুরির দাবি জানিয়েছিল।

তারা বলেন, দৈনিক ৬৭০ টাকা মজুরিসহ চা-শিল্পে শ্রমআইনের লঙ্ঘন প্রতিরোধ, গণতান্ত্রিক শ্রমআইন প্রণয়ন ও শ্রমআইন মোতাবেক নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্ভিসবুক দেওয়াসহ অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন নিশ্চিত করতে হবে।

‘একই সঙ্গে আন্দোলনকারী শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ থেকে সব ধরনের আপোষকামিতা ও ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে। ন্যায্য মজুরির দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত দৃঢতার সঙ্গে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।

এফএইচ/এসএএইচ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।