শ্রমজীবীদের জন্য ভর্তুকি মূল্যে রেশনের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৩৬ পিএম, ১৬ আগস্ট ২০২২

নিত্যপণ্যের দাম কমানো, শ্রমজীবীদের জন্য ভর্তুকি মূল্যে রেশন এবং নিত্যপণ্যের বাজার মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) যৌথ বিবৃতিতে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) নেতারা এই দাবি জানান।

যৌথ বিবৃতিতে শ্রমিক নেতারা বলেন, ২০২০ সালে করোনা সংক্রমণের সময় থেকেই সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থান এবং আয় কমেছে। এর বিপরীতে খাদ্যপণ্যসহ জীবনযাপনের সব উপকরণের দাম বেড়েছে। ফলে শ্রমজীবী মানুষের জীবনমানের অবনতি হয়েছে।

তারা বলেন, গত ১৫ জুলাই জাতিসংঘের ৫টি সংস্থার গবেষণা প্রতিবেদনে বলেছে বাংলাদেশের ৭৩ শতাংশ মানুষ প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার কেনার সামর্থ্য রাখে না। ৩২ শতাংশ মানুষ খাদ্য অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছে। এই অবস্থায় শ্রমিক- কর্মচারীদের মজুরি বৃদ্ধির কোনো উদ্যোগ নেওয়া না হলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে অযৌক্তিক মাত্রায় পরিবহন ভাড়া বেড়েছে। এছাড়া জ্বালানি তেল ও ডলারের মূল্য এবং পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির অজুহাতে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট চাল, ডাল, তেল, সবজি, ডিমসহ প্রায় প্রতিটি নিত্যপণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিবৃতিতে শ্রমিক নেতারা আরও বলেন, শ্রমজীবী মানুষের ক্রয় ক্ষমতা করোনার আগের তুলনায় অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে। তাদের মধ্যে চূড়ান্ত খাদ্য অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে, যা এসডিজি বা মধ্যম আয়ের রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার ঘোষণার বিপরীত এবং অগ্রহণযোগ্য।

তারা বলেন, স্কপ নিত্যপণ্যের বাজারমূল্য বিবেচনায় ২০২০ সাল থেকে জাতীয় নিম্নতম মজুরি ২০ হাজার টাকা ঘোষণা করার দাবি জানিয়ে আসছে। অবিলম্বে জাতীয় নিম্নতম মজুরি ঘোষণা এবং মজুরি বোর্ড গঠন করে সব শ্রমিক-কর্মচারীদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের দাবি জানান তরা।

শ্রমিক নেতারা বলেন, ওএমএস বা টিসিবির ট্রাক সেল কার্যক্রম থেকে পণ্য সংগ্রহ করতে লাইনে দাঁড়িয়ে সময় পার হওয়ায় একজন শ্রমজীবী মানুষ অর্থ উপার্জনের কাজে যেতে পারেন না। উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওএমএস-এর সাশ্রয় কার্যত কোনো উপকার করে না। তাই ওএমএস বা টিসিবির ট্রাক সেলের পরিবর্তে শ্রমজীবীদের জন্য ভর্তুকি মূল্যে রেশন চালু করতে হবে।

চা শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে এবং তাদের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, ১২০ টাকা মজুরি বর্তমান বাজারমূল্যে একজন মানুষের পুষ্টিকর খাবারের প্রয়োজন পূরণ করতে পারে না। ফলে কাজ করেও শ্রমজীবী পরিবারের পুষ্টিকর খাবারের নিশ্চয়তা থাকবে না- এটা অমানবিক এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাছাড়া দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ভারসাম্য রক্ষা করতেও শ্রমিকের মজুরি উৎপাদিত পণ্যের মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত।

যৌথ বিবৃতিতে স্কপ যুগ্ম সমন্বয়ক চৌধুরী আশিকুল আলম ও আহসান হাবিব বুলবুল স্বাক্ষর করেন। এছাড়াও স্কপ নেতা শহিদুল্লাহ চৌধুরী, মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, আনোয়ার হোসেন, শাহ মোহাম্মদ জাফর, রাজেকুজ্জামান রতন, সাইফুজ্জামান বাদশা, আব্দুল কাদের হাওলাদার, কামরুল আহসান, হাবিবুল্লাহ, শামীম আরা, ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, নঈমুল আহসান জুয়েল, শাকিল আক্তার চৌধুরী, বাদল খান, আমিরুল হক আমিন, রিপন চৌধুরী, নুরুল আমিন প্রমুখ এই বিবৃতি দেন।

এসএম/কেএসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।