নামাজ পড়ার সময় প্রাইভেটকার হাওয়া, যেভাবে গ্রেফতার চোরচক্র

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৩৩ পিএম, ১৭ আগস্ট ২০২২

রাজধানীর উত্তরা থেকে একটি প্রাইভেটকার চুরি করে চোরচক্রের কয়েকজন সদস্য। গাড়িটি নিয়ে ঢাকার বাইরে পালানোর সময় পথে এক নারীকে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই ওই নারী মারা যান। এরপর চুরির গাড়ি রেখে পালিয়ে যায় চক্রের সদস্যরা। পরে তারা ধরা পরে পুলিশের হাতে। বেরিয়ে আসে গাড়ি চুরির রহস্য।

বুধবার (১৭ আগস্ট) উত্তরার এ গাড়ি চুরির রহস্য উদঘাটন নিয়ে এ ব্রিফিংয়ে কথা বলেন উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোর্শেদ আলম।

তিনি বলেন, গত ১২ আগস্ট উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরের ৮ নম্বর রোডের হোপ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সামনে একটি টয়োটা এক্স করোলা ব্র্যান্ডের গাড়ি রেখে চালক অপু পাশের মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে যান। নামাজ শেষে ফিরে এসে দেখেন গাড়িটি নেই। পরক্ষণেই তিনি ঘটনাটি পুলিশকে জানান। সে মোতাবেক তদন্তে নামে পুলিশ।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, দুপুর আনুমানিক ১টা ১০ মিনিট থেকে ২টার মধ্যে অজ্ঞাত কয়েকজন গাড়িটি চুরি করে। এরপর ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হয়। ফুটেজে কয়েকজনের চেহারা শনাক্ত করে মো. জিতু মিয়া (২৬) ও মো. শহীদ মিয়াকে (২৮) হবিগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতারের পর আসামিদের কাছ থেকে তিনটি প্লাইয়ার্স, ইস্ক্রু ড্রাইভার চারটি, ইঞ্জিনের রোকার দুটি, টেস্টার একটি, গাড়ির গ্যাসের সুইচ একটি, চোরাই করা ঢাকা মেট্রো-গ-১৯-৬২৭০ এর রেজি: কার্ড ও ফিটনেস সনদ ও গাড়ির মালিক তৌফিক হাসান কিবরিয়ার এনআইডি কার্ডের ফটোকপি, ঢাকা মেট্রো-গ-২৩-৪৪১৯ এর টেক্স টোকেন, ফিটনেস সনদ, মালিকানা প্রাপ্তি স্বীকার রশিদ ও ইন্সুরেন্সের কাগজপত্র, ঢাকা মেট্রো-গ-১২-৩৬৯১ গাড়ির ডিজিটাল নম্বর প্লেট জব্দ করা হয়।

নামাজ পড়ার সময় প্রাইভেটকার হাওয়া, যেভাবে গ্রেফতার চোরচক্র

গ্রেফতার চোরচক্রের দুই সদস্যকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ডিসি মোর্শেদ আলম বলেন, উত্তরা চার নম্বর সেক্টর মসজিদের পাশ থেকে গাড়িটি চুরি করে নিয়ে যাওয়ার পথেই শায়েস্তাগঞ্জে তাদের গাড়িচাপায় এক নারী মারা যান। পরে ওই ঘটনায় বাহুবল থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলার আলামত হিসেবে গাড়িটি বর্তমানে বাহুবল থানায় জব্দ রয়েছে।

তিনি বলেন, যেহেতু এটি একটি মামলার আলামত, সেহেতু আদালতের অনুমতি নিয়ে গাড়িটি নিয়ে আসতে হবে। এছাড়াও নারায়ণঞ্জ থেকে একটি গাড়ি চুরির চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ব্লু বুক ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেফতার চক্রটি কয়েক মিনিটের মধ্যে গাড়ি চুরি করে হাওয়া হয়ে যেতো। ওই গাড়িটি চুরি করে নিতে সময় লেগেছে তিন মিনিট। এই সংঘবদ্ধ চক্রটিতে চার সদস্য রয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

গাড়ি চুরির কৌশল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডিসি মোর্শেদ আলম বলেন, গ্রেফতার হওয়া চক্রের সদস্যরা কোনো ব্যক্তি গাড়ি রেখে গেলে তার পেছন পেছন এক সদস্য যান। তাকে অবজারভেশন করেন। অপরদিকে আরেকজন আশেপাশে রেকি করেন। সেইসঙ্গে অপর ব্যক্তি তাদের কৌশলে গাড়িটির তালা ভেঙে বা লক ছুটিয়ে নিয়ে চলে যান। কিছুদূর চলে যাওয়ার পর তারা সবাই একত্রিত হয়ে তাদের গন্তব্যে রওনা হন।

গ্রেফতার চোরচক্রের সদস্যরা পেশাদার গাড়ি চোর। তাদের মধ্যে মূলহোতা জিতু মিয়ার বিরুদ্ধে আটটি চুরির মামলা রয়েছে। অন্য আসামি শহীদ মিয়ার বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে বলেও জানানা উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোর্শেদ আলম।

টিটি/এমকেআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।