দেশ আমদানিনির্ভর করে পকেট ভরার পাঁয়তারা চলছে: সাকি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:১৫ পিএম, ১৭ আগস্ট ২০২২
জোনায়েদ সাকি/ফাইল ছবি

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেছেন, জ্বালানির যেই সংকটে আমরা আছি, এই সংকট আমাদের অনিবার্য ছিল না। এটা অনিবার্য করে তোলা হয়েছে। সংকট তৈরি করে এখন বলা হচ্ছে গ্যাস নাই, আমদানি করতে হবে। আমদানিনির্ভর হয়ে পকেট ভরার পাঁয়তারা করা হচ্ছে।

বুধবার (১৭ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট: নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

গোলটেবিল বৈঠকে জোনায়েদ সাকি বলেন, একটা সময় বলা হয়েছিল, গ্যাসে দেশ ভাসছে। গ্যাস রপ্তানি করা হবে। আমরা বলেছিলাম, রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না। দেশের সম্পদ দেশেই ব্যবহার হোক। আমরা আন্দোলন করে গ্যাস রপ্তানি ঠেকিয়ে দিতে পেরেছিলাম। এখন আবার বলা হচ্ছে আমাদের গ্যাস নাই এবং পাওয়ার সম্ভাবনাও খুবই কম।

তিনি বলেন, যদিও সরকার ২০১০ সালে নরওয়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে যেই সমীক্ষা করেছিল সেখানে শুধু স্থলভাগেই ৩৪ থেকে ৩৮টি গ্যাসক্ষেত্র পাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল। ২০১২ সালে সমুদ্র বিজয়ের পর সেখানেও গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল। এরপর বলা শুরু করলো যে গ্যাস পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এর পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো আমাদের পুরো ব্যবস্থাটাকে আমদানিনির্ভর করে তোলা। প্রথমটা (গ্যাস রপ্তানি) ঠেকিয়ে দিতে পারলেও পরেরটা (গ্যাস আমদানি) আমরা ঠেকাতে পারছি না।

সাকি বলেন, বর্তমান সরকার সবসময় আগের সরকারের দুর্নাম করে বলে বিদ্যুৎ খাতে কোনো উন্নয়ন করেনি, উৎপাদন করতে পারেনি, দেশকে অন্ধকারে ডুবিয়েছে। বিষয়টি অনেকাংশেই ঠিক, তারা (বিএনপি সরকার) দেশকে অন্ধকারে ডুবিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভালো বাণিজ্যক্ষেত্র তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বদরুল ইমাম, এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার ম্যাগাজিন সম্পাদক মোল্লাহ আমজাদ হোসেন প্রমুখ।

এমআইএস/কেএসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।