ওয়াসফিয়ার মুখে কে-টু পর্বতশৃঙ্গ জয়ের বর্ণনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:১৩ পিএম, ১৭ আগস্ট ২০২২

পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ও পাকিস্তানের সবচেয়ে উঁচু এবং দুর্গম পর্বতশৃঙ্গ কে-টু জয় করে দেশে ফিরেছেন পর্বতারোহী ওয়াসফিয়া নাজরীন। বুধবার (১৭ আগস্ট) নেপালের কাঠমান্ডু থেকে বিমান বাংলাদেশের একটি ফ্লাইটে দেশে ফেরেন ৩৯ বছর বয়সী এই নারী।

তিনিই প্রথম বাংলাদেশি, যিনি সাত মহাদেশের সাতটি সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ জয় করলেন। গত ২২ জুলাই কে-টু পর্বতশৃঙ্গে আরোহণ করেন ওয়াসফিয়া।

দেশে ফিরে রাজধানীর শেরাটন হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন ওয়াসফিয়া। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দুই মাসব্যাপী অভিযানের রোমাঞ্চকর যাত্রা নিয়ে কথা বলেন।

ওয়াসফিয়া বলেন, বাংলাদেশ যখন ৪০-এ পা দেয়, তখন আমি সেভেন সামিট জয় করার যাত্রা শুরু করি। দেশের ৫০ বছরে আমি চেয়েছিলাম কে-টু জয় করতে। এজন্য ১০ বছর ধরে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে কে-টু যাত্রার জন্য তৈরি করেছি। ডেথ-জোন (অক্সিজেনের ভয়াবহ স্বল্পতার কারণে যেসব পর্বত আরোহণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ) পর্বতসমূহ আরোহণ করতে অনেক মানুষের প্রয়োজন হয়। আর এই সাফল্যের জন্য আমার দলের প্রতি কৃতজ্ঞ আমি। আমার এই দলে যারা ছিলেন, তাদের বেশ কয়েকজনকে এ মুুহূর্তে বিশ্বের সেরা পর্বতারোহী হিসেবে মনে করা হয়।

jagonews24

তিনি বলেন, কে-টু সবচেয়ে দুর্গম পর্বত, যেখানে বেশ কয়েকবার পাথরে আঘাত পেয়েছি। আবার কিছু ক্ষেত্রে ভাগ্যও আমাদের সহায়তা করেছে। কে-টু স্থানীয়ভাবে ‘ছোগোরি’ বা পর্বতের রাজা হিসেবে পরিচিত, প্রতি পদক্ষেপে সেখানে মৃত্যুঝুঁকি রয়েছে। একবারে কে-টু জয় করে ফেরত আসতে পেরেছেন, এমন অল্প কিছু পর্বতারোহীর মধ্যে আমরা রয়েছি।

বিশ্বের অনেক পর্বতারোহী রয়েছেন যারা বছরের পর বছর ধরে চেষ্টা করেও কে-টু জয় করতে পারেননি জানিয়ে ওয়াসফিয়া বলেন, কারাকোরাম রেঞ্জে অবস্থিত কে-টু পর্বত ৮ হাজার ৬১১ মিটার উঁচু এবং পর্বতারোহীদের আরোহণের জন্য এভারেস্টের চেয়েও দুর্গম বলে সবার কাছে পরিচিত। বিপৎসংকুল পরিবেশ, প্রায় পিরামিডের মতো ঢাল এবং অনিশ্চিত আবহাওয়ার এই ‘স্যাভেজ মাউন্টেন’র চূঁড়ায় পা রাখতে পেরেছেন মাত্র ৪০০ পর্বতারোহী। তাদের অনেকেই আর নিচে নামার সুযোগ পাননি।

এমএমএ/এমএইচআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।