পটিয়ায় গুলি করে মাকে হত্যার অভিযোগে ছেলে গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৪:১০ পিএম, ১৮ আগস্ট ২০২২

চট্টগ্রামের পটিয়ায় জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রয়াত নেতার স্ত্রী খুনের ঘটনায় ছেলে মঈনুদ্দিন মো. মাইনুলকে (২৯) গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

বুধবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে সাড়ে ৫টার দিকে নগরীর নতুন ব্রিজ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সাতকানিয়া থানাধীন রসুলপুর এলাকার একটি গুদাম থেকে উদ্ধার করা হয় হত্যায় ব্যবহৃত পিস্তলটি। পিস্তলটি জাপানের তৈরি সেভেন পয়েন্ট ফাইভ বোরের। ছেলে মঈনুদ্দিনের বিরুদ্ধে আটটি মামলা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এম এ ইউসুফ।

এর আগে মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে পটিয়া পৌরসদরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সবজার পাড়ার নিজ বাড়িতে জেসমিন আক্তারকে (৫০) গুলি করে হত্যা করা হয়।

ঘটনার পর ছেলে মাইনুল পালিয়ে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১০ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করে। নিহত জেসমিন জাপার প্রয়াত নেতা শামসুল আলম মাস্টারের স্ত্রী।

jagonews24

পুলিশ বলছে, পিস্তলের গুলিতে জেসমিন আক্তার প্রাণ হারালেও উদ্ধার করা কার্তুজ পিস্তলের নয়। কার্তুজগুলো বৈধ কি না তাও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

এদিকে জেসমিন হত্যার ঘটনায় ওইদিন রাতেই শায়লা শারমিন নিপা বাদী হয়ে পটিয়া থানায় মামলা করেন। শায়লা শারমিন আবার আসামি মাইনুলের বোন।

এর আগে শামসুল আলম মাস্টার ১৩ জুলাই অসুস্থতাজনিত কারণে মারা যান। তিনি জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ১৯৯০ সালের পর দুই মেয়াদে পটিয়া পৌরসভার চেয়ারম্যান ও মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শামসুল আলম মারা যাওয়ার পর তার রেখে যাওয়া নগদ টাকা ও ব্যাংক-ব্যালেন্স নিয়ে মা জেসমিন আক্তারের সঙ্গে ছেলে মাইনুলের মনোমালিন্য চলে আসছিল। শামসুল মাস্টারের দুই ছেলেমেয়ে অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন। বাবা মারা যাওয়ার পর মেয়ে শায়লা দেশে আসেন। বাবার ৪০ দিন জেয়াফত দেওয়ার পর তার অস্ট্রেলিয়ায় চলে যাওয়ার কথা ছিল। সঙ্গে মাকেও নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন।

নিকটাত্মীয়রা জানান, ব্যাংক বাবার রেখে যাওয়া ব্যালেন্সের নমিনি পরিবর্তনের জন্য মাকে চাপ দিয়ে আসছিলেন মাইনুল। মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় জনতা ব্যাংক এবং ব্রাক ব্যাংকে গিয়েছিলেন তিনি। ব্যাংক থেকে ঘরে ফিরে মায়ের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর‍্যায়ে মাকে অস্ত্র দিয়ে গুলি করেন মাইনুল। পরে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় জেনারেল প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।

র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এম এ ইউসুফ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ঘটনার পর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় র‍্যাব। এরপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নতুন ব্রিজ এলাকা থেকে মাইনুলকে গ্রেফতার করা হয়। তার স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে সাতকানিয়ার রসুলপুর এলাকার একটি গুদামঘর থেকে উদ্ধার করা হয় পিস্তলটি।

তাকে বৃহস্পতিবার দুপুরে পটিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।  

ইকবাল হোসেন/জেডএইচ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।