‘তালপাকা গরমে’ হাঁসফাঁস

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৪১ পিএম, ১৮ আগস্ট ২০২২
গরমে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন-আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ/ছবি: মাহবুব আলম

সারাদেশে বৃষ্টি একেবারেই কমে গেছে। ঢাকায়ও বৃষ্টির দেখা নেই। তার ওপর সূর্যের প্রখর তাপ। ভাদ্র মাসের এই ‘তালপাকা গরমে’ রাজধানীবাসীর যেন হাঁসফাঁস অবস্থা। গরমে বুধবার রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারেননি অনেকে। বৃহস্পতিবারও একই অবস্থা। প্রচণ্ড গরমে কষ্ট পাচ্ছেন নগরবাসী।

বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) ভাদ্র মাসের ৩ তারিখ। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় রাস্তায় গাড়ির চাপ কম। সরেজমিনে রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নয়াপল্টন, উত্তরা, বাড্ডা, রামপুরা ও জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতিও কম।

jagonews24

এদিন প্রয়োজনের তাগিদে যারা বের হয়েছেন তারাও ছায়াযুক্ত স্থান খুঁজে চলাফেরা করছেন। রাস্তায় অনেকে হাতে থাকা ফাইল কিংবা ব্যাগ দিয়ে মাথায় ঢেকে রোদের সরাসরি তাপ থেকে পরিত্রাণ চাইছেন। প্রয়োজনের তাগিদে যারাই বের হয়েছেন তীব্র গরমে অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে তাদের। এছাড়া এই গরমে বাসায় অবস্থান
করেও লোডশেডিংয়ের কারণে নাভিশ্বাস অবস্থা নগরবাসীর।

রাজধানীর বাড্ডায় বাসের মধ্যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী সোহানের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, বাসের মধ্যে বসে মনে হচ্ছিল কোনো চুল্লির মধ্যে বসে আছি। একপাশে আবার রোদ ছিল। আমার অবস্থা এতই খারাপ ছিল যে তা দেখে অন্য পাশের একজন ভদ্রলোক সামনের সিট খালি হতে বললেন, তুমি সামনে গিয়ে বসো।

এই এলাকায় ফুটপাত দিয়ে হেঁটে বাসায় যাচ্ছিলেন আহসান নামে এক ব্যক্তি। গরমে ভিজে গেছে তার পুরো শরীর। তিনি বলেন, যে গরম, মনে হচ্ছে মরেই যাবো।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মিছিল নিয়ে এসেছেন গার্মেন্টস শ্রমিকদের একটি দল। এই গরমে নিজেদের দাবিদাওয়া জানাতে এসে তারাও হাঁসফাঁস করছেন। অনেকেই হকারদের কাছ থেকে ঠান্ডা পানি কিনে পান করছিলেন। একজন শ্রমিক বলেন, এই গরমে মিছিল করাও অনেক কষ্টের। মনে হচ্ছে মরুভূমিতে হাঁটছি।

গরমে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন-আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। প্রেস ক্লাব এলাকায় ঘামে ভেজা শরীরে গাছের ছায়ায় জিরিয়ে নিচ্ছিলেন এক রিকশাচালক। এই গরমে কষ্টের কথা জানান তিনিও। বলেন, আজ টানতে (রিকশা চালাতে) খুব কষ্ট হইছে। অল্পতেই অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে।

গরমে বাইরে বের হওয়া নগরবাসীর অনেককে ফুটপাতের দোকান থেকে শরবত পান করে তৃষ্ণা মেটাতে দেখা যায়। অনেকে আবার তৃষ্ণা মেটান আখের রস পান করে।

এদিকে ছুটির দিন হলেও খোলা রয়েছে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শপিংমল। এই গরমে এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শপিংমলে যারা এসেছেন তাদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। তীব্র গরমে বিরক্তি প্রকাশ করেন তারা।

jagonews24

তবে গরমে দেশবাসীকে ভোগান্তি পোহাতে হলেও সুখবর দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বৃষ্টি বেড়ে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এরই মধ্যে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ বৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে ঝোড়ো হওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। লঘুচাপটি আরও শক্তিশালী হতে পারে। এর প্রভাবে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বৃষ্টি বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

এদিন ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

এএএম/ইএ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।