রাজধানীতে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৫০ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২
বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবসে র‌্যালি

সড়কে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ১ শতাংশ জায়গা নিয়ে যাত্রী পরিবহন করে ২.২০ জন। অন্যদিকে একটি বাস ২ শতাংশ জায়গা নিয়ে ৪৪.২০ জন যাত্রী বহন করে। অর্থাৎ ব্যক্তিগত গাড়িগুলো সড়কে অধিক জায়গা দখল করে কম সংখ্যক যাত্রী পরিবহন করে ও যানজট সৃষ্টি করে।

বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস-২০২২ পালন উপলক্ষে আয়োজিত ‘জ্বালানি ব্যবহার ও যানজট নিয়ন্ত্রণ করি, ব্যক্তিগত গাড়ি সীমিত রাখি’ শীর্ষক সচেতনতামূলক র‌্যালিতে বক্তারা এসব তথ্য তুলে ধরেন।

তারা বলেন, ঢাকা শহরে নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও প্রায় ৯০ শতাংশ যাতায়াত হয় গণপরিবহনে। দূষণ, যানজট, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব, জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এর পাশাপাশি হাঁটা, সাইকেল ও গণপরিবহন ব্যবস্থাকে প্রাধান্য দিয়ে একটি সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

বক্তারা আরও বলেন, গাড়ি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে প্রথম ধারণা আসে নগরবিদ ইয়ান জ্যাকবস ‘দি ডেথ অ্যান্ড লাইফ অব গ্রেট আমেরিকান সিটিজ’ বই থেকে। এরপর ১৯৬২ সাল থেকে ডেনমার্কের কোপেনহেগেন শহরে সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে শুধু পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

সত্তর দশকে জ্বালানি সংকট চলাকালে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি ব্যাপকতা লাভ করে। বর্তমানে পৃথিবীর চার হাজারের অধিক শহরে বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস পালন করা হয়।

এসময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শেখ মোহাম্মদ হোসেন খোকন বলেন, সংশোধিত পরিবহন কৌশল পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকা শহরের প্রায় ৭৬ শতাংশ ট্রিপ দুই কিলোমিটারের মধ্যে সংঘটিত হয়।

হেঁটে যাতায়াতের আনন্দদায়ক, নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করা গেলে অনেকেই হাঁটতে উৎসাহিত হবেন ও দৈনন্দিন অনেক কাজে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার থেকে বিরত থাকবেন।

রাজধানীতে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণের দাবি

পরিবেশ দূষণ, যানজট, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব এবং জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে শহরে হাঁটার পরিবেশ সৃষ্টি করা খুবই জরুরি। বাংলাদেশে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সংকট উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং এই সংকট আরও বাড়বে।

নগরে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি হেঁটে ও সাইকেলে যাতায়াতের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন সম্ভব।

বক্তারা আরও বলেন, ২০০৬ সাল থেকে ঢাকায় বেসরকারি উদ্যোগে বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস পালিত হয়ে আসছে। ২০১৬ সাল থেকে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সম্মিলিত উদ্যোগে দিবসটি পালন করা হয়।

২০১৬ থেকে দিবসটি পালিত হলেও, এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এমতাবস্থায় দিবসটিকে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করা দরকার। তাছাড়া কিছু সড়কে সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ করে পথচারী চলাচল ও সামাজিকীকরণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

আরএসএম/এসএএইচ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।