ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:২৭ এএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২
ছবি: সংগৃহীত

রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করে হাঁটা, সাইকেল ও গণপরিবহনকে প্রাধান্য দিয়ে একটি সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে রাজধানীর বেশ কয়েকটি স্কুলের শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) ‘বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস’ উপলক্ষে ‘জ্বালানি ব্যবহার ও যানজট নিয়ন্ত্রণ করি, ব্যক্তিগত গাড়ি সীমিত রাখি’ শীর্ষক সচেতনতামূলক র‌্যালিতে শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানায়।

রায়ের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুল, ধানমন্ডি কচিকণ্ঠ হাই স্কুল, আলী হোসেন বালিকা বিদ্যালয়, ছায়াতল বাংলাদেশ, ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবিইং বাংলাদেশ, কারফ্রি সিটিস এলায়েন্স বাংলাদেশ এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট সম্মিলিতভাবে এ র‍্যালির আয়োজন করে। র‍্যালিটি ধানমন্ডি ২৭ মোড় থেকে শুরু হয়ে আবাহনী খেলার মাঠে শেষ হয়।

এ সময় বক্তারা বলেন, সড়কে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ১ শতাংশ জায়গা নিয়ে যাত্রী পরিবহন করে ২ দশমিক ২০ জন। অন্যদিকে বাস ২ শতাংশ জায়গা নিয়ে যাত্রী বহন করে ৪৪ দশমিক ২০ জন। অর্থাৎ ব্যক্তিগত গাড়ি রাস্তায় বেশি জায়গা দখল করে কম সংখ্যক যাত্রী পরিবহন করে এবং যানজট সৃষ্টি করে।

ঢাকা শহরে নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও গণপরিবহনে প্রায় ৯০ শতাংশ যাতায়াত হয়ে থাকে। দূষণ, যানজট, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব, জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করে হাঁটা, সাইকেল ও গণপরিবহন ব্যবস্থাকে প্রাধান্য দিয়ে একটি সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারীর সভাপতিত্বে ও সংস্থার সিনিয়র প্রজেক্ট ম্যানেজার জিয়াউর রহমানের সঞ্চালনায় র‌্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শেখ মোহাম্মদ হোসেন খোকন।

শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন হেলথব্রীজ ফাউন্ডেশন অব কানাডার আঞ্চলিক পরিচালক দেবরা ইফরইমসন। অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন এইচ এম নুরুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক, ধানমন্ডি কচিকণ্ঠ হাই স্কুল, এম এ মান্নান মনির, প্রধান শিক্ষক, ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুল, তাহাজ্জোত হোসেন, সহকারী শিক্ষক, রায়ের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়, আমিনুল ইসলাম টুব্বুস, সভাপতি, সাইকেল লেন বাস্তবায়ন পরিষদ, মাহবুবুল হক, নির্বাহী পরিচালক ও সিইও, মানবাধিকার উন্নয়ন কেন্দ্র।

jagonews24

কাউন্সিলর খোকন বলেন, সংশোধিত পরিবহন কৌশল পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকা শহরের প্রায় ৭৬ শতাংশ ট্রিপ দুই কিলোমিটারের মধ্যে হয়। হেঁটে যাতায়াতের আনন্দদায়ক ও নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করা গেলে অনেকেই হাঁটতে উৎসাহিত হবেন এবং দৈনন্দিন অনেক কাজে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার থেকে বিরত থাকবেন।

‘পরিবেশ দূষণ, যানজট, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব এবং জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে শহরে হাঁটার পরিবেশ সৃষ্টি করা খুবই জরুরি। বাংলাদেশে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সংকট উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং এই সংকট আরও বাড়বে। নগরীতে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং হেঁটে ও সাইকেলে যাতায়াতের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন সম্ভব।’

অন্যান্য বক্তারা বলেন, নগরবিদ ইয়ান জ্যাকবস ‘দি ডেথ অ্যান্ড লাইফ অব গ্রেট আমেরিকান সিটিস’ বইতে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে প্রথম ধারণা দিয়েছেন। এরপর ১৯৬২ সাল থেকে ডেনমার্কের কোপেনহেগেন শহরে সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে শুধুমাত্র পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। সত্তরের দশকের জ্বালানি সংকটের সময় ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি ব্যাপকতা লাভ করে। বর্তমানে পৃথিবীর ৪ হাজারেরও বেশি শহরে ‘বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস’ পালিত হয়।

২০০৬ সাল থেকে ঢাকায় বেসরকারি উদ্যোগে ‘বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস’ পালিত হয়ে আসছে। ২০১৬ সাল থেকে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সম্মিলিত উদ্যোগে দিবসটি পালিত হয়।

২০১৬ থেকে দিবসটি পালিত হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এমতাবস্থায় দিবসটিকে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করা এবং কিছু সড়কে সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ করে পথচারী চলাচল ও সামাজিকীকরণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

এছাড়াও র‍্যালিতে ভলান্টিয়ার, ছায়াতল বাংলাদেশ, ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবিইং বাংলাদেশ, কারফ্রি সিটিস এলায়েন্স বাংলাদেশ ও ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের কর্মকর্তা। র‌্যালিতে পাঁচটি স্কুলের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

এমআইএস/এমআরএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।