হরিজন সম্প্রদায়ের চাকরি স্থায়ীকরণ ও বেতন বৃদ্ধির দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:২০ পিএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

সিটি করপোরেশন বা পৌরসভায় কর্মরত হরিজন সম্প্রদায়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের চাকরি স্থায়ীকরণ ও বেতন বৃদ্ধিসহ ৭ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ।

শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা বলেন, ‘হরিজন সম্প্রদায় সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার প্রথম কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও আমাদের চাকরি আজও অস্থায়ী। তাই পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের চাকরি স্থায়ীকরণ করতে হবে এবং সব ক্ষেত্রে আউটসোর্সিং বা ঠিকাদার কর্তৃক নিয়োগ, অনিয়ম ও বাণিজ্য বন্ধ করে সরকারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ঝাড়ুদার, ক্লিনার, সুইপার (পরিচ্ছন্নতাকর্মী) পদে ৮০ শতাংশ কোটা বাস্তবায়ন করতে হবে এবং ২০তম গ্রেডের পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদের পদন্নতি দিতে হবে।’

তারা আরও বলেন, আমাদের বেতন কাঠামো এক হাজার দুইশ টাকা হতে ছয় হাজার টাকা, যা একটি পরিবার কোনো ভাবেই চলতে পারে না। বর্তমান বাজার মূল্যবৃদ্ধি বিবেচনা করে একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পৌরসভাতে সর্বনিম্ন বেতন ১৫ হাজার এবং সিটি করপোরেশনে সর্বনিম্ন ২২ হাজার টাকা দিতে হবে। মূল বেতনের সমপরিমাণ দুটি উৎসব ভাতা দিতে হবে। হরিজনদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য স্বাস্থ্য বিমা চালু করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে বসবাসরত এক বিশাল জনগোষ্ঠী হরিজন। তারা পেশাগত কারণে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে বহুমুখী ঘৃণিত, বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার। অথচ তারা আমাদের সেবা দিয়ে আসছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি এই পরিচ্ছন্নকর্মীদের ন্যায্য দাবির প্রতি সমর্থন করছি, আমরা তাদের প্রতি চিরতরে ঘৃণা-বৈষম্য থেকে মুক্তির জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

হরিজন ঐক্য পরিষদের অন্য দাবিগুলো হলো- সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হরিজনদের জন্য ভর্তি কোটা সংরক্ষণ করতে হবে। সরকারি চাকরিতে অনগ্রসর জনগোষ্ঠী হিসেবে নিয়োগে কোটা দিতে হবে। হরিজনদের খাসজমি বন্দোবস্ত দিয়ে নিজস্ব আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। বৈষম্য বন্ধে সংসদে ‘বৈষম্য নিরোধ আইন’ পাশ করাসহ ‘হরিজন কল্যাণ ট্রাস্ট’ গঠন করতে হবে। সব স্থানীয় সরকারসহ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে হরিজনদের জন্য আসন সংরক্ষণ করতে হবে। ফুটবল, ক্রিকেট ও অলিম্পিক গেইমে যোগ্যতানুযায়ী অংশগ্রহণে সুযোগ সৃষ্টিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করাতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি কৃষ্ণলাল, মহাসচিব নির্মণ চন্দ্র দাস প্রমুখ।

এমআইএস/জেএইচ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।