উত্তরের মেয়র-ওয়াসার এমডির বিচার চান নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০৬ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

ঢাকার চারপাশের নদ-নদী দূষণের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র ও ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) শাস্তি চান জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী।

রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, প্রতিদিন ঢাকা শহরের মানুষ ৫০ লাখ কেজি মল এবং ১৫০ কোটি লিটার মূত্র উৎপাদন করে। ঢাকা ওয়াসার দায়িত্ব ছিল এগুলো শোধন করা। কিন্তু এগুলো পানি নিষ্কাশন নালার মাধ্যমে নদ-নদীতে গিয়ে পড়ে।

পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ঢাকা ওয়াসার এই ব্যর্থতার কারণে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে চান তিনি।

অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীন এলাকায় খাল পরিদর্শনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, খালের ময়লা-আবর্জনা যাতে নদীতে গিয়ে না পড়ে সেজন্য খালের মুখে নেট দিতে বলা হয়েছিল। উত্তর সিটি করপোরেশন এখনো সে কাজ করেনি।

এজন্য করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধেও তিনি একই ধরনের শাস্তির কথা বলেন।

নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ওয়াসার এমডি, উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রকে মোবাইল কোর্টের সম্মুখীন করবো আমরা। চাইবো যেন তাদের ছয় মাসের জেল, চার লাখ টাকা জরিমানা হয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অধীন এলাকার খালগুলোর অবস্থাও এখন ভালো নয়। কিন্তু অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি কমিশনের চেয়ারম্যান। তিনি বরং দক্ষিণের মেয়রকে ধন্যবাদ দিয়েছেন।

ধন্যবাদ দেওয়ার কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, খালের দূষিত পানি যাতে নদীতে গিয়ে না পড়ে সেজন্য দক্ষিণ সিটির মেয়র খালের মুখে বর্জ্য শোধনাগার করার পরিকল্পনা নিয়েছেন।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনা ১৯৯৯ সালে সড়ক, রেল, নৌপথ নিয়ে মহাপরিকল্পনা করে প্রকল্প হাতে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তখন নানা কারণে সেটা হয়ে ওঠেনি। এবার ক্ষমতার এসে নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে জয়ী হয়েছেন। এবার ঢাকার চারপাশের নদী নিয়ে যে চ্যালেঞ্জ সেটাতেও জয়ী হবেন শেখ হাসিনা।

ঢাকার চারপাশের নদ-নদী রক্ষায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় যথাযথ চেষ্টা করছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকার চারপাশের নদ-নদী অবৈধ দখলের মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি দখলমুক্ত করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ কাজটি ভালোভাবে করেছে।

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমানের পরিচালনায় অধ্যাপক আইনুন নিশাত, জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি গোয়েন লুইস প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এমআইএস/এমএইচআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।