জেলেদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতসহ দাদন প্রথা বন্ধের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৫৯ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

সামুদ্রিক খাদ্য-সেক্টরের বৈশ্বিক ভ্যালু চেইনে ন্যায্যমূল্য ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করাসহ মৎস্যখাতে দাসত্বের দাদন প্রথা বন্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘসহ কয়েকটি সংগঠন।

বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর ) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জেলে ও সামুদ্রিক খাদ্য সেক্টরের শ্রমিকদের অবস্থা বিষয়ক আঞ্চলিক গবেষণা প্রতিবেদন অবমুক্তকরণ এবং সংলাপে তারা এ দাবি জানান।

দক্ষিণ এশিয়া অ্যালায়েন্স ফর পোভার্টি এরাডিকেশন ও বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপি এস), টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কারস ফেডারেশন, ইনসিডিন দেশ নং সাউথ এশিয়ান অ্যালান ফর প্রভাটি ইরাডিকেশনের (স্যাপি) যৌথ উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।

রেশমা সায়কা আঞ্চলিক পর্যায়ের গবেষণা তথ্য উপস্থাপন করে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে মুনাফাতাড়িত রপ্তানিনির্ভর সামুদ্রিক খাদ্যের ভ্যালু চেইনে মানবাধিকার লঙ্ঘন, বৈষম্য, বিশেষভাবে জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্য রয়েছে। বৈশ্বিক ভ্যালু চেইনে ক্রিয়াশীল অ্যাক্টরদের ক্ষমতার অসম-বিন্যাসের কারণে এমন এক সিস্টেমের তৈরি হয়, যা মানুষের দুর্দশাকে আরও পাকাপোক্ত করে। সামুদ্রিক খাদ্যের ভ্যালু-চেইনে রপ্তানিকারক ও প্রক্রিয়াজাতকরণে নিয়োজিতরা অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাশালী।

গবেষক মো. শহীদুল্লাহ বলেন, অধিকাংশ মৎস্যজীবী জেলে দরিদ্র। তাদের নিজেদের নৌকা বা জাল নেই, কাজ করেন দৈনিক মজুর হিসাবে। তারা সবসময় নৌকার মালিক বা মহাজনের কাছ থেকে আগাম-খাল বা দাদন নিয়ে থাকেন। নৌকার মালিকের সঙ্গে জেলেদের কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তিপত্র থাকে না, তারা আগাম পণ বা দাদনের বিনিময়ে শ্রম বিক্রি করেন। দাদনের কারণে জেলেরা মহাজন বা নৌকার মালিকের কাছে বাঁধা থাকে।

অ্যাডভোকেট মলয় ভৌমিক বলেন, সামুদ্রিক মৎস্য শিকারি ট্রেলার ইন্ডাস্ট্রি আনুষ্ঠানিক খাত হলেও কর্মপরিবেশ অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ। এক্ষেত্রে নিয়োজিত অধিকাংশ শ্রমিক অস্থায়ী, যাদের চাকরির নিরাপত্তা নেই। শ্রমিকদের নেই নিয়োগপত্র, সার্ভিসবুক ও পরিচয়পত্র। তাদের রয়েছে শুধু সাম্প্রতিক সময়ে চালু করা মৎস্য অধিদপ্তর থেকে ইস্যু করা অনুমোদন কার্ড। এ খাতের শ্রমিকরা সরকার ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি থেকেও বঞ্চিত। মাছ ধরার মৌসুমের বাইরের সময়ে শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত করা হয়।

মৎস্য অধিদপ্তরের প্রজেক্ট এক্সপার্ট ড. আলী আজহার বলেন, মৎস্য অধিদপ্তরের নিবন্ধিত জেলেদের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত সরকারের নীতি অনুযায়ী মাছ ধরার সময় কোনো জেলে নিখোঁজ হলে বা মারা গেলে তার পরিবার সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ পাবেন। এছাড়া স্থায়ীভাবে পঙ্গু ব্যক্তিদের জন্য সর্বোচ্চ এককালীন আর্থিক সহায়তা হিসাবে ২৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রয়েছে।

শ্রমিক নেতা আবুল হোসেন বলেন, মৎস্যজীবী শ্রমিকদের জীবিকা ক্রমশ ভ্যালু চেইনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। যেখানে ভ্যালু চেইনকে শুধু অর্থনৈতিক লাভের হিসাবে না দেখে অন্যান্য মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে বড় পরিসরে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সামুদ্রিক খাদ্যের ভ্যালু-চেইনে অধিকতর সমতা ও ন্যায্যতা সৃষ্টির লক্ষে ব্যবসায়িক নীতিমালার সঙ্গে ভ্যালু চেইনের নিচে যারা আটকে আছে, বিশেষ করে ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী এবং শ্রমিক, তাদের সামাজিক আকাঙ্ক্ষাকে সমন্বয় করা দরকার।

সভায় বক্তারা বলেন, সামুদ্রিক মৎস্যখাতের অন্যায্য ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করার জন্য সরকারকে যথাযথ আইন প্রণয়ন ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে ও শ্রমিকদের ওপর অনাচার-শোষণ হয়। ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী, চিংড়িচাষিদের জন্য লাভজনক ন্যূনতম মূল্য ঘোষণা করতে হবে এবং মূল্য-সহায়তা প্রদান করতে হবে, যাতে ক্রমবর্ধমান উৎপাদন খরচ উঠে আসার নিশ্চয়তা থাকে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কারস ফেডারেশনের সভাপতি আবুল হোসেন। আঞ্চলিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন স্যাপি সচিবালয় নেপাল থেকে আসা অ্যাডভোকেসি ও মনিটরিং অফিসার মায়া ও গবেষক মো. শহিদুল্লাহ। প্যানেল আলোচক হিসেবে ছিলেন, অ্যাডভোকেট মলয় ভৌমিক, ড. সৈয়দ আলী আজহার, এ কে এম. মুশতাক আলী, রাজেকুজ্জামান রতন, এছাড়া অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এমআইএস/জেএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।