প্রত্নতত্ত্ববিদ আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়ার জন্মদিন শনিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৩৭ পিএম, ০১ অক্টোবর ২০২২

প্রত্নতত্ত্ববিদ, অনুবাদক, নৃ-বিজ্ঞানী, পুঁথিবিশারদ, ক্রীড়া সংগঠক ও বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়ার ১০৫তম জন্মদিন শনিবার (১ অক্টোবর)। আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন আয়োজনে তাকে স্মরণ করা হচ্ছে।

মাঠ পর্যায়ে গবেষণা, অনুসন্ধান, সংগ্রহ, সম্পাদনা এবং অনুবাদের মধ্য দিয়ে বহুভাষাবিদ আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া প্রাচীন বাংলার প্রত্নতত্ত্ব, নৃতত্ত্ব ও ইতিহাসের পাশাপাশি মধ্যযুগের বাংলার জনসংস্কৃতি ও ধর্মসাধনা এবং সাহিত্য ও শিল্পকলাচর্চার বিষয়ে বহু আকর গ্রন্থ রচনা করেছেন। একইসঙ্গে তিনি প্রত্নতত্ত্ব সংরক্ষণে জাদুঘর প্রতিষ্ঠা এবং বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য ও প্রত্নস্থল রক্ষায় সংগঠকের দায়িত্ব পালন করে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। তার জীবন ও কর্ম দেশকে জানার এবং দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি চর্চায় অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলে মনে করেন গবেষকরা।

আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া ১৯১৮ সালের ১ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিকান্দি গ্রামের এক অভিজাত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

রূপসদী বৃন্দাবন উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃতিত্বপূর্ণ শিক্ষাজীবন শেষে বগুড়া আজিজুল হক কলেজে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৪৭ সালে তিনি ব্রিটিশ সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দেশের নানা প্রান্তে প্রত্নসম্পদের অনুসন্ধান এবং সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর তিনি দেশের প্রথম শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৬ সালে তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়।

বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি, বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদের সভাপতি, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া দেশের তৃতীয় বৃহত্তম জাদুঘর দিনাজপুর মিউজিয়ামের প্রতিষ্ঠাতা।

তার অধিকাংশ গ্রন্থই অপ্রকাশিত। তার প্রকাশিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে বাঙলাদেশের প্রত্নসম্পদ, বাংলা সাহিত্যে গাযী কালু ও চম্পাবতী উপাখ্যান, গুপিচন্দ্রের সন্ন্যাস, কুমিল্লা জেলার ইতিহাস, তবাকাত-ই-নাসিরী, সিয়ার-উল-মুতাখ্খিরিন, বাংলাদেশের নৃতাত্ত্বিক পরিচিতি উল্লেখযোগ্য।

আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া বাংলাদেশে প্রত্নতত্ত্ব চর্চার পথিকৃৎ ব্যক্তিত্ব। সুলতানি, মুঘল ও নবাবি আমলের বাংলাকে নিয়ে লেখা ইতিহাস গ্রন্থসমূহের ভাষা মূলত ফার্সি। ফার্সি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় সর্বাধিক ইতিহাস গ্রন্থ অনুবাদ করেছেন তিনি। গবেষণা করেছেন বাংলার নৃতত্ত্ব নিয়ে, বাংলার ধর্ম নিয়ে।

ঢাকার স্থাপত্য বিষয়ক গ্রন্থ প্রণয়ন কমিটির প্রকাশিতব্য এশীয় ভাষার শিলালিপি বিষয়ক গ্রন্থসমূহের সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ছিলেন আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া। ঢাকার স্থাপত্য বিষয়ক গ্রন্থ প্রণয়ন কমিটি ঢাকার প্রাচীন ইতিহাস বিশেষত শিলালিপি নিয়ে গ্রন্থ প্রণয়নের কাজ করছে। তিনি বিগত ২০০৯ সাল থেকে আমৃত্যু শিলালিপির পাঠোদ্ধার, অনুবাদ ও গবেষণা কাজ তত্ত্বাবধান করেছেন।

আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া একুশে পদক. বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। ২০১৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিকান্দি গ্রামে সমাহিত করা হয়।

এইচএ/জেএইচ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।