ড্যাপ বাস্তবায়নের ক্ষমতা রাজউকের নেই: স্থপতি মোবাশ্বের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:২৫ পিএম, ০১ অক্টোবর ২০২২
স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন/ফাইল ছবি

ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) বাস্তবায়নের ক্ষমতা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নেই বলে দাবি করেছেন ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্ট বাংলাদেশের (আইএবি) সাবেক প্রেসিডেন্ট ও স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন।

তিনি বলেন, ‘এটি বাস্তবায়ন করতে হলে একটি নগর সরকার দরকার।’

শনিবার (১ অক্টোবর) ‘ড্যাপ বিতর্ক’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। বনানীর ঢাকা গ্যালারিতে এডিটরস গিল্ড বাংলাদেশ এ গোলটেবিলের আয়োজন করে।

এডিটরস গিল্ডের সভাপতি মোজাম্মেল বাবুর সঞ্চালনায় বৈঠকে অংশ নেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম।

jagonews24

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তৃতা করেন স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন/ছবি: সংগৃহীত

আলোচক হিসেবে ছিলেন রাজউকের নগর পরিকল্পনাবিদ ও ড্যাপ প্রকল্পের পরিচালক মো. আশরাফুল ইসলাম, স্থপতি গোলাম নাসির, নগরবিদ আদিলুর রহমান খান, স্থপতি ইকবাল হাবিব, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী রিজওয়ানা হাসান ও আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের সহ-সভাপতি সোহেল রানা।

মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ‘বিল্ডিংয়ের উচ্চতা বা অ্যাপার্টমেন্ট কমাতে পারলে জনঘনত্ব কমবে, আসলে কি এটা সত্যি? পৃথিবীর কোথাও এমন ঘটনা নেই। ড্যাপেই বলা হয়েছে, প্রতি বছর পাঁচ লাখ লোক ঢাকায় ঢুকছে। এ ঢোকা যদি বন্ধ করতে না পারি... ঢাকায় মানুষ কেন আসে? একজন ভিক্ষুকও এখানে ভালো আয় করতে পারেন, যেটা আর কোথাও পারেন না। তার তো এখানে আসা ছাড়া বিকল্প নেই।’

তিনি বলেন, ‘বাসস্থানের সংখ্যা কমিয়ে জনঘনত্ব কমানোর ইতিহাস পৃথিবীর কোথাও আছে বলে আমার জানা নেই। এটা কোনোদিন সম্ভব নয়। জনগণ যদি আসে, থাকার জায়গা না পেলে রাস্তায় থাকবে। উন্মুক্ত আকাশের নিচে থাকবে, আর না হয় বস্তিতে থাকবে। আর একটু ভালো হলে দোতলা খাট বানিয়ে থাকবে।’

ঢাকা শহরের যেসব বাড়ি ঘর আছে, সেখানে জনঘনত্ব কমিয়ে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে এ স্থপতি বলেন, ‘ড্যাপের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৬ সালের পাঁচতলার অধিক ৮ শতাংশ, দুই থেকে পাঁচতলা ২৪ শতাংশ, একতলা থেকে দুইতলার মধ্যে ভবন হচ্ছে ৬৪-৬৫ শতাংশ। যারা কখনো কখনো চিন্তা করছিল যে, পাঁচ থেকে ছয়তলা বানাবে, সেই জায়গাটাও কমিয়ে দেওয়া হলো। কারণ এখানে অলরেডি জনঘনত্ব বেশি। আর এটা দিয়ে দেওয়া হলো ধানমন্ডি, গুলশান ও বারিধারায়। সরকার পানি, বিদ্যুৎসহ সব ব্যবস্থা করে দিয়ে যাদের জমি দিয়েছে, তাদেরই আবার সেই সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।’

স্থপতি মোবাশ্বের আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যে চিন্তা করেছেন, যেটি চেয়েছেন; সেটিকে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ করার চিন্তা-ভাবনা করে ড্যাপ তৈরি করা হয়েছে বলে আমার মনে হয়। তা না হলে এ ভুলভ্রান্তিগুলো শুধরালেই আমরা এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে পারি।’

এইচএস/এএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।