গ্যাস না থাকায় চুলা জ্বলেনি ঘরে, খাবারের হোটেলে ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৪৩ এএম, ০২ অক্টোবর ২০২২
খাবারের হোটেলে ভিড়/ছবি: জাগো নিউজ

শনিবার দুপুর ২টা থেকে গ্যাস নেই রাজধানীর গুলশান, মহাখালী, বনানী, বাড্ডাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায়। রাত ১২টা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ চালু হয়নি। এতে বিপাকে পড়েছেন এসব এলাকার বাসিন্দারা। রান্না ও খাওয়া নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।

বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় চাপ পড়েছে অলিগলির খাবারের হোটেলগুলোতে। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে খাবার পাচ্ছেন না। কোনো কোনো হোটেলে খাবারও শেষ। ফলে ক্রেতাদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন তারা। এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন ব্যাচেলররা।

শনিবার (১ অক্টোবর) রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত উত্তর বাড্ডা ও মধ্যবাড্ডা এলাকায় ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

jagonews24

জানা গেছে, জরুরি পাইপলাইনের কাজের জন্য পূর্বঘোষণা অনুযায়ী- তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড তেজগাঁও, মহাখালী, গুলশান, বনানী, নতুনবাজার, বাড্ডা, খিলবাড়িরটেক এলাকায় দুপুর থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। রাত ১টা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এতে এসব এলাকার বাসিন্দারা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড্ডা আদর্শনগরের গলিতে ঘুরে দেখা যায়, গলির ভেতরে ছোট-মাঝারি বেশ কয়েকটি হোটেলের সামনে মানুষের জটলা। কোনো হোটেলে রান্নার ব্যবস্থা আছে, আবার কোনো হোটেলে বাইরে থেকে রান্না করা ভাত পাতিলে এনে বিক্রি করা হচ্ছে। রান্নার ব্যবস্থা নেই- এমন ছোট দু-একটি হোটেলে ভাত শেষ। সেখানে রুটি-পরোটার জন্যও ক্রেতারা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করছেন।

একটি হোটেলে গিয়ে দেখা যায়, খাবার শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা আবার রান্না বসিয়েছেন। ভাত রান্না শেষ হলে খাবেন- এমন বেশ কয়েকজন ক্রেতা ভেতরে অপেক্ষা করছেন। তাদেরই একজন হাসেম আলী।

jagonews24

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘অফিস শেষে বাসায় দেখি গ্যাস নেই। গ্যাস ছাড়া আমাদের রান্নার অন্য সিস্টেমও নেই। নিজে রুটি খাইলাম। স্ত্রী ও বাচ্চাদের জন্য ভাত নেবো এজন্য বসে আছি।’

হাসেম বলেন, ‘মাস গেলে গ্যাস বিল তো ঠিকই দেই। তবুও গ্যাসের জন্য হাহাকার। এত কষ্ট করি অথচ বললেও নানান বিপদ। সব জায়গায় চুরি-বাটপারি।’

ওই হোটেলে খাবারের অপেক্ষায় একই টেবিলে বসেছিলেন চার তরুণ। তারা সবাই চাকরিজীবী। একই বাসায় ব্যাচেলর থাকেন। অফিস থেকে ফিরে জানতে পারেন বাসার বুয়া রান্না করেননি। গ্যাস নেই বলে রান্না করতে পারেননি। হোটেলে এসে গেছেন দীর্ঘ সারি।

jagonews24

তাদের মধ্যে রফিক নামে একজন বলেন, ‘কথা বলে আর কী হবে ভাই? আমাদের তো আর দাম নাই। সব আরাম-আয়েশ তো নেতা আর সরকারি কর্মকর্তাদের।’

আদর্শনগর গলির মুখে ঢুকতেই হাজী বিরিয়ানি হাউজ। সেখানে তেহেরি, বিরিয়ানি ও পোলাও বিক্রি হয়। তবে আজ সিলিন্ডার গ্যাসের চুলায় রুটি-পরোটা হচ্ছে। বিরিয়ানি আগেই শেষ। তবে খাবারের চাহিদা থাকায় রুটি-পরোটা বানাচ্ছেন হোটেলের কর্মীরা।

ওই হোটেলের বিক্রয়কর্মী বলেন, ‘গ্যাস নাই। তাই আজ কাস্টমারও বেশি। তিন পাতিল বিরিয়ানি আনছিলাম, অনেক আগেই শ্যাষ। পরে আরেক পাতিল নিয়ে আসলাম।’

jagonews24

বাড্ডা হোসেন মার্কেটের পেছনে মুজাদ্দেদি হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট। সেখানে গিয়েও বেশ জটলা দেখা যায়। এত রাতে জটলা কেন জানতে চাইলে হোটেলের ক্যাশিয়ার বলেন, ‘আজ গ্যাস না থাকায় কাস্টমারের অনেক চাপ।’

ওই হোটেলে দাঁড়িয়ে থাকা আমিন হোসেন নামে একজন জাগো নিউজকে বলেন, অফিস করে বাসায় ফিরে আবার হোটেলে দৌঁড়াতে হলো।

বাড্ডা এএমজেড হাসপাতালের পেছনের গলি ধরে উত্তর বাড্ডার দিকে যাচ্ছেন তিন যুবক। ঘুরে ঘুরে একাধিক হোটেলে ভাতের ওপর চাপ দেখে রুটি কেনেন তারা। পরে উত্তর বাড্ডার এক দোকান থেকে ডিম কিনে বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন।

jagonews24

তাদেরই একজন সুমন বলেন, মেসে থাকি সবাই, গ্যাস নাই। হোটেলে গিয়ে দেখি ভাতের জন্য সিরিয়াল। এজন্য রুটি নিলাম। ডিম কিনে নিচ্ছি। যদি গ্যাস আসে বাসায় একটা ব্যবস্থা হবে।

এমআইএস/এএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।