জিয়ার মরণোত্তর বিচার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৩৬ পিএম, ০২ অক্টোবর ২০২২

জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার করতে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন ও জাতীয় সংসদ এলাকা থেকে তার কবর অপসারণ করার দাবি জানিয়েছে ‘মায়ের কান্না’ নামে একটি সংগঠন। সংগঠনটি জানায়, কবর অপসারণ করা না হলে আগামী ১ ডিসেম্বর মায়ের কান্না সংগঠনের সদস্যরা জিয়ার কবর অপসারণের প্রাথমিক কাজ শুরু করবে।

রোববার (২ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর সেনা ও বিমান বাহিনীর কারাদণ্ডপ্রাপ্ত, চাকরিচ্যুত ও ফাঁসির আদেশ পাওয়া সদস্যদের স্বজনরা ‘মায়ের কান্না’ সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছেন।

সংগঠনটির আহ্বায়ক কামরুজ্জামান মিয়া লেলিন বলেন, একটি চিঠি দিয়ে আমার মাকে জানানো হয়েছিল আপনার স্বামীকে মারা হয়েছে। শুধু চিঠি পেয়েছি কিন্তু মরদেহ পাইনি। রাতের আঁধারে আজিমপুর গোরস্থানে দাফন করা হয়। কিন্তু আজও আমরা আমাদের বাবাদের বিচার ও মরদেহ শনাক্ত করতে পারিনি। আমরা এর বিচার দাবি করছি।

কর্পোরাল মোবারক আলীর সন্তান মমতাজ বেগম বলেন, ছয় মাস বয়সে আমার বাবাকে হত্যা করে জিয়াউর রহমান। বাবার মরদেহ কোথায় আমরা তা জানি না। কোন অপরাধে তাদের ফাঁসি দিলো খুনি জিয়া সেটাও জানি না। রাষ্ট্রের একজন নাগরিক হিসেবে আমি আমার বাবার দাফনের স্থান কোথায় সেটা জানতে চাই?

লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ফাঁসি হওয়া বিমান বাহিনীর সার্জেন্ট আবুল বাশার খানের মেয়ে বিলকিস বেগম।

তিনি বলেন, ১৯৭৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে জাপান রেড আর্মির সদস্যরা জাপান এয়ারলাইন্সের একটি বিমান ছিনতাই করে। সেই বিমানটি জোরপূর্বক ঢাকা বিমান বন্দরে (পুরাতন তেজগাঁও বিমানবন্দরে) অবতরণ করায়। বিমান ছিনতাই এবং যাত্রী জিম্মির ঘটনায় ঢাকা সেনানিবাস এবং বিমানবন্দর এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ১৯৭৭ সালের ১ অক্টোবর বিমান ছিনতাই ঘটনার অবসান ঘটে। কিন্তু সুযোগ বুঝে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে বিমান বাহিনীর সৈনিক ব্যারাকে বিদ্রোহের সূত্রপাত করান। কারণ তিনি বিমান বাহিনীকে সেনাবাহিনীর মধ্যে আত্মীকরণ করে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে চেয়েছিলেন।

‘সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত ছিলেন না বিমান বাহিনীর তৎকালীন সদস্যরা। জাপানি বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনার সুযোগে জিয়া কিছু সৈনিককে লেলিয়ে দিয়ে বিমান বাহিনীর ১১ জন কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করায়। এই ঘটনাকে পুঁজি করে বিদ্রোহ দমনের নামে নির্বিচারে বিমান বাহিনী বেশিরভাগ মুক্তিযোদ্ধা সৈনিকদের গ্রেফতার করে গুম করতে শুরু করে।’

তিনি বলেন, ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর তথাকথিত বিদ্রোহ দমনের নামে মুক্তিযোদ্ধা সৈনিকদের আগে ফাঁসি কার্যকর করে পরে কোর্ট মার্শাল করে বিচার করা হয়েছে। ফাঁসি কার্যকর শুরু হয় ১৯৭৭ সালের ৯ অক্টোবর। অথচ বিদ্রোহ দমনের বিচার কাজের আইন পাস হয় ১৪ অক্টোবর। জিয়া ঘোষিত মার্শাল ল’ ট্রাইবুনালগুলোতে বিচার প্রহসনের সময় একজন সৈনিকেরা জীবন মরণের সিদ্ধান্ত নিতে গড়ে ১ মিনিটের চেয়েও কম সময় দিয়েছিলেন।

বিলকিস বেগম বলেন, পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসি কার্যকর হওয়া ১২১ জনের তালিকা পাওয়া গেছে। কিন্তু বিমান বাহিনী সদরদপ্তরের হিসাবে ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর পরবর্তীসময়ে ৫৬১ জন সৈনিক নিখোঁজ হয়েছেন। যাদের কখনই আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, ঠিক একই সময়ে বগুড়া ক্যান্টনমেন্টে ২২ বেঙ্গল বিদ্রোহ করলে খুনি জিয়া পুরো ইউনিটের সদস্যদের গুম করে দেন। যাদের সংখ্যা দুই শতাধিক। সেনাবাহিনীর গুম হওয়া সদস্যদের বেশিরভাগ বীর মুক্তিযোদ্ধা। যাদের ফাঁসিতে নয় ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যু নিশ্চিত করেছিল খুনি জিয়া।

‘মায়ের কান্না’র পক্ষ থেকে সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছে।

দাবিগুলো হলো-

১. ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর তথাকথিত সামরিক বিদ্রোহ দমনের নামে যাদের অন্যায়ভাবে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে তাদের কোথায় সমাহিত করা হয়েছে রাষ্ট্রীয়ভাবে সেই স্থান চিহ্নিত করে দিতে হবে।

২. জিয়াউর রহমান কর্তৃক যেসব বীর মুক্তিযোদ্ধা সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের অন্যায়ভাবে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে তাদের নামের তালিকা প্রকাশ করা ও শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে।

৩. নিহত সদস্যদের স্ব স্ব পদে সর্বোচ্চ র্যাংকে পদোন্নতি দেখিয়ে বর্তমান স্কেলে বেতন-ভাতা, পেনশনসহ পরিবারের সদস্যদের পুনর্বাসন ও সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

৪. জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার করতে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে।

৫. জিয়াউর রহমানের কবর জাতীয় সংসদ এলাকা থেকে অপসারণ করতে হবে। অন্যথায় আগামী ১ ডিসেম্বর মায়ের কান্না সংগঠনের সদস্যরা কবর অপসারণের প্রাথমিক কাজ শুরু করবেন।

এমআইএস/আরএডি/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।