বিদেশি সরকারও টাকা পাচারে ‘উৎসাহিত’ করে: মোমেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৪০ পিএম, ০৬ অক্টোবর ২০২২

দেশ থেকে টাকা পাচারের ক্ষেত্রে বিদেশের সরকারও এনকারেজ (উৎসাহিত) করে বলে অভিযোগ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেছেন, বড় অংকের অর্থ বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে কাজের অনুমতিপত্র বা নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়, যা টাকা পাচারে উৎসাহিত করে।

যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে ভয়েস অব আমেরিকা বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন মোমেন। বুধবার (৫ অক্টোবর) এ সাক্ষাৎকার সংবাদমাধ্যমটির ওয়েবসাইটে প্রকাশ হয়েছে।

কানাডার ‘বেগম পাড়া’, মালয়েশিয়ার ‘সেকেন্ড হোম’, সুইস ব্যাংকে টাকা জমা রাখাসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গ এনে অর্থপাচার ও তা ফেরানোর ক্ষেত্রে সরকারের পদক্ষেপের বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, (সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি প্রধান) খালেদা জিয়ার ছেলে কোকো (আরাফাত রহমান) যখন বিদেশে টাকা পাচার করেছিলেন, এ মার্কিন সরকারের এফবিআই (কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা) আমাদের সাহায্য করেছিল এবং তারা সাহায্য করার ফলে আমরা ওই টাকাগুলো ফেরত নিয়ে এসেছি। কেবল আওয়ামী লীগ সরকারই বিদেশ থেকে পাচার করা টাকা ফেরত নিয়ে এসেছে। আর কোনো সরকার আনেনি।

ড. মোমেন বলেন, বিদেশের সরকারের কাছে আমরা যখন তথ্য চাই যে, আমাদের দেশের লোক আপনার দেশে টাকা পাচার করেছে কি না বিদেশি অ্যাকাউন্টে, উনারা এসব তথ্য দেন না। উনারা তখন বলেন যে, গোপনীয়তা আইনে আমরা কোনো তথ্য দিতে পারবো না। এটা কিন্তু উভয় সংকট। বিদেশ সরকারও ‘এনকারেজ’ করে টাকা পাচারে। যেমন কোনো কোনো সরকার বলে, আমার দেশে যদি আপনি ওয়ান মিলিয়ন ডলার ইনভেস্ট (বিনিয়োগ) করেন...আপনাকে আমরা ওয়ার্ক পারমিট (কাজের অনুমতি) দেবো, সিটিজেনশিপ (নাগরিকত্ব) দেবো। এর ফলে তারা টাকা নিয়ে আসতে লোকদের প্রলুব্ধ করছে এবং এসে এখানে তা বিনিয়োগ করতে বলছে।

এ দেশগুলোর সরকার যৌথভাবে যদি কাজ করে তাহলে যে টাকাগুলো পাচার হয়েছে সেগুলো ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য বা সব দেশের সরকার বলে যে আমাদের দেশে যারা বিদেশিরা টাকা এনেছেন, আমরা তাদের ইনভেস্টিগেট করবো, তখন টাকাগুলো ফেরত পাওয়া যায় কি না সেটার একটা উপায় বের হতে পারে।

অর্থপাচার বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি তারা কিছু গঠনমূলক পদক্ষেপ নেবে, এর ফলে আমাদের উপকার হবে। আমরাও চাই যে, যারা টাকা বিদেশে পাচার করেছে অবৈধভাবে, সেটা ফেরত আনার। আমরা নিজেরাও কিছু উপায় বের করেছি, বিদেশে কেউ পাচার করলে যদি আপনি স্বদেশে নিয়ে আসেন, আপনাকে কম ট্যাক্স চার্জ করা হবে। কিন্তু তাতেও খুব সুবিধা হচ্ছে না। আমরা অর্থ ফেরত পেতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছি। তবে বিদেশি সরকারের সাহায্য ছাড়া সম্ভব নয়।

এইচএ/এমএএইচ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।