প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৯:৩৭ পিএম, ২৪ নভেম্বর ২০২২

গত ১৭ নভেম্বর জাগো নিউজে প্রকাশিত ‘নির্বিকার বিপিসি: দুই মাসে খালাসেই ‘উধাও’ আড়াই হাজার টন জ্বালানি তেল’ শীর্ষক সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। বুধবার (২৩ নভেম্বর) কোম্পানির সচিব মুহম্মদ আশরাফ হোসেন স্বাক্ষরিত প্রতিবাদ লিপিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।

এতে উল্লেখ করা হয়, ‘বিপিসি আমদানিকৃত জ্বালানি তেল খালাসের সময় আন্তর্জাতিক সনদপ্রাপ্ত নিরপেক্ষ সার্ভেয়ার প্রতিষ্ঠান, বিপিসি কর্তৃক নিয়োজিত সার্ভেয়ার প্রতিষ্ঠান, তেল খালাসে নিয়োজিত বিপিসির অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং বিপিসির প্রতিনিধির উপস্থিতিতে জ্বালানি তেলের পরিমাণ নির্ধারণ এবং খালাস কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। আন্তর্জাতিকভাবে অনুসৃত আমেরিকান সোসাইটি ফর টেস্টিং অ্যান্ড মেটেরিয়ালস (এএসটিএম) পদ্ধতি অনুযায়ী সুষ্ঠু ও সুচারুভাবে জ্বালানি তেলের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। জাহাজ থেকে তেল খালাসকালে ব্যবহৃত ট্যাংকসমূহ (তৈলাধার) সিল করে রাখা হয়। এক্ষেত্রে তেল চুরি হওয়ার সুযোগ নেই। ফলে আমদানি করা জ্বালানি তেল খালাসে অপারেশন লসের নামে তেল চুরির বিষয়টি ভিত্তিহীন এবং অযৌক্তিক।’

প্রকাশিত সংবাদে ‘এমটি হাফনিয়া হ্যানরিত্তি’, ‘এমটি এমফিট্রিয়ন’ এবং ‘এমটি বো ট্রিডিয়েন্ট’ নামক তিনটি জাহাজ থেকে জ্বালানি তেল খালাসের সময় অনুমোদিত পরিমাণের (০.৩%) অধিক লসের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবাদলিপিতে দাবি করা হয়, ‘বস্তুত এমটি হাফনিয়া হ্যানরিত্তি এবং এমটি এমফিট্রিয়নের ইনভয়েস পরিমাণ এবং শোর ট্যাংকে গৃহীত পরিমাণ সমান হওয়ায় কোনো লস হয়নি। অপর জাহাজ এমটি বো ট্রিডিয়েন্টের ক্ষেত্রে ইনভয়েস পরিমাণ থেকে শোর ট্যাংকে গৃহীত পরিমাণ ৪০৯ ব্যারেল কম অর্থাৎ শূন্য দশমিক ১৬৮ শতাংশ অপারেশনজতি লস হয়েছে, যা অনুমোদিত/স্বীকৃত পরিমাণের মধ্যে রয়েছে।’

প্রতিবাদলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘জ্বালানি তেল খালাস/গ্রহণকালে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত বা অপারেশনাল সমস্যার কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে ইনভয়েস পরিমাণের তুলনায় শোর ট্যাংকে গৃহীত পরিমাণে বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হলে তেল খালাসে নিয়োজিত কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রতিবাদলিপি (লেটার অব প্রটেস্ট) জারি করার প্রচলন রয়েছে। পরবর্তীতে জাহাজে রি-স্ট্রিপিং এর মাধ্যমে গৃহীত পরিমাণ বিবেচনায় শোর ট্যাংকের পরিমাণ চূড়ান্ত করা হয়। মূলত প্রাথমিক তথ্য ও লেটার অব প্রটেস্টের ওপর ভিত্তি করে বর্ণিত সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে এতে তথ্যগত ভুল রয়েছে। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর ২০২২ সময়ে বিপিসি কর্তৃক আমদানি করা পরিশোধিত জ্বালানি তেলের জাহাজে গড় অপারেশন লস হয়েছে শূন্য দশমিক ১৫৯ শতাংশ, যা অনুমোদিত অপারেশনাল লস শূন্য দশমিক ৩ শতাংশের তুলনায় অনেক কম। আরও দক্ষতার সঙ্গে অপারেশন পরিচালনা এবং লসের পরিমাণ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রধান স্থাপনাসমূহ অটোমেশনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

প্রতিবেদকের বক্তব্য: প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিপিসির আমদানি করা জ্বালানি তেল খালাস/গ্রহণে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত লেটার অব প্রটেস্ট থেকে তথ্য সংযুক্ত করা হয়েছে। জাগো নিউজের এ প্রতিবেদনে দুই মাসে (সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর) আমদানি করা জ্বালানি তেল জাহাজ থেকে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা প্রধান ডিপোর শোর ট্যাংকে খালাস নিতে ২ হাজার ৪৫০ টন জ্বালানি কমে যাওয়ার তথ্য প্রকাশ করা হয়।

কিন্তু বিপিসির প্রতিবাদ লিপিতে বলা হয়েছে, ওই দুই মাসে আমদানি করা পরিশোধিত জ্বালানি তেলের জাহাজে গড় অপারেশন লস হয়েছে শূন্য দশমিক ১৫৯ শতাংশ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই দুই মাসে পরিশোধিত জ্বালানি হিসেবে ডিজেল, ফার্নেস অয়েল ও জেট এ-১ মিলে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করে বিপিসি। তাতেও শূন্য দশমিক ১৫৯ শতাংশ হিসেবে কমবেশি প্রায় দেড় হাজার টন জ্বালানি অপারেশন লস হয়েছে। যা পৌনে ১৮ লাখ লিটারের কাছাকাছি।

অন্যদিকে লেটার অব প্রটেস্টের তথ্য পর্যালোচনা করতে জাগো নিউজের পক্ষ থেকে প্রায় তিন দিন ধরে বিপিসির চেয়ারম্যান, পরিচালক (অপারেশন)-এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। এরমধ্যে বিপিসির পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড প্লানিং) খালিদ আহম্মেদ মুঠোফোনে দুই মাসে গ্রহণযোগ্য মাত্রা শূন্য দশমিক ৩ শতাংশের নিচে অপারেশন লস ছিল দাবি করলেও কোনো তথ্য দিতে পারেননি। পরে বিপিসির চেয়ারম্যানকে একাধিকবার ফোনকল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। সাড়া না পেয়ে দাপ্তরিক ও ব্যক্তিগত দুই মুঠোফোনেই ক্ষুদেবার্তা (এসএমএস) দেওয়া হয়। তাতেও তিনি সাড়া দেননি।

মূলত একটি প্রতিবেদনকে যুক্তিযুক্ত ও বস্তুনিষ্ঠ করার জন্য জাগো নিউজের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রচেষ্টা নেওয়া হয়। এখানে প্রতিবেদক কিংবা জাগো নিউজের নিজস্ব কোনো মতামত প্রতিফলিত হয়নি।

এছাড়াও জাহাজ তিনটি খালাসের পর জাহাজের মাস্টার/ চিফ অফিসারকে দেওয়া খালাসকারী প্রতিষ্ঠানের লেটার অব প্রটেস্ট জাগো নিউজের হাতে রয়েছে। যেখানে তেল শর্টেজ শব্দটি উল্লেখ রয়েছে।

কেএসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।