‘রোহিঙ্গাদের দক্ষতা বিকাশে কৌশলগত পরিবর্তন প্রয়োজন’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৪৮ পিএম, ৩০ নভেম্বর ২০২২

পাঁচ বছর পার হয়ে গেলেও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন অচল অবস্থায় রয়েছে। এদিকে তহবিলের প্রবাহ আগের চেয়ে আরও নাজুক। তাই ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দক্ষতা বিকাশে কৌশলগত পরিবর্তনের দিকে নজর দেওয়ার সময় এসেছে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা।

বুধবার (৩০ নভেম্বর) ‘বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সংকট থেকে উত্তরণ: আমাদের কি কৌশলগত পরিবর্তন দরকার?’ শীর্ষক নীতি সংলাপে এ পর্যবেক্ষণগুলো নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা । ব্র্যাক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ যৌথভাবে রাজধানী ঢাকার একটি হোটেলে এ সংলাপের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ২০১৭ সালে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা প্রবেশের শুরু। সাহায্য প্রদানকারী সংস্থাগুলো বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের জীবন রক্ষাকারী সহায়তা প্রদানকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, আফগানিস্তানে মানবিক সংকট এবং চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের মতো আরও বেশ কয়েকটি বিষয় এখন বড় বৈশ্বিক উদ্বেগ হিসেবে উপস্থিত হয়েছে। যা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মানবিক সহায়তার প্রবাহকেও সংকুচিত করেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের গবেষণালব্ধ চারটি গবেষণাপত্র এ সংলাপে উপস্থাপন করা হয়। যা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পরিবর্তিত চাহিদা, ২০২৩ ও তার পরবর্তীতে তাদের জন্য সম্ভাব্য জীবিকার মাধ্যম এবং এসব মোকাবিলায় স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের ভূমিকা এবং এসব ইস্যুর পাশাপাশি অর্থের নতুন উৎসের অনুসন্ধান করেছে।

গবেষণাপত্রের উদ্বৃতি দিয়ে বক্তারা হোস্ট কমিউনিটির চাহিদার প্রতি মনোযোগ দেওয়ার উপর জোর দেন। বলেন, হোস্টদের নিরাপত্তাহীনতা দূর করা হলে তা হোস্ট-রোহিঙ্গা সম্পর্ককে শক্তিশালী করবে। এভাবেই প্রশস্ত হবে কৌশলগত প্রক্রিয়া নির্ধারণের পথ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর অনেক সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। রোহিঙ্গারা এখানে আসার পর শুরু থেকে যেসব সমস্যা ছিল এখন বাস্তবে সে অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। তবে এসময়ে রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রাসহ বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় আমাদের আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আরও অর্থায়ন দরকার।

তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়ার তাগিদ দিয়ে বলেন, এটা সত্য যে, আমাদের দেশে অনেক সমস্যা থাকার পরও প্রধানমন্ত্রী তাদের (রোহিঙ্গাদের) আশ্রয় দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও শুরু থেকে আমাদের সমর্থন দিয়েছে। এখন তাদের প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত ইস্যুতে আমাদেরই এগিয়ে আসতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত সমীক্ষায় মাঠ পর্যায়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার জন্য গবেষকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন তিনি।

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্ তার বক্তব্যে গেল পাঁচ বছরে বাংলাদেশ সরকার, জাতিসংঘের সংস্থা ও এনজিওগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরান, বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি গোয়েন লুইস (অনলাইনে), ইউএনএইচসিআর অন্তর্বর্তীকালীন কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ সু-জিন রি, ইউএসএআইডি বাংলাদেশের মিশন পরিচালক ক্যাথরিন ডেভিস স্টিভেনস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. মাকসুদ কামাল, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারপার্সন ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, গবেষণা ও এর প্রভাবকে সার্বজনীন করে তুলতে এতে কোনোভাবে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মতামত তুলে ধরতে পারলে আরও ভালো হতো।

জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকার কক্সবাজার ও ভাসানচরে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করতে সচেষ্ট রয়েছে । তবে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এএএম/এমআইএইচএস/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।