‘উপজেলা পরিষদকে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:০২ পিএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২

প্রেক্ষিত পরিকল্পনা-২০৪১ অর্জনে স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে উপজেলা পরিষদকে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করার কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

রোববার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে হোটেল রেডিসন ব্লু'তে উপজেলা ইন্টিগ্রেটেড ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (ইউআইসিডিপি) কর্তৃক আয়োজিত প্রজেক্ট ওয়ার্ম-আপ সেমিনার অফ ইউআইসিডিপি অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সেমিনার অন লোকাল গভর্নমেন্ট সিস্টেম শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন।

স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মলয় চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ সেমিনারের উদ্বোধন করেন। সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. জসিম উদ্দিন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাইকার সিনিয়র রিপ্রেজেন্টিটিভ মারি মিউরা ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব জনাব সায়লা ফারজানা।

ইউআইসিডিপির টিম লিডার ইকেদা কেনজো প্রকল্পের অর্জন এবং করণীয় সম্পর্কে উপস্থাপন করেন। ইকেদা কেনজো বলেন, এ প্রকল্প ২০১৭ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ৯ জেলার ৬৫ উপজেলায় কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ প্রকল্প থেকে উপজেলা পরিষদ পরিচালন ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য তিনটি পলিসি ডকুমেন্ট (উপজেলা সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ক নির্দেশিকা, উপজেলা পরিষদ পরিচালন ব্যবস্থা উন্নয়ন এর জন্য মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী কৌশলপত্র এবং উপজেলা পরিষদ অংশীজনের জন্য মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা) প্রস্তুত করা হয়েছে।

সেমিনারে মুখ্য আলোচক হিসেবে জাপানের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা রাখেন জাপানের মেইজি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাসাও কিকুচি এবং বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. সালাহউদ্দিন এম. আমিনুজ্জামান।

এছাড়াও প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম ও অধ্যাপক ড. ফেরদৌস আরফিনা ওসমান, বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব জনাব অমিতাভ সরকার। সেমিনার সঞ্চালনা করেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও ইউআইসিডিপির সিনিয়র এডভাইজর জনাব মো. আকরাম হোসাইন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মলয় চৌধুরী বলেন, এ প্রকল্প উপজেলা পর্যায়ে সুশাসনের জন্য কাজ করছে। যা উপজেলাকে আরেও গতিশীল করতে সহায়তা করবে। এ প্রকল্পে জাইকা অর্থায়ন করায় জাপানকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সায়লা ফারজানা বলেন, উপজেলা পরিষদের পরিকল্পনা করা গেলে কোন রিসোর্স থেকে টাকা পেলে তাহলে সেটি পরিকল্পিতভাবে খরচ করতে পারব, যেটা অপচয় হবে না। পরিকল্পিতভাবে কাজ করা গেলে ২০৪১ সালের যে লক্ষ্যমাত্রা আছে সে লক্ষ্যমাত্রায় যেতে পারব।

বক্তারা প্রেক্ষিত পরকল্পনা-২০৪১ অর্জনে স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে উপজেলা পরিষদকে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া উপজেলা পরিষদের সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের জন্য বার্ষিক ও পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন এবং দেশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্ধারিত সময়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য অনুরোধ করেন। সেমিনারে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার জন্য আহ্বান জানানো হয়।

দিনব্যাপী সেমিনারে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, ৯ জেলার ডিডিএলজি, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা অংশ নেন।

আইএইচআর/এমআইএইচএস/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।