স্বেচ্ছাসেবী ছাড়া সুন্দর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়: প্রতিমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৫০ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২

স্বেচ্ছাসেবী ছাড়া সুন্দর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন।

তিনি বলেছেন, যারা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছে তারাই প্রকৃত সমাজসেবক। এটা আদিকাল থেকে চলে আসছে। স্বেচ্ছাসেবকরা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ায় প্রত্যাশায় এগিয়ে চলছে। বর্তমানে দেশে ১০ লাখ স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছে। তরুণরাই স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে রাষ্ট্রভাষার জন্য আন্দোলন করেছিল। তারাই যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। স্বেচ্ছাসেবী ছাড়া সুন্দর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়।

সোমবার (৫ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী দিবস উপলক্ষে ভিএসও বাংলাদেশ আয়োজিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আলী চৌধুরী হলে এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা বিশ্বদ্যায়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন ভিএসও বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর খাবিরুল হক কামাল। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মালালা ফান্ডের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ মোশাররফ তানসেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার উন্নত বাংলাদেশ গড়ার জন্য নানাভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সরকার কেবিনেটে স্বেচ্ছাসেবী নীতিমালা পাস করেছে। আগে সবাই পড়াশোনা শেষ করে চাকরি করার চিন্তা করতো। কিন্তু অনেকেই এখন স্বেচ্ছাসেবাকে পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ভেদাভেদ ভুলে যেতে হবে। এটা করতে হলে স্বেচ্ছাসেবক ছাড়া হবে না। দেশে যে কোনো দুর্যোগে স্বেচ্ছাসেবকদের এগিয়ে আসতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার সামাজিক নিরাপত্তা বাড়িয়েছে। আড়াই কোটি ছাত্রকে বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। গৃহহীনদের বাড়ি করে দিচ্ছে। তরুণরাই উন্নত দেশ গড়ার কারিগর। বাল্যবিবাহ রোধ করতে স্বেচ্ছাসেবকদের এগিয়ে আসতে হবে।

ঢাবি ভিসি বলেন, করোনার সময়ে বাংলাদেশের স্বেচ্ছোসেবকরা নানাভাবে কাজ করেছে। তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই সময় কাজ করেছেন। করোনাকালীন অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এগিয়ে এসছে। স্বেচ্ছাসেবী হলো বিনা পারিশ্রমিককে কাজ করা। সবাই এটা করতে পারে না। স্বেচ্ছাসেবী হতে হলে উদার মানসিকতার হতে হবে। এই সেমিনার স্বেচ্ছাসেবীদের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

ভিএসওর ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর খারিরুল হক কামাল বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ৫০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছে। ভবিষ্যতে সুন্দর দেশ গড়তে হলে স্বেচ্ছাসেবীদের এগিয়ে আসতে হবে। সব স্বেচ্ছাসেবক একত্রে কাজ করতে পারলে দেশকে একটি সমৃদ্ধির জায়গায় নেওয়া সম্ভব।

তিনি বলেন, সরকার স্বেচ্ছাসেবকদের নানাভাবে সহযোগিতা করছে। আমরা আশাবাদী স্বেচ্ছাসেবীরা আরও কাজের সুবিধা পাবেন। টেকসই উন্নয়নের জন্য, আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং এটাই কাজ করার উপযুক্ত সময়। একে অপরের প্রতি সংহতি প্রকাশের যুগে সবাইকে নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

ভিএসও বাংলাদেশ, ইনস্টিটিউট অফ ডিজাস্টার ম্যানেজম্যান্ট অ্যান্ড ভালনারেবল স্ট্যাডিজ (আইডিএমভ্এিস), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভলান্টিয়ার অপর্চুনিটির সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী দিবস উদযাপন করেছে। দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল ‘স্বেচ্ছাসেবার মাধ্যমে সংহতি’।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন ব্রিটিস কাউন্সিলের ডিরেক্টর প্রোগ্রামস ডেভিড নক্স, ব্রিটিস হাইকমিশনের শিক্ষা উপদেষ্টা, মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া, ইউএসআইডি বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ডেভেলোপমেন্ট স্পেশালিস্ট শাহীন সিরাজ, সিসেম বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মাদ শাহ আলম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মাহবুবা নাসরীন।

অনুষ্ঠানে ৬৪ টি জেলার ১২০ জন স্বেচ্ছাছাসেবী সংস্থাকে তাদের স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের জন্য সম্মাননা দেওয়া হয়।

এমএএস/এমকেআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।