খেলার সুবিধা ছাড়া নাগরিক বিকাশ সম্ভব নয়: আইপিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৩৫ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২

নগর ও গ্রামীণ পর্যায়ে খেলার সুবিধা তৈরি না করে নাগরিকদের বিকাশ ও উন্নত জাতি গড়া সম্ভব নয় বলে মনে করেন বিশিষ্টরা।

সোমবার (৫ ডিসেম্বর) ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) আয়োজিত এক নগর সংলাপে বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। ‘বাংলাদেশের নগর ও গ্রামীণ এলাকায় খেলার মাঠের সংকট ও করণীয়’ শীর্ষক এ অনলাইন সংলাপের আয়োজন করে আইপিডি।

নগর সংলাপে বক্তারা বলেন, দেশের নগর কিংবা গ্রাম সবখানেই খেলাধুলা করার সুযোগ সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। খেলার মাঠে অবকাঠামো ও স্থাপনা নির্মাণ কিংবা বিভিন্ন ক্লাব ও স্বার্থান্বেষী মহল দখল করার কারণে শিশু-কিশোরা খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কিন্তু এলাকাভিত্তিক খেলার মাঠ তৈরির ব্যাপারে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ও ভাবনা চিন্তা গুরুত্ব এবং তাৎপর্য বিবেচনায় স্বল্প। এই বাস্তবতায় খেলাধুলার সুযোগকে সুস্থভাবে বেড়ে উঠার মৌলিক অধিকার বিবেচনা করে সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, কার্যকর বাস্তবায়ন ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

সংলাপে মূল প্রবন্ধে উপস্থাপন করেন আইপিডির নির্বাহী পরিচালক এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান।

তিনি বলেন, গ্রামীণ এলাকায় পরিকল্পিত খেলার মাঠ নেই, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ এক্ষেত্রে বিনোদন সুবিধার চাহিদা পূরণ করে। গ্রামে মেয়েদের খেলার মাঠ না থাকার কারণে মেয়েদের খেলার সুযোগ অপ্রতুল। নগর এলাকায় জনসংখ্যার অনুপাতে খেলার মাঠের সংখ্যা খুবই কম। নগর এলাকায় অনেক খেলার মাঠ বিভিন্ন ক্লাব বা প্রভাবশালী মহলের দখলে আছে। নগর এলাকায় বেশকিছু খেলার মাঠের উন্নয়ন কার্যক্রম করা হলেও উন্নয়নের পর খেলার মাঠে জনসাধারণের প্রবেশ সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ বলেন, খেলার মাঠ উন্নয়নের সময় খেলার মাঠকে মাল্টিপারপাস তথা বহুমুখী বিনোদন এলাকা গড়ে তোলার কারণে খেলার সুযোগ কমে যাচ্ছে। নগর এলাকায় ক্ষেত্রবিশেষে বেসরকারি উদ্যোগে অল্পসংখ্যক খেলার মাঠ তৈরি হচ্ছে, যার প্রবেশগম্যতা কম ও ব্যয়বহুল। ফলে এক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে তোলা আবাসিক প্রকল্পে খেলার মাঠ অপর্যাপ্ত।

তিনি বলেন, অনেক খেলার মাঠকে প্লট আকারে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নগর এলাকায় স্বল্পবিত্ত বা বস্তি এলাকায় খেলার মাঠ খুবই অপ্রতুল। যেগুলো আছে সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ হয় না বললেই চলে। তিনি বলেন, জাতীয় শিক্ষা নীতি অনুযায়ী প্রতিটি বিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলার মাঠ থাকবার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা একেবারেই মানা হচ্ছে না। সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলার মাঠ থাকলেও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলার মাঠ প্রায়ই অনুপস্থিত। ফলে আমাদের স্বাস্থ্যগত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত প্রজন্ম তৈরি হবে, জাতিগতভাবে যার মূল্য হবে ভয়াবহ।

পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আকতার মাহমুদ বলেন, খেলার মাঠ আমাদের সামাজিকীকরণ বাড়ায় ও উদারচিত্ত হৃদয়ের মানুষ গড়তে সহায়তা করে। খেলাধুলাবিহীন আত্মকেন্দ্রিক মানুষেরা কীভাবে আমাদের জন্য সার্বজনীন বাংলাদেশ গড়তে নেতৃত্ব দেবে?

তিনি আরও বলেন, নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনার পরিকল্পনার স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী বিভিন্ন পর্যায়ে পরিকল্পনামাফিক খেলার মাঠ ও যোগ্য সংগঠক তৈরি করতে হবে।

বাংলাদেশে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক ক্রিকেটার জাভেদ ওমর বেলিম গোল্লা বলেন, পুরান ঢাকাতে আমরা যেসব এলাকায় খেলাধুলা করে বড় হয়েছি, তার অধিকাংশতেই এখন খেলার সুযোগ নেই। খেলার মাঠ নিয়ে আন্দোলন করেও সেগুলোকে রক্ষা করা যাচ্ছে না। পাড়া-মহল্লায় খেলাধুলা করবার সুযোগ না পেলে আমাদের শিশুরা কীভাবে সুস্থ থাকবে এ প্রশ্ন রাখেন তিনি।

আইপিডির পরিচালক পরিকল্পনাবিদ মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, অর্থনৈতিক লাভ ক্ষতির হিসাব করতে গিয়ে নগর এলাকায় একের পর এক খেলার মাঠ ধ্বংস করা হচ্ছে। অথচ আমরা আমাদের শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের অর্থনৈতিক ও সামগ্রিক মূল্য নিরূপণ করতে বেমালুম ভুলে গেছি।

সংলাপে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত পাল, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এমএমএ/আরএডি/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।