বিএনপি কার্যালয়ে বোমার তথ্যে সোয়াত টিম, যা বলছে সিটিটিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:১৫ পিএম, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২

১০ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে সমাবেশের অনুমতি না পেলেও ওখানেই সমাবেশ করার বিষয়ে বিএনপি এখনো অনড়। এ অবস্থায় দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

নয়াপল্টনে শত শত পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) সোয়াত টিম।

পুলিশের এই ইউনিটটিকে সন্ত্রাসবিরোধী নানা অভিযানে দেখা গেলেও রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে এই প্রথম এর ব্যবহার হলো।

সিটিটিসি বলছে, বিএনপি কার্যালয়ের ভেতর বিস্ফোরকের খবর পেয়ে বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে পাঠানো হয়। বোম ডিসপোজাল ইউনিটের প্রটেকশন হিসেবে সোয়াত টিমকে মুভ করা হয়। এখন পর্যন্ত বেশকিছু বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে।

jagonews24

জানতে চাইলে সিটিটিসি প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের কাছে তথ্য ছিল বিএনপি কার্যালয়ে নাশকতা সামগ্রী ও এক্সপ্লোসিভ (বিস্ফোরক দ্রব্য) মজুত করা হয়েছে। বিস্ফোরকের খবর পেয়ে আমরা বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে পাঠাই। বোম ডিসপোজাল ইউনিটের প্রটেকশন হিসেবে সোয়াত টিমকে মুভ করা হয়। এ কারণেই ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা ও বোম ডিসপোজাল ইউনিটের নিরাপত্তার স্বার্থে সোয়াত টিমকে পাঠানো হয়।

বিএনপি কার্যালয়ের ভেতর থেকে সোয়াত টিম বিস্ফোরক কিছু পেয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে সিটিটিসি প্রধান বলেন, আমাদের টিম এখনো ঘটনাস্থলে রয়েছে। তারা সার্চ করছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে বেশকিছু বোমা সদৃশ বস্তু পাওয়া গেছে। তবে এখনো সেটি ক্লিয়ার নয়। যেহেতু এখনো চেকিং শেষ হয়নি তাই বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।

কোন পরিপ্রেক্ষিতে সোয়াত মোতায়েন করা হলো, এই প্রশ্নে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থাকা ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হায়াতুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের ফোর্স দরকার ছিল, কল করেছি, তখন বাড়তি ফোর্স এসেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে ডিবি ও সোয়াত সদস্যরাও আমাদের সঙ্গে যোগ দেয়।

সোয়াতকে কেন ডাকতে হলো, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, পুলিশ যখন মনে করে, তখনই বিশেষ বাহিনীগুলোকে কল করা হয়।

সকাল থেকেই বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘিরে ছিল ‍পুলিশের নিরাপত্তাবেষ্টনী। দুপুরের পর সেখানে সংঘর্ষ শুরু হলে সোয়াত সদস্যরা যোগ দেন বেলা পৌনে তিনটার দিকে।

তবে তারা আসার আগে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। তখন সোয়াত সদস্যদের কোনো অ্যাকশনে যেতে দেখা যায়নি। তারা নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকায় টহল দিচ্ছিল।

সন্ধ্যায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সোয়াত নামানোর বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, আমরা শুনেছি ওখানে ককটেল বিষ্ফোরণ হয়েছে, তারা ডাল, লাঠি নিয়ে আসছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ শক্তি বৃদ্ধি করেছে।

তিনি বলেন, আজকে অফিশিয়াল ডে (কর্মদিবস)। পূর্বানুমতি ছাড়া রাস্তা বন্ধ করে সমাবেশ করবে, তা তো কাম্য নয়। নাশকতার আশঙ্কায় শক্তি বাড়িয়েছি।

টিটি/কেএসআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।