দুর্বল হলো ঘূর্ণিঝড় ‘মানদৌস’, রাতে আঘাত হানতে পারে ভারতে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:১১ পিএম, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২

প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মানদৌস’ দুর্বল হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। এটি শুক্রবার রাতে ভারতের উত্তর তামিলনাড়ু, পুন্ডুচেরি এবং অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

বাংলাদেশের চারটি সমুদ্রবন্দরে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত বহাল রাখা হয়েছে। তবে এটি দেড় হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে থাকায় বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়ের কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

ঘূর্ণিঝড়টি ইতোমধ্যে ভারতের তামিলনাড়ু উপকূলের খুব কাছাকাছি চলে গেছে। এর প্রভাবে তামিলনাড়ুর বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে ভারতের আবহাওয়া দপ্তর।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে (ক্রমিক নম্বর-৮) জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মানদৌস’ পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে একই এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। এটি শুক্রবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ৬৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ৬৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ৫৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ৫৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।

এতে আরও বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি চলাচল করতে বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে তাদের গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

অন্যদিকে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। ভোরের দিকে দেশের কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশা পড়তে পারে।

এ সময়ে সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলেও পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল কুড়িগ্রামের রাজারহাটে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল কক্সবাজারে, ৩৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আরএমএম/জেএইচ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।