‌‘পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থায় সর্বোচ্চ ভোগের চেষ্টায় মানবজাতি’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:২৮ এএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২৩

‌‘পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থায় মানুষ যখন ভোগ করে তখন সর্বোচ্চ ভোগের চেষ্টা করে। এটা সেবা, সম্পদ বা দ্রব্য- সব ক্ষেত্রেই করে থাকে। ফলে পরিবশে বা আশপাশে কী প্রভাব পড়লো বা পড়লো না সেটি খেয়াল রাখছে না। এ অবস্থায় সামনে পৃথিবীতে যা আসছে বা এরই মধ্যে এসেছে তাদের কথা ভাবা হচ্ছে না। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার এখনই উপযুক্ত সময়। সেটি না হলে জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে ভয়াবহ ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে।’

বুধবার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস) আয়োজিত সেমিনারে যুক্তরাষ্ট্রের বাথ ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. গোফ উড এসব বিষয় তুলে ধরেন। বিআইডিএসের প্রফেসরিয়াল ফেলো ড. এম এ সাত্তার মন্ডল সেমিনার সঞ্চালনা করেন।

লোভে পড়ে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খরচ না করে ভবিষ্যতের জন্য রাখার আহ্বান জানিয়ে গোফ উড বলেন, ‘আমরা সবসময় যে আচরণ করি বিশেষ করে ভোগবাদী সমাজে এবং পুঁজিবাদী সমাজে আমাদের বর্তমানের ভোগের যেসব সামগ্রী এবং সেবা দ্রব্যসামগ্রী আছে সেগুলো যখন আমরা ব্যবহার করি তার ভেতরে সবসময় আমাদের যুক্তিসংগত আচরণ থাকে না। ফলে যেটা হয়, বর্তমান ভোগের চাহিদা মেটানোর জন্য বা এটাকে আরও উচ্চপর্যায়ে নেওয়ার জন্য আমাদের অজান্তেই হয়তো আমরা ভবিষ্যৎ বিপদাপন্ন করে তুলি। আমাদের এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

মূল প্রবন্ধে গোফ উড তার পরিবারের একটি উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি ২২৬ বছরের একটি টাইমলাইন দেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমার বাবা ২০০৫ সালে মারা যান। তার বয়স ছিল ১০০ বছর। তার বাবা মারা যান ৩০ বছর আগে ১০১ বছর বয়সে। জেনারেল গর্ডন যখন খার্তুমে (১৮৮৫) নিহত হন তখন তিনি প্রায় ১০ বছর বয়সী ছিলেন। এ ঘটনা আমার দাদা ভালো করে মনে রেখেছেন। তাই আমার কাছে ১৮৭৪ সালের সরাসরি রক্তরেখা আছে। আমার ১৬ বছর এবং ১৩ বছর বয়সীনাতি আছে। এক অর্থে আমার কাছে অর্থবহ এবং নৈতিকভাবে ২২৬ বছরের টাইমলাইন আছে। মানুষের অতীতের অনেক কিছুই বর্তমানকে প্রভাবিত করে।’

তিনি বলেন, ‘ধীরে ধীরে দেশগুলোর মধ্যে এবং এর মধ্যে সম্পদ ও রাজনৈতিক ক্ষমতার ঘনত্ব, বায়ু এবং পানিদূষণ, গাছপালা এবং প্রাণীদের জন্য আরও হুমকি তৈরি করছে। বন উজারের উচ্চহার, গবেষণা ও প্রশমনে কম সরকারি ব্যয়, ব্যক্তি প্রতি উচ্চ কার্বন নির্গমনের দিকে বর্তমান বিশ্বের সবকিছুই পরিচালিত হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সর্বজনীন আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তার প্রচারে স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন মনোযোগের প্রয়োজন হবে। কারণ অন্যান্য ধরনের বলিদানমূলক আচরণকে প্ররোচিত করার জন্য যেসব বিষয় কাজ করে সেগুলো আর থাকবে না।’

অধ্যাপক ড. এম এ সাত্তার মন্ডল বলেন, ‘জলবায়ুর বিষয়টি তো মানুষের আচরণগত বিষয় থেকেই এসেছে। যেমন আমাদের বন উজার করে ফেলেছি, আমাদের মিথেন গ্যাস, গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ করছে, ওটা রেফ্রিজারেটর এবং যত আধুনিক যন্ত্রপাতি ইত্যাদি ব্যবহার করার কারণেই তো হয়। এটা কমানোর জন্য আইপিসিসি প্যানেল দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছে।’

এমওএস/ইএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।