কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে তো?

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ০৪:১৮ এএম, ২০ অক্টোবর ২০১৭

রংপুরের কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের নির্মাণাধীন ৫ তলা ভবনের ৪ তলা থেকে পড়ে গিয়ে লুৎফর রহমান লালু (২৬) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু দেখিয়ে দিল এদেশে শ্রমিকের জীবন এখনো কতটা অনিরাপদ। এ ধরনের মৃত্যু কিছুতেই কাম্য হতে পারে না। ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে শ্রমিক নিরাপত্তায় আরো সতর্ক হতে হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত লালু সদর উপজেলার চন্দনপাঠ ইউনিয়নের ইশ্বরপুর মাঠেরহাট গ্রামের মোবারক আলীর ছেলে। নিহত লালু পেশায় রড মিস্ত্রী ছিলেন। ওই ভবনের জানালার কাজ করতে গিয়ে পা পিছলে মাঠিতে পড়ে গুরুতর আহত হন লালু। পরে অন্য শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শ্রমিকদের কাজের জন্য নিরাপত্তামূলক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কি না-এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। এ ধরনের মৃত্যু কিছুতেই কাম্য হতে পারে না। আরো দুঃখজনক হচ্ছে এ ধরনের দুর্ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগে রাজধানীর মালিবাগে রেলগেট সংলগ্ন নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের গার্ডার পড়ে স্বপন নামে এক পথচারী নিহত হন। এছাড়া ২০১২ সালে চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট জংশনে নির্মাণাধীন উড়ালসড়কের গার্ডার ভেঙে ১৩ জন নিহত হন। তখন নির্মাণ কাজে নিরাপত্তা নিয়ে অনেক কথা হয়েছিল। কিন্তু ফলাফল শূন্য।

এসব ঘটনায় দোষীদের কখনো শাস্তি হয় না। ফলে বার বার পুনরাবৃত্তি হতে থাকে মর্মান্তিক ঘটনার। কিন্তু এভাবে তো দিনের পর দিন চলতে পারে না। বলা হয় সবার আগে নিরাপত্তা। কিন্তু পদে পদে সেটি লঙ্ঘন করা হয়। কাউকে কোনো দায় নিতে হয় না বলে ঘটনার পুনরাবৃত্তি চলতেই থাকে। অসতর্কতা ও কর্তব্যকর্মে ঔদাসীন্য কী মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে আনতে পারে তার সর্বশেষ উদাহরণ হচ্ছে রংপুরের ওই নির্মাণ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা। কিন্তু এরপরও কি কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে না?

এইচআর/এমএস

‘এসব ঘটনায় দোষীদের কখনো শাস্তি হয় না। ফলে বার বার পুনরাবৃত্তি হতে থাকে মর্মান্তিক ঘটনার। কিন্তু এভাবে তো দিনের পর দিন চলতে পারে না।’

আপনার মতামত লিখুন :