ভুল চিকিৎসার দায় কে নেবে?

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ০৪:০৭ এএম, ২৭ নভেম্বর ২০১৭
ভুল চিকিৎসার দায় কে নেবে?

হবিগঞ্জ শহরে চাঁদের হাসি হাসপাতালে সিজারের সময় প্রসূতির পেটে তোয়ালে রেখেই সেলাই করেন চিকিৎসক। এর ফলে শরীরের ইনফেকশন বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়লে ৩ মাস পর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রোগীর পেট থেকে ওই তোয়ালে বের করা হয়। চাঁদের হাসি হাসপাতাল ও চিকিৎসকের এমন দায়িত্বহীনতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। দুঃখজনক হচ্ছে চিকিৎসার মতো জরুরি সেবা যেখানে জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন জড়িয়ে থাকে সেখানেও এ ধরনের ভুলের ঘটনা ঘটেই চলেছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হলে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কোনো বিকল্প নেই।

গত ২৩ অগাস্ট শহরের শায়েস্তানগর এলাকার বাসিন্দা সঞ্জীব সরকারের স্ত্রী মল্লিকা দাসকে প্রসব করানোর জন্য কোর্ট মসজিদ সংলগ্ন চাঁদের হাসি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে সিজারের উদ্যোগ নেয়। ওই দিনই তার সিজার করেন ডা. এসকে ঘোষ। সিজারের পর মল্লিকার পেটের ভেতর একটি তোয়ালে রেখেই সেলাই করেন চিকিৎসক। এর কয়েকদিন পর থেকেই মল্লিকা পেটে ব্যথা অনুভব করতে থাকেন। ব্যথা বাড়ায় বেশ কয়েকদিন পর আবারও তাকে চাঁদের হাসি হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার পরিক্ষা নিরীক্ষা করে ধারণা করেন পেটের ভেতর কিছু রয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত আরও একাধিক পরিক্ষা নিরীক্ষা শেষে শুক্রবার শহরের অপর ক্লিনিক হেলথ কেয়ারে নিয়ে তাকে ভর্তি করা হয়। রাতে তার পেটে আবারও অস্ত্রোপচার করেন ডা. আবুল কালাম চৌধুরী। এসময় তার পেট থেকে একটি তোয়ালে বের করা হয়। বর্তমানে তিনি ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

রাধানীসহ দেশের আনাচে-কানাচে অনেক নামী-দামী হাসপাতাল, ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। এসব হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে প্রায়শই পত্র-পত্রিকায় নানা প্রশ্ন উঠে। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না হয়েও অনেক চিকিৎসকই অপারেশনসহ রোগীদের নানা রকম জটিল চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। এ কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে অহরহ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঠিক তদারকি না থাকায় এদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাচ্ছে। এমনকি ভুয়া ডাক্তারেরও সন্ধান মিলছে। তাও আবার নামী-দামী সব হাসপাতালে। এ অবস্থার অবসান প্রয়োজন। চিকিৎসার মত মৌলিক অধিকার নিয়ে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল ছিনিমিনি খেলুক এটা মেনে নেওয়া যায় না। হবিগঞ্জে প্রসূতির চিকিৎসার ক্ষেত্রে যে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে তা খতিয়ে দেখা জরুরি। এবং অভিযোগ প্রমাণ হলে অবশ্যই দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এটা অত্যন্ত জরুরি।

এইচআর/এমএস

‘রাধানীসহ দেশের আনাচে-কানাচে অনেক নামী-দামী হাসপাতাল, ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। এসব হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে প্রায়শই পত্র-পত্রিকায় নানা প্রশ্ন উঠে।’