সন্তানের নৈতিক মূল্যবোধের ভিত গড়ুন নিজ হাতেই

নায়না শাহরীন চৌধুরী
নায়না শাহরীন চৌধুরী নায়না শাহরীন চৌধুরী , সঙ্গীতশিল্পী, লেখক
প্রকাশিত: ০৬:১৪ এএম, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭

সময় এখন খুব ব্যস্ত। আমরা ঝড়ের গতিতে সপ্তাহ মাস পার করি। সংসারের টুকিটাকি, অফিস আদালত বা বাইরের কাজ বাদ দিলেও, রান্নাবাড়া, টেলিভিশনের সিরিয়াল, খবরের কাগজে মুখ ঢাকা- ঘুমানোর আগ পর্যন্ত সময়টা এরকম দারুণ ব্যস্ততাতেই তো যায়। কিন্তু বাড়িতে ছোট ছেলে মেয়েদের কথা ভুলে যাই প্রায়ই।

কানের কাছে এসে যখন খেলতে আবদার করে, অথবা কাছে পাওয়ার জন্য জেদ করে আমরা কেউ তার হাতে স্মার্টফোন তুলে দেই, কেউ বা কাজের লোকের কাছে পাঠিয়ে দেই। তখন কিছুটা সময় নিজের জন্য রাখতে গিয়ে আমরা ভুলে যাই আমাদের সন্তানের মানসিকতা যেটা আমরা নরম কাদার মত গড়ে তুলতে পারতাম তার ভার অন্য মাধ্যমে ছেড়ে আমরা কি সর্বনাশ ডেকে আনছি।

অনেকেই বলেন, সন্তানকে ভালো স্কুলে ভর্তি করেছি, এবার নিশ্চিন্ত। কিন্তু আমাদের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় সে একটির পর একটি ক্লাস উঠে যাওয়া আর অস্তিত্বে মননে সংস্কৃতবান প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠা এক নয়। আমাদের মধ্যে অনেককেই দেখি বাচ্চাদের অনর্গল হিন্দি বা ইংলিশ বলাকে চাপা গৌরবে কৌতুক করে প্রকাশ করেন। সেখানে আমরা দেখেও না দেখার ভান করি কোন অনভিপ্রেত শব্দ সে না বুঝে উচ্চারণ করছে কিনা।

বাচ্চাকে যখন স্মার্ট ফোন ছুঁড়ে দেন তখন কি চেক করেন যে সে ইউ টিউবে কি দেখছে? কি গেম সে খেলছে? সে কি আসক্ত হয়ে পড়েছে? বাচ্চাকে নিয়ে সবুজ মাঠে বা খোলা আবহে শেষ কবে গিয়েছেন? সারাদিন সে কি করল, তার অর্থহীন গল্প আগ্রহ ভরে শোনা হয় কি?

সন্তানের আগ্রহ কিসে? কোন বিষয় তাকে ভাল দিকে উদ্দীপিত করে তা জানা ও তাকে নারিশ করা উচিৎ। যদি সে আঁকতে ভালবাসে তাকে রং পেন্সিল দিয়ে বসিয়ে দিন। যদি সে নাচতে ভালবাসে, দু একটা মুদ্রা আপনিই শিখিয়ে আগ্রহ বাড়ান। যদি সে গাইতে ভালোবাসে তার সাথে সন্ধ্যেটায় গলা মিলান।

সম্ভব হলে ভর্তি করে দিন এমন কোন প্রতিষ্ঠানে যেখানে সে তার সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারে। বাসায় লাইব্রেরি থাকুক না থাকুক ছোট থাকতেই সন্তানের পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। সে বই ছিরুক। কিন্তু এই ছিঁড়তে ছিঁড়তে সে বই পড়ার একটা সুন্দর অভ্যাসে বাঁধা পড়ে যাবে।

সপ্তাহে অন্তত একদিন সবুজ পার্কে নিয়ে বাচ্চাকে ছেড়ে দিন খোলা মাঠে। ইতিহাস ভূগোল চেনান গল্পে গল্পে। কোনটা ভাল আর কোনটা খারাপ বোঝাতে হবে বাবা মাকেই। জোর করে বা শাস্তি দিয়ে খুব ভাল আর সুদূরপ্রসারি ফল পাওয়া যায় না। তাই তার, মানবিকতা, দেশীয় সংস্কৃতি, নৈতিক মূল্যবোধের পথটা চিনিয়ে দিতে পারেন ছোট থাকতেই যদি সন্তানের জন্য একটু সময় বের করতে পারেন। আমি জানি পারবেন কারণ, এই সময়টুকু আপনিও আশা করবেন সব ব্যস্ততার শেষে।

লেখক : সঙ্গীতশিল্পী, লেখক।

এইচআর/পিআর

সপ্তাহে অন্তত একদিন সবুজ পার্কে নিয়ে বাচ্চাকে ছেড়ে দিন খোলা মাঠে। ইতিহাস ভূগোল চেনান গল্পে গল্পে। কোনটা ভাল আর কোনটা খারাপ বোঝাতে হবে বাবা মাকেই। জোর করে বা শাস্তি দিয়ে খুব ভাল আর সুদূরপ্রসারি ফল পাওয়া যায় না