ঘোষণা দিয়ে হত্যা : এই ঔদ্ধত্য মানতে হবে?

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ০৪:০৮ এএম, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ০৪:০৮ এএম, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭
ঘোষণা দিয়ে হত্যা : এই ঔদ্ধত্য মানতে হবে?

বখাটের উৎপাত কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এখন শুধু উত্ত্যক্ত করেই ছাড়ছে না। বরং হত্যার মত জঘন্য অপরাধ করতেও দ্বিধা করছে না। এবং তা রীতিমত ঘোষণা দিয়ে। ভাবতেও গা শিউরে ওঠে। এমন ঘটনাই ঘটেছে সুনামগঞ্জের দিরাই পৌর শহরে। এ শহরের বাসিন্দা হুমায়রা আক্তার মুন্নীকে ঘোষণা দিয়েই হত্যা করেছে বখাটে ইয়াহিয়া (২২)। প্রেমের প্রস্তাবে প্রত্যাখ্যাত হয়ে দিনের পর দিন হুমায়রাকে উত্ত্যক্ত করছিলেন ইয়াহিয়া। এরপর গত শনিবার রাতে ঘরে ঢুকে পড়ার টেবিলেই তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান ইয়াহিয়া। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সে। এ ধরনের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না। অবিলম্বে খুনিকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতেও নিতে হবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।

humayra

গণমাধ্যমের ঘটনার যে বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। হুমায়রা ছিল দিরাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। মা রাহেলা বেগম ও ছোট ভাই মাহিদ আহমদের (৮) সঙ্গে থাকত সুনামগঞ্জের দিরাই পৌর শহরের মাদানী মহল্লার ভাড়া বাসায়। হুমায়রার বাবা ইতালিতে আছেন ছয় বছর ধরে। দিরাইয়ের কুলঞ্জ ইউনিয়নের নদগীপুরে তাঁদের গ্রামের বাড়ি। আর বখাটে ইয়াহিয়ার বাড়ি করিমপুর ইউনিয়নের সাকিতপুর গ্রামে। এক বছর ধরেই বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার সময় হুমায়রাকে উত্ত্যক্ত করছিলেন ইয়াহিয়া। পরিবার বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানালে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য ও প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতিতে গত ২৬ অক্টোবর দুই পরিবারের লোকদের নিয়ে বিদ্যালয়ে বৈঠক হয়। সেখানে হুমায়রাকে আর উত্ত্যক্ত করবেন না বলে ইয়াহিয়া লিখিত মুচলেকা দেন। কিন্তু এক সপ্তাহ ধরে আবার তাকে উত্ত্যক্ত করছিলেন তিনি।

এই ঘটনা প্রমাণ করে হুমায়রারা এখনো কতটা অনিরাপদ। ঈভটিজিং বন্ধে নানা রকম উদ্যোগ সত্ত্বেও তা থামছে না। এটা আশঙ্কার বিষয়। প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে হিংস্র হয়ে উঠছে বখাটেরা। এদের বখাটে বললেও অপরাধকে লঘু করে দেখা হবে। কার্যত এরা সভ্য সমাজের জন্য বিরাট হুমকি। এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগও জরুরি। বিশেষ করে পরিবারকে দায়িত্ব নিতে হবে। সন্তান কোথায় যাচ্ছে কি করছে- এটা খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরি। পারিবারিক অনুশাসন ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগিয়ে রাখতে হবে। আর যেন কোনো হুমায়রাকে এভাবে চলে যেতে না হয় সেজন্য সর্বাত্মক সামাজিক জাগরণ সৃষ্টি করতে হবে।

এইচআর/জেআইএম

‘প্রেমের প্রস্তাবে প্রত্যাখ্যাত হয়ে দিনের পর দিন হুমায়রাকে উত্ত্যক্ত করছিলেন ইয়াহিয়া। এরপর গত শনিবার রাতে ঘরে ঢুকে পড়ার টেবিলেই তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান ইয়াহিয়া।’