রংপুর সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু হোক

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ০২:৩৫ এএম, ২১ ডিসেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ০২:৩৭ এএম, ২১ ডিসেম্বর ২০১৭

রংপুর সিটি কর্পোরেশন (রসিক) নির্বাচন আজ। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে। এ নির্বাচনে মেয়র পদে সাতজন; ৩৩টি সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ২১১ জন এবং ১১টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ৬৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রংপুর সিটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৮৯৪ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৬ হাজার ২৫৬, মহিলা ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬৩৮ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ১৯৩। ভোটকক্ষ ১১৭৮টি।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। নির্বাচনে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরে যেতে পারেন এজন্য নির্বাচন কমিশন সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এই সিটিতে দলীয় প্রতীকে এটি প্রথম নির্বাচন হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা থেকে এ পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটায় এলাকার ভোটাররা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করাই এখন নির্বাচন কমিশনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছিল রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রথম ভোট। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা এই নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশ নেয়ায় নির্বাচন নতুন মাত্রা লাভ করেছে। আমাদের দেশে নির্বাচন একটি উৎসব। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সেটি নিশ্চিত করতে হবে যে কোনো মূল্যে।

ভোটগ্রহণকে সামনে রেখে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নির্বাচনে নিরাপত্তা বাহিনীর পাঁচ হাজার ৫০০ সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। এর মধ্যে বিজিবি ২১ প্লাটুন (৬৩০ জন), র্যাবের ৩৩ টিম (৪০০ জন), পুলিশ ও আনসার সদস্য থাকবে ৪ হাজার ৪৭০ জন। এছাড়া একজন করে নির্বাহী হাকিমের নেতৃত্বে ৩৩টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, একজন করে বিচারিক হাকিমের নেতৃত্বে ১১টি ভ্রাম্যমাণ আদালত সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ২১ প্লাটুন বিজিবি মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে মাঠে রয়েছেন। নির্বাচনের পরদিন পর্যন্ত তারা মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন।

নতুন নির্বাচন কমিশনের অধীনে এটিই প্রথম বড় কোন নির্বাচন হওয়ায় যে কোন মূল্যে সুষ্ঠু ভোটের সর্বোচ্চ আশ্বাসও দিয়েছে কমিশন। এ কারণে কমিশনের জন্য এই নির্বাচন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আর একটি নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, ভোটার ও সমর্থক-কারো ভূমিকা কম নয়। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে শেষ হোক এটিই কাম্য।

এইচআর/পিআর

নতুন নির্বাচন কমিশনের অধীনে এটিই প্রথম বড় কোন নির্বাচন হওয়ায় যে কোন মূল্যে সুষ্ঠু ভোটের সর্বোচ্চ আশ্বাসও দিয়েছে কমিশন। এ কারণে কমিশনের জন্য এই নির্বাচন একটি বড় চ্যালেঞ্জ

আপনার মতামত লিখুন :