অধিভুক্তির অভিশাপ!

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ১০:১১ এএম, ২০ জানুয়ারি ২০১৮

যেটা হতে পারতো আশীর্বাদ সেটাই এখন অভিশাপে পরিণত হয়েছে। ভাল উদ্দেশ্যের ফল হয়েছে উল্টো। যার কারণে ভুগতে হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত সাত কলেজের হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের। এমনকি দাবি আদায়ের জন্য তাদের রাজপথেও নামতে হচ্ছে। খেতে হচ্ছে পুলিশের লাঠিপেটাও। অথচ এমনটি হওয়ার কথা ছিল না।

সেশনজট কমাতে জাতীয় বিশ্বদ্যিালয়ের অন্তর্ভুক্ত সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। কিন্তু নানা জটিলতায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে কলেজগুলোর। সময়মত পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ কোনোটিই হচ্ছে না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা কলেজগুলোতে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা শেষ হয়ে গেছে। অথচ ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজের এখনো পরীক্ষার তারিখই নির্ধারিত হয়নি। এরচেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা আবারো আন্দোলনে নেমেছে । অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষার ফল প্রকাশের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত সরকারি ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো- অনার্স ২০১৪-১৫ সেশনের দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার ফলাফল জানুয়ারির মধ্যে প্রকাশ, অনার্স ২০১৪-১৫ সেশনের তৃতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা মার্চের মধ্যেই শুরু করতে হবে, অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ করতে হবে, অনার্স ২০১২-১৩ সেশনসহ সকল সেশনের পরীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন করা, ডিগ্রির সকল সেশনের আটকে থাকা পরীক্ষা ও পরীক্ষার ফলাফল দ্রুত প্রকাশ করা।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২০ জুলাই অধিভুক্ত সাতটি কলেজের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার দাবিতে শাহবাগে অবস্থান নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিপেটা ও কাঁদুনে গ্যাসের শেল ছোড়ে। সে সময় শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশি নৃশংসতায় চোখ হারিয়েছেন তিতুমীর কলেজের ছাত্র সিদ্দিকুর রহমান।
এ অচলাবস্থা চলতে থাকলে পরিস্থিতি যে আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠবে না এর কোনো গ্যারান্টি নেই। তারচেয়ে বড় কথা হচ্ছে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন পিছিয়ে যাচ্ছে। অধিভুক্তি নিয়ে নানা রকম কথাও শোনা যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল ছাত্র অধিভুক্তির বিরোধিতা করে রাস্তা অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে। এ নিয়েও উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করছে। শিলপাটায় ঘষাঘষির মধ্যে পড়ে শিক্ষা জীবনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থীদের।

বেকারত্বের এদেশে পাস করলেই যেখানে চাকরি মিলছে না সেখানে শিক্ষা জীবন শেষ করতেই যদি অনেক সময় লেগে যায় সেটি হবে আরো দুঃখজনক। এ কারণে ঢাবি কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। এ নিয়ে একে অপরের দোষ দেয়া বা কারো সাথে রশিটানাটানিরও সুযোগ নেই। কোনো অবস্থায়ই যেন অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশসহ সময়মত পরীক্ষা নেয়া ও ফলপ্রকাশের বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের রাজপথে নেমে যেন জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী কোনো কর্মসূচি দিতে না হয় নিশ্চিত করতে হবে সেটিও। অধিভুক্তি অভিশাপ না হয়ে আশীর্বাদ হয়ে উঠুক-এটিই প্রত্যাশা।

এইচআর/এমএস

‘কোনো অবস্থায়ই যেন অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশসহ সময়মত পরীক্ষা নেয়া ও ফলপ্রকাশের বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :