কোটা সংস্কার বনাম সরকার পতন আন্দোলন

তানভীর আহমেদ
তানভীর আহমেদ তানভীর আহমেদ , লন্ডন প্রবাসী সাংবাদিক
প্রকাশিত: ১০:১৬ এএম, ১০ জুলাই ২০১৮

গেলো সপ্তাহজুড়ে দুইটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। প্রথমটি কোটা আন্দোলনে সম্পৃক্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রীকে লাঞ্ছিত করার দৃশ্য, দ্বিতীয়টি হাতুড়ি দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটাবিরোধী এক ছাত্রের মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙ্গে দেওয়ার দৃশ্য। উভয় ঘটনার সাথে ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার অভিযোগ এসেছে।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর মন্তব্য করেছেন, "কোটা আন্দোলনকারীদের সাথে জঙ্গীবাদের সাদৃশ্য রয়েছে।" এছাড়াও ইতিপূর্বে কোটা আন্দোলনে শিক্ষকদের সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য লন্ডন থেকে যে নির্দেশনা গেছে সেই টেলিফোন সংলাপও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে আমাদের জানতে বাকি নেই।

শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা বন্ধে মাঠে নেমেছেন শিক্ষকরা। কোটা আন্দোলনের পক্ষে বিপক্ষে জাতি এখন বিভক্ত হয়ে পড়েছে। কিন্তু দুইটি প্রধান রাজনৈতিক দলের ইচ্ছে অনিচ্ছা ছাড়াও সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি দাবি নিয়ে যৌক্তিক আলোচনা বা বিশ্লেষণ হওয়ার সুযোগটি যে থাকা প্রয়োজন সেটি এখন গৌণ হয়ে পড়েছে, মুখ্য আলোচনা এখন এই আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক শক্তির মদদ ও ছাত্রলীগের হাতুড়ি সন্ত্রাস।

ক্ষমতাসীনদের একটি পক্ষ মনে করছে, কোটা আন্দোলনের পেছনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মদদ রয়েছে, কেননা কোটা আন্দোলনের সূত্রপাত করে জামায়াতে ইসলামী ১৯৯৪ সালে। মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের কোটার বিরোধিতা করেই তাদের আন্দোলনের যাত্রা শুরু হয়েছিলো। পুরাতন আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয়েছে তরুণদের বেকারত্বের হতাশা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী রাষ্ট্রের যেখানে ৬১ শতাংশ চাকরিই ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের অধীনে, সেখানে মাত্র ৪ শতাংশ সরকারি চাকরির কোটা সংস্কারের জন্য এতো বিপ্লব হওয়ার পেছনের কারণ বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বৈকি। আন্দোলন চাঙ্গা করতে সরকার বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির অর্থের যোগান দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, অন্যদিকে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো মনে করেছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোটা আন্দোলনকারীদের ক্ষেপিয়ে দিতে পারলেই রাজনীতির মাঠ গরম করে সরকার পতনের আন্দোলন ত্বরান্বিত করা যাবে।

সেই বিবেচনায় নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীনরা যে কোন অজুহাতে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে মাঠ গরম করতে দেবে না এটাই বাস্তবতা। আন্দোলন দমনের নামে একজন শিক্ষার্থী আরেকজনের কোমর ভেঙ্গে দিচ্ছে হাতুড়ি দিয়ে, কী ভয়ঙ্কর সেই দৃশ্য! আমি বিশ্বাস করি, ছাত্রলীগের মনে হয়েছে এই শিক্ষার্থীদের দমানো না গেলে যে কোন সময় এই আন্দোলন সরকার পতন আন্দোলনে রূপ নিতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দমাতে না পারলে দায়ভারটিও সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছাত্র সংগঠনের নেতাদের ওপরে এসেই পড়বে। তবে হাতুড়ি হাতে শিক্ষার্থীর মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দেওয়ার দৃশ্য জাতীর বিবেকের মেরুদণ্ডে আঘাত দিয়েছে। আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের হয়ত রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে, কিন্তু কোন মা বাবা বা শিক্ষক যখন দেখেন তার সন্তানেরা এভাবে আক্রান্ত হয়েছে, তখন তিনি নিজের শিরদাঁড়া সোজা করে, সকল রাজনৈতিক পক্ষ উপেক্ষা করে রাজপথে নামবেন, এটাই স্বাভাবিক।

এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায় আসলে কী? কোটা পদ্ধতির সংস্কার নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে ভিন্নমত থাকতে পারে, প্রয়োজনে সেটি সংস্কার হতে পারে। ইতিমধ্যে প্রজ্ঞাপনও জারি হয়েছে। কমিটিকে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কিন্ত দাবি আদায়ের কি আমাদের কাছে সহজ কোন মাধ্যম নেই?

কিছু হলেই তরুণদের দাবি আদায়ে শাহবাগে চলে যেতে হবে? আর শাহবাগে জড়ো হওয়া মানেই কি সরকার পতন আন্দোলনের জুজুর ভয়? বিরোধী রাজনৈতিক দল গুলো এতটাই দেউলিয়া হয়ে গেছে যে, যে কোন আন্দোলনকে তারা সরকার পতন আন্দোলনে রুপ দিতে চায়!

কোটা সংস্কারের আন্দোলন যৌক্তিক নাকি অযৌক্তিক সেই বিতর্ক না গিয়ে আজকের লেখায় গুরুত্ব দিতে চাই, দাবি আদায়ে সহিংসতা এড়ানোর কৌশলে। যে কোন আন্দোলন বা দাবি আদায়ে একটি সাংবিধানিক কাঠামো জরুরি হয়ে উঠেছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সামনের দিনগুলোতে সহিংসতা এড়াতে এই কাঠামোই আমাদের সহায়তা করবে।

শাহবাগকেন্দ্রিক আন্দোলনের সংস্কৃতি হয়তো ২৪ ঘন্টার সংবাদভিত্তিক টেলিভিশনের জন্য লাইভ সংবাদ কিংবা ফেসবুকে আলোচনার খোরাক হতে পারে, কিন্ত দিনশেষে দাবি আদায়ের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠা মোটেও শুভ লক্ষণ নয়। অনুমতি না নিয়ে দিনের পর দিন রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন, যেকোন ছুঁতোয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যম্পাসে অগ্নি সংযোগ, শুক্রবার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেইট থেকে দাবি আদায়ের মিছিল, গভীর রাতে শাপলা চত্ত্বর দখলে নিয়ে আন্দোলন এই সবকিছুই একটা গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা খুব জরুরি।

রাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে যদি এমন ভাবনা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় শাহবাগে গিয়ে মিছিল না করলে দাবি আদায় হবে না, ভিসির বাড়িতে আগুন না দিলে সংবাদ শিরোনাম হবে না, তাহলে ক্ষতিটা মোটা দাগে রাষ্ট্রের জনগণের ওপর দিয়েই যাবে। পুলিশের লাঠির আঘাতও খাবে সাধারণ শিক্ষার্থী, ছাত্রলীগের হাতুড়িপেটার কবলেও পড়বে সাধারণ শিক্ষার্থী। ভাংচুর, অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত হবে জনগণের করের টাকায় গড়া রাষ্ট্রীয় স্থাপনা, সড়কপথের মাঝে সৌন্দর্যবর্ধক বৃক্ষরাজি আর মধ্যবিত্তের ধারের টাকায় কেনা রিকন্ডিশন্ড গাড়ি।

যুক্তি উত্থাপিত হতে পারে, ভাংচুর না করলে যেমন সরকার বাহাদুরের টনক নড়েনা তেমনি জ্বালাও পোড়াও না হলে সংবাদ শিরোনামও হয় না। তাই দাবি আদায়ে শাহবাগে জড়ো হওয়ার বিকল্প নেই। কিন্তু আধুনিক সভ্য রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে আমরা দাবি আদায়ে পরিচ্ছন্ন পথের দিকেই এগোতে হবে।

ব্রিটেন ও আমেরিকায় দাবি আদায়ের জন্য একটি সাংবিধানিক কাঠামো রয়েছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, রাজনৈতিক দলগুলো যদি আসন্ন নির্বাচনে তাদের ইশতেহারে এই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে, তাহলে সামনের দিনগুলোতে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও মত প্রকাশের অধিকারকে যেমন গুরুত্ব দেওয়া হবে তেমনি সহিংসতা এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে জনগণের দাবির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করার একটি সাংবিধানিক কাঠামো দাঁড় করানো সম্ভব হবে।

ইংল্যান্ডে অনলাইন পিটিশনের একটি সাংবিধানিক কাঠামো রয়েছে হাউজ অব কমন্সে। যদি কোন অনলাইন পিটিশনে ১০ হাজার স্বাক্ষর জমা পড়ে তাহলে সরকারের তরফ থেকে সেই পিটিশনের জবাব দেওয়া হয়। যদি ১ লক্ষ স্বাক্ষর জমা পড়ে তাহলে সেই আবেদনটি পার্লামেন্টে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয় হয়। প্রতিটি পিটিশনে স্বাক্ষর করার মেয়াদ থাকে ৬ মাস।

এই পদ্ধতিটি যদি বাংলাদেশে শুরু করা যায় তাহলে যে কোন আন্দোলনে সহিংসতা যেমন এড়ানো সম্ভব হবে তেমনি জনগণও তাদের দাবি আদায়ে একটি গ্রহণযোগ্য সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে। বাংলাদেশে পিটিশন জমা দেওয়ার সংস্কৃতি থাকলেও এই পিটিশনে জবাব দেওয়া বা সংসদে আলোচনা হওয়ার কোন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নাই, তাই গণস্বাক্ষর কর্মসূচির ইস্যুগুলো নীতি নির্ধারকরা তেমন গুরুত্ব দিয়ে সংসদে আলোচনা করেন না।

এই অনলাইন পিটিশনকে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসলে বিশাল জনগোষ্ঠির ইমেইল আইডি ও ঠিকানা হয়ে উঠতে পারে রাষ্ট্রযন্ত্রের জন্য অনেক বড় তথ্যভাণ্ডার। আমার কাছে প্রায়ই হোয়াইট হাউজ আর চেইঞ্জ ডট অর্গ থেকে ইমেইল আসে। হোয়াইট হাউজ থেকে আসার কারণ হলো আমি কোন এক সময় হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের কোন পিটিশনে স্বাক্ষর করেছিলাম। স্বাক্ষরের সময় সেখানে আমার ইমেইল এড্রেস দিয়েছিলাম। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নাগরিকদের জন্য নেওয়া যে কোন সিদ্ধান্ত, আলোচনার খবরাখবর প্রচারের জন্য হোয়াইট হাউজ, নাগরিকদের পিটিশনে দাখিল করা ডেটাবেইজের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়।

বাংলাদেশে বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৮ কোটি। অনলাইন পিটিশন পদ্ধতিটি রাষ্ট্রীয়ভাবে চালু করলে সরকারের সাফল্য বা জাতীয় স্বার্থে যেকোন পাবলিক কন্সালটেশনও ইমেইলের মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে জানানো সম্ভব হতে পারে। এখন সরকারের যাবতীয় তথ্য আমরা গণমাধ্যমের কল্যাণে জানি, কখনো সেই তথ্য আওয়ামী লীগের পেজে, কখনো প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ফেসবুকে কিংবা দায়িত্বশীল মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বা নেতাকর্মীদের ফেসবুক পেজের মাধ্যমে। কিন্তু জাতীয় সংসদের ওয়েবপেজে যদি একটি পাবলিক পিটিশন জমা দেওয়ার পদ্ধতি ও জবাব দেওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকত, তাহলে যে কোন দাবিকে গণতান্ত্রিক উপায়ে আলোচনা এবং বিশ্লেষণের মাধ্যমে গ্রহণ ও বর্জনের সুযোগ তৈরি হতো। তবে এই অনলাইন পিটিশন চালু করার আইনি বাধ্যবাধকতার অর্থ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথ রুদ্ধ করে দেওয়া নয়।

মেট্রোপলিটন পুলিশ ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরকেও রাষ্ট্রীয় স্পর্শকাতর স্থানে মিছিল করার জন্য ইন্স্যুরেন্স পলিসি ও আর্থিক প্রতিশ্রুতি প্রদানকারী জিম্মাদারের বিস্তারিত রেখে সভা সমাবেশের অনুমতি দিতে হবে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে বা ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সামনে প্রায় প্রতিদিন প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। বিক্ষোভ সমাবেশ হয় ট্রাফালগার স্কয়ারেও। কিন্তু সমাবেশ শেষে সহিংসতার ঘটনা ঘটে খুব কম। কারণ জায়গাভেদে এই সমাবেশস্থলে কতজন পাবলিক জড়ো হয়ে সমাবেশ করতে পারবে তার তালিকা দিতে হয় আয়োজকদের।

সমাবেশ আয়োজনকারীদের সেই তালিকা ধরে ইন্স্যুরেন্স পলিসি বা ক্ষয়ক্ষতি হলে আর্থিক জরিমানার নিশ্চয়তা দিয়েই সমাবেশের অনুমতি নিয়ে থাকেন। আমি নিশ্চিত, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঢাকায় ইন্স্যুরেন্স পলিসি ছাড়াই সভা সমাবেশের অনুমতি দিয়ে থাকেন। যদি ইন্স্যুরেন্স পলিসি থাকত, মোটা অংকের আর্থিক পলিসির বাধ্যবাধকতা থাকত, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সমাবেশ করার আগে যে কোন সহিংসতা হলে আয়োজকদের আর্থিক দণ্ড পরিশোধ করার চাপটি থাকত।

সবকিছুতেই আরব বসন্তের গন্ধ খোঁজা গণতন্ত্র নয়। গণতন্ত্রের নামে রাষ্ট্রের নাগরিক জীবন বিপর্যস্ত করে ফেলার অধিকার রাষ্ট্র আমাদের দেয়নি। জনগণের যৌক্তিক দাবি সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করাই কার্যকর গণতন্ত্র।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট, যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি একাত্তর টেলিভিশন।

এইচআর/জেআইএম

‘ইংল্যান্ডে অনলাইন পিটিশনের একটি সাংবিধানিক কাঠামো রয়েছে হাউজ অব কমন্সে। যদি কোন অনলাইন পিটিশনে ১০ হাজার স্বাক্ষর জমা পড়ে তাহলে সরকারের তরফ থেকে সেই পিটিশনের জবাব দেওয়া হয়। যদি ১ লক্ষ স্বাক্ষর জমা পড়ে তাহলে সেই আবেদনটি পার্লামেন্টে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয় হয়। প্রতিটি পিটিশনে স্বাক্ষর করার মেয়াদ থাকে ৬ মাস।’

আপনার মতামত লিখুন :