বাউনিয়া খাল বাঁচান

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ১০:০৭ এএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

রাজধানী এবং এর আশপাশের নদী-খালগুলোর দখল দূষণ বন্ধ হচ্ছে না। দখল দূষণের বিরুদ্ধে মাঝে মধ্যে কিছু অভিযান এবং সামান্য জেল-জরিমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে সবকিছু। অথচ পরিবেশ সচেতনতার এই যুগে নদী-খালের দখল দূষণ বন্ধ এবং যথাযথভাবে তা রক্ষা করা সময়ের দাবি। এবার বাউনিয়া খাল দখলের অভিযোগ উঠেছে খোদ সরকারি দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। সর্ষের মধ্যে যদি ভূত থাকে তাহলে ভূত তাড়ানোর উপায় কি?

মিরপুর-১৪ নম্বর বাসস্ট্যান্ডের পাশ থেকে বাউনিয়া খালের শুরু। প্রায় আট কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ খালের মিরপুর-১৪ নম্বর থেকে জয়নগর পর্যন্ত এক হাজার ১৮২ মিটারের মতো অংশের মালিক জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। বাকিটুকুর মালিক ঢাকা ওয়াসা। ওয়াসার হিসাবে, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খালটির প্রস্থ হওয়ার কথা ৬০ ফুট। তবে খালটি দখল করে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ‘জয়নগর প্রকল্প’ ও ভূমি মন্ত্রণালয়- ‘ভাষানটেক প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করছে।

বাসস্ট্যান্ডের পাশে ওয়াসার পানির পাম্পের পেছন থেকে সামনে বাগানবাড়ী বস্তির শেষ পর্যন্ত খালের দুই পাড় বাঁধাই করা। পুলিশস্টাফ কলেজের পেছনে সারি সারি টংঘর। এরপরই ভাষানটেক পুনর্বাসন প্রকল্প (বিআরপি)। বিপরীত পাশে রূপসী প্রো-অ্যাকটিভ ভিলেজ আবাসন প্রকল্প। দুই প্রকল্পের মাঝে কমেছে খালের প্রশস্ততা। খাল দখলের ফলে একটু বৃষ্টি হলেই মিরপুরের রাস্তাঘাটে পানি জমে যায়।

নদী-খাল দখল দূষণ দেশে নতুন কোনো ঘটনা নয়। ‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতিতে যে যেভাবে পারে এই দখলদারিত্ব চালিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে সব শেয়ালের এক রা। প্রশাসনও এসব ক্ষেত্রে অনেক সময় নির্বিকার ভূমিকা পালন করে। অনেক ক্ষেত্রে দখলদাররা এতটা প্রভাবশালী থাকে যে তারা, আইন প্রশাসন সবকিছুকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়। অথচ নদ-নদী টিকে থাকার সঙ্গে বলা যায় বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক অস্তিত্বের সম্পর্ক জড়িত। কাজেই যে কোনো মূল্যে নদীগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

ইতোপূর্বে ঢাকার চারপাশের নদী বাঁচানোর জন্য হাইকোর্টকে পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। কিন্তু দখল বন্ধ হচ্ছে না। বাউনিয়া খালের ব্যাপারেও মামলা রয়েছে। একদিকে উচ্ছেদ অভিযান চলে অন্যদিকে নতুন করে দখল হয়। এই সাপলুডু খেলায় শেষ পর্যন্ত জয়ী হয় দখলকারীরাই। অথচ নদী দখল বন্ধ করতে না পারলে এর পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। পরিবেশ সচেতনতার এ যুগে নদীর অপমৃত্যু হবে আর সকলে চেয়ে চেয়ে দেখবে এটা হতে পারে না। দখলকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ছাড়া নদী দখল বন্ধ করা যাবে না। নদী দখলে একটি দুষ্টচক্র অত্যন্ত ক্রিয়াশীল। এ চক্র ভাঙতে হবে। প্রশাসনের কোন গাফিলতি থাকলে সে ব্যাপারেও ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা নদীমাতৃক বাংলাদেশকে তার আপন মহিমায় দেখতে চাই।

এইচআর/এমএস

‘নদী-খাল দখল দূষণ দেশে নতুন কোনো ঘটনা নয়। ‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতিতে যে যেভাবে পারে এই দখলদারিত্ব চালিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে সব শেয়ালের এক রা। প্রশাসনও এসব ক্ষেত্রে অনেক সময় নির্বিকার ভূমিকা পালন করে। অনেক ক্ষেত্রে দখলদাররা এতটা প্রভাবশালী থাকে যে তারা, আইন প্রশাসন সবকিছুকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়। অথচ নদ-নদী টিকে থাকার সঙ্গে বলা যায় বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক অস্তিত্বের সম্পর্ক জড়িত। কাজেই যে কোনো মূল্যে নদীগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :