দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ১০:০৬ এএম, ১২ অক্টোবর ২০১৮

 

মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন দেওয়ার নাম করে মানুষকে প্রতারণা করার অভিযোগে একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত বুধবার দিবাগত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ ধরনের আটকের ঘটনা স্বস্তির। প্রশ্নফাঁসের মত গুরুতর অপরাধের সাথে জড়িতদের কোনো ছাড় নেই। এদের বিরুদ্ধে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রাখতে হবে। নস্যাৎ করে দিতে হবে প্রশ্নফাঁসের যে কোনো অপতৎপরতাকে।

প্রশ্নফাঁস একটি ব্যাধির রূপ ধারণ করেছিল। গত চার বছরে পাবলিক পরীক্ষায় ৬৩টি প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় গোটা শিক্ষাব্যবস্থা হুমকিগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। নানা রকম উদ্যোগ স্বত্ত্বেও প্রশ্ন ফাঁস ঠেকানো যাচ্ছিল না। বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা থেকে শুরু করে চাকরির প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নও ফাঁস হচ্ছিল। আশার কথা হচ্ছে অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।

এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে প্রশ্নফাঁসকারী একাধিক চক্র বিরাজমান। তারা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করে। তারা প্রযুক্তির অপব্যবহার করেও প্রশ্ন ফাঁস করছে। এদের পেছনে শক্তিশালী হাত থাকাও অসম্ভব কোনো ব্যাপার নয়। অভিযোগ আছে সর্ষের ভেতরেই রয়েছে ভূত। নাহলে এই চক্রকে কেন সামাল দেয়া যাচ্ছে না।

ঘটছে নৈতিক অবক্ষয়ও। শিক্ষক, অভিভাবক, কর্মকর্তা-কর্মচারী- সবাই প্রশ্নফাঁসে জড়িয়ে পড়েছেন। এটা ভাবা যায়! প্রশ্নফাঁসের কারণে দেখা দিচ্ছে বিশৃঙ্খলা। পরীক্ষার্থীরা নানা রকম গুজবে কান দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অভিভাবকরাও যার পর নাই চিন্তিত। এ অবস্থায় যে কোনো মূল্যে প্রশ্ন ফাঁস রোধ করতে হবে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধানসহ আইন রয়েছে। কিন্তু সেই আইনে কারো সাজা হয়েছে এমন নজির মেলা ভার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ভর্তি জালিয়াতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে সম্প্রতি ১৫ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালন ছাড়া সমাজে আইন প্রতিষ্ঠা কঠিন। যত ব্যবস্থার কথাই বলা হোক না কেন অপরাধীর শাস্তি না হলে কোনো অবস্থায়ই অপরাধ বন্ধ করা যাবে না। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে সর্ষের ভেতরের ভূত আগে তাড়াতে হবে।

অভ্যন্তরীণ কোনো সহযোগিতা ছাড়া প্রশ্নফাঁস অসম্ভব ব্যাপার। এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রশ্নফাঁস রোধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। প্রশ্নফাঁস চক্রের হোতাদের খুঁজে বের করতে হবে। কোনো অবস্থায়ই যেন প্রশ্নফাঁস হতে না পারে সেটি নিশ্চিত করতে হবে যে কোনো মূল্যে।

এইচআর/এমএস

‘প্রশ্নফাঁস একটি ব্যাধির রূপ ধারণ করেছিল। গত চার বছরে পাবলিক পরীক্ষায় ৬৩টি প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় গোটা শিক্ষাব্যবস্থা হুমকিগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। নানা রকম উদ্যোগ স্বত্ত্বেও প্রশ্ন ফাঁস ঠেকানো যাচ্ছিল না। বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা থেকে শুরু করে চাকরির প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নও ফাঁস হচ্ছিল। আশার কথা হচ্ছে অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।’

আপনার মতামত লিখুন :