জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়: হাজারো বীণার সুর

সম্পাদকীয় ডেস্ক সম্পাদকীয় ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:২০ পিএম, ১২ জানুয়ারি ২০১৯

আহমেদ সুমন

আজ ১২ জানুয়ারি ২০১৯, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ২০০১ সাল থেকে এ দিনটিকে কর্তৃপক্ষ ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ হিসেবে পালন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস নিয়ে আজকের নিবন্ধ লেখার প্রারম্ভে এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস খানিকটা হলেও তুলে ধরা প্রয়োজন বলে মনে করছি।

আমরা জানি, ইংরেজ শাসনামলেই পূর্ববাংলায় একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের দাবি ক্রমশঃ জোরালো হয়ে উঠে। ১৯১১ সালের ডিসেম্বর মাসে বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্ত বাতিল ঘোষিত হবার পরে অখÐ ভারতের প্রধান প্রশাসক লর্ড হার্ডিঞ্জ ঢাকা সফরে আসেন। এ সময় নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহসহ আরো অনেকে পূর্ববাংলার মানুষের জন্য একটা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের দাবি জানান। ইংরেজ সরকার উপর্যুপরি দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে।

১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান ও ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করে। তখন পূর্ববাংলার নাম হয় পূর্ব পাকিস্তান। ১৯২১ সাল থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ঢাকা, রাজশাহী, কৃষি, প্রকৌশল ও চট্টগ্রাম বিশ্বিবিদ্যালয় স্থাপিত হলেও পূর্ব পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষার চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকার কাছাকাছি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ঢাকার অদূরে গাজীপুর জেলার সালনায়। কিন্তু নানা কারণে শেষ পর্যন্ত ১৯৬৭ সালে ঢাকা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে সাভার এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নতুন স্থান নির্বাচন করা হয়।

সাভারের ওপর দিয়ে চলে গেছে এশিয়ান হাইওয়ে। এই মহাসড়কের পশ্চিমপাশে নির্ধারণ করা হয় নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার স্থান। এর পাশে বর্তমানে রয়েছে ডেইরি ফার্ম, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সাভার সেনানিবাস ও জাতীয় স্মৃতিসৌধ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প প্রধান হিসেবে ড. সুরত আলী খানকে নিয়োগ করা হয়। ১৯৭০ সালের ২০ আগস্ট পূর্ব পাকিস্তান সরকার এক অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে এ নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম রাখে ‘জাহাঙ্গীরনগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়’।

১৯৭০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসাবে যোগদান করেন বিশিষ্ট রসায়নবিদ অধ্যাপক ড. মফিজউদ্দিন আহমদ। ১৯৭১ সালের ১২ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর রিয়ার এ্যাডমিরাল এস এম আহসান আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জাহাঙ্গীরনগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়’-এর উদ্বোধন করেন। তবে এর আগেই ৪ জানুয়ারি অর্থনীতি, ভূগোল, গণিত ও পরিসংখ্যান বিভাগে ক্লাশ শুরু হয়। প্রথম ব্যাচে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ছিলো ১৫০ জন। স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৯৭৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় এ্যাক্ট পাশ করা হয়। এই অ্যাক্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম রাখা হয় ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়’।

৬৯৭.৫৬ একর ভূমির ওপর প্রতিষ্ঠিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৫টি অনুষদের অধীনে ৩৩টি বিভাগ চালু আছে। এছাড়া ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইআইটি), ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ-জেইউ), বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউট, ইনস্টিটিউট অব রিমোট সেন্সিং ও ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। আবাসিক হল ১৬টি। ছাত্রছাত্রী সংখ্যা প্রায় ১৬ হাজার।

স্বাধীনতার সমান বয়সী এ বিশ্ববিদ্যালয়ে সূচনাকালেই সাংবাদিক সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়। ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি’ নামে ছাত্র সাংবাদিকদের এই সংগঠনটি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম। গণমাধ্যম বিশেষত সংবাদপত্রে আমরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা ধরনের খবর লক্ষ করি। এসব খবরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক, গবেষকদের অর্জন ও সাফল্যের খবরের পাশাপাশি বিভিন্ন সমস্যা, অনিয়ম নিয়ে নেতিবাচক খবরও লক্ষ করি। মূলত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাংবাদিকগণই এসব খবর প্রেরণ করেন।

সাম্প্রতিককালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম শুনলে অনেকে মনে করেন যে, আন্দোলনের বিশ্ববিদ্যালয়। বিগত এক দশকের পরিচিতি এমনই। এই মনে করাটা যে পুরোপুরি সঠিক কিংবা সঠিক নয়, তাও নয়। একথা তো সত্য যে আন্দোলন সেখানে হয়, যেখানে সচেতন মানুষের সংখ্যা বেশি থাকে। যে কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে তারা সেখানে সোচ্চার হন। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অনুশীলনও সেখানে বিদ্যমান থাকতে হয়। নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে আন্দোলন হলে সেখানে নিয়ম-নীতির চর্চা ভালো হয় এবং প্রশাসনে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বজায় থাকে।

এসব বিষয় বিবেচনায় বলা যায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অপরাপর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক উৎকর্ষের মানদন্ডে বরং অগ্রগামী। ‘ভালো কিছু খবর নয়, খারাপ কিছু খবর’- গণমাধ্যমগুলোর সংবাদমূল্যের এই মানদন্ডে হয়তো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ভালো কীর্তি সংবাদপত্রে স্থান পায় না। শিক্ষক নিয়োগে কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রথমজনকে না নিয়ে পরের দিকের কাউকে নেয়া হলে সেই খবরটি সংবাদপত্রে গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হলেও আমরা লক্ষ করি বিশ্ববিদ্যালয় বা অনুষদের মধ্যে রেকর্ড নম্বরধারীকে নিয়োগ দেয়া হলে সেই খবরটি সংবাদপত্রে উপেক্ষিত থাকে। ভালো কিছুর প্রতি পাঠকের আগ্রহ কম এবং নেতিবাচক ঘটনার প্রতি পাঠকের আগ্রহ বেশি- এমন ধারণা থেকে এমনটি ঘটছে বলে আমরা জেনে আসছি।

ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতির বিভিন্ন গোষ্ঠি, দ্বন্দ্ব, কোন্দল এবং তাদের কার্যকলাপ নিয়ে খবরা-খবরও আমরা লক্ষ করি। পরীক্ষার ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রিতার খবর লক্ষ করি বটে, তবে দ্রুত ফল প্রকাশের ঘটনা খবর হতে দেখি না। শিক্ষকদের মধ্যে কেউ কেউ উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশ গিয়ে না ফিরলে তাকে নিয়ে আমরা অনেক খবর হতে দেখি। কিন্তু যিনি বিশ্বমানের ভালো গবেষণা করে ফিরেছেন, তাকে নিয়ে খবর হতে দেখি না। যেসব প্রতিষ্ঠানের নামে অনাচার, অনিয়মের খবর সংবাদপত্রে আসে না, এমন ভাববার কারণ নেই যে, সেখানে এমন কিছু ঘটে না। জগৎ সংসারে ভালো-মন্দ কম-বেশি সব জায়গাতেই ঘটে। এক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠানের খবর গণমাধ্যমে আসে, আবার কোনোটির হয়তো আসে না।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছরে এ প্রতিষ্ঠানের অর্জন অনেক। সাফল্য এবং শৌর্যে এগিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অভিনবত্ব’ অনেক বেশি। গণমাধ্যমে নেতিবাচক সংবাদের গুরুত্ব বেশি হলে সমাজকে ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে প্রবাহমানতায় সহায়ক হয় না-এমন মন্তব্য বোধকরি অগ্রাহ্য করা যায় না। এসত্ত্বেও আমরা বলতে পারি যে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে নেতিবাচক খবর আমরা সংবাদপত্রে লক্ষ করলেও প্রকৃত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দীপ্তিময়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তবুদ্ধি এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চার ঋদ্ধতায় দেশ-জাতির সমৃদ্ধ হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আমরা যদি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য এবং অভিনবত্ব তুলে ধরার প্রয়াস গ্রহণ করি, তাহলে দেখতে পাই যে, প্রাকৃতিক জলাধার এবং অতিথি পাখির অভয়ারণ্য প্রতিষ্ঠায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনন্য। পাখিমেলা এবং প্রজাপতি মেলা আয়োজনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অনন্য কীর্তি দেশজুড়ে সমাদৃত। বাংলাদেশে এ দুটি মেলা এখানেই প্রথম চালু হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের আয়োজনে বিপন্নপ্রায় বণ্যপ্রাণি সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং প্রজাপতি পার্ক স্থাপন করে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান দেশ-বিদেশে প্রশংসা লাভ করেছে।

বিপন্নপ্রায় বণ্যপ্রাণি সংরক্ষণ কেন্দ্রের পরিচালক প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা ফিরোজ পরিবেশের প্রতি অবদান স্বরূপ জাতীয় পরিবেশ পদক অর্জন করেছেন। প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অপর অধ্যাপক ড. মনোয়ার হোসেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রজাপতি সংগ্রহ করে সেসব প্রজাপতির নামকরণ করেছেন, যা অনন্য। ১৯৯৮ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা লাঠি হাতে ছাত্র হলে প্রবেশ করে যৌন নিপীড়নে অভিযুক্ত ছাত্রদের ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করার অনন্য নজির স্থাপন করেছে। মহামান্য হাইকোর্টের নিদের্শনার আলোকে দেশের মধ্যে প্রথম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েই ‘যৌন নিপীড়ন বিরোধী অভিযোগ সেল’ গঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশে পুতুল নাচের ইতিহাস, ঐতিহ্য নিয়ে গবেষণার জন্য পুতুল নাট্য গবেষণা কেন্দ্র জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম খোলা হয়েছে। বিশেষ চহিদা সম্পন্ন শিশুকিশোরদের জন্য আনন্দশালা নামে একটি স্কুল বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েই প্রথম খোলা হয়েছে। যেখানে-সেখানে ময়লা আবর্জনার ভাগার না দিয়ে ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করে তা থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপন্ন করার অনন্য নজির স্থাপন করে এ প্রকল্পের পরিচালক পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. খবির উদ্দিন রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত ‘পরিবেশ পুরস্কার’ লাভ করেছেন। অধ্যাপক ড. খবির উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে পানি শোধনাগার নির্মাণ করেছেন, যা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম।

নতুনত্বের আরো দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম এ বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য পদে যোগদানের মধ্যদিয়ে। বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম নারী উপাচার্য। এখানে বিশ্বমানের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র’ নির্মাণের মাধ্যমে বিজ্ঞান চর্চার অনন্য নজির স্থাপন করা হয়েছে। এ গবেষণা কেন্দ্রে বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত প্রাণিবিদ্যা বিভাগের গবেষণাগারে কীটপতঙ্গের জীনের বারকোডিং করা হচ্ছে, যা দেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মধ্যে প্রথম।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মুক্তমঞ্চ’ বাংলাদেশ তো বটেই, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে প্রথম, যা উপাচার্য অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকের সময়ে তৈরি করা হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের সাংস্কতিক রাজধানী বলা হয়। ১৯৮০ সালে সেলিম আল দীন রচিত ‘শকুন্তলা’ নাটক মঞ্চায়নের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক রাজধানীর তীর্থস্থান খ্যাত এই মুক্তমঞ্চের যাত্রা শুরু হয়। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন নেত্রী প্রীতিলতার নামে হলের নামকরণ, ভাষা আন্দোলনের স্মারক ভাস্কর্য ‘অমর একুশ’ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ভাস্কর্য ‘সংশপ্তক’ ভাষা শহীদ সালাম বরকত ও রফিক জব্বারের নামে হলের নামকরণ, জাতির জনকের নামে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ নামে হলের নামকরণ, জাহানারা ইমামের নামে ছাত্রী হলের নামকরণ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নামে ছাত্রী হলের নামকরণ, জাতির জনকের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে ছাত্রী হলের নামকরণ, নারী জাগরণের অন্যতম পথিকৃত কবি সুফিয়া কামাল নামে হলের নামকরণ, বঙ্গবন্ধুর প্রেরণাদানকারী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব নামে ছাত্রী হলের নামকরণের মধ্যদিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।

বর্তমান সরকার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত এ অর্থের কাজ সম্পন্ন হলে বিশ^বিদ্যালয় আমুল বদলে যাবে। সেসব খবর সংবাদপত্রে অবশ্য অল্পস্বল্প এসেছে। পাশাপাশি এখানে আরো উল্লেখ করতে চাই যে, নতুনত্ব ও অভিনভত্বের আরো অনেক দিক গণমাধ্যমে তেমন একটা আসছে না। গণমাধ্যমে আসছে না এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কীর্তিমান অনেক শিক্ষকের গবেষণা ও সৃষ্টিশীল কর্ম, যাদের গবেষণা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গবেষণা জার্নালে প্রকাশিত হচ্ছে। এতদসত্ত্বেও আমরা বলতে পারি, এরমাঝেও হাজারো বীণার সুর বাজে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে।

লেখক : প্রাক্তন শিক্ষার্থী (২২তম ব্যাচ), সরকার ও রাজনীতি বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

এইচআর/এমএস

‘প্রাকৃতিক জলাধার এবং অতিথি পাখির অভয়ারণ্য প্রতিষ্ঠায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনন্য। পাখিমেলা এবং প্রজাপতি মেলা আয়োজনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অনন্য কীর্তি দেশজুড়ে সমাদৃত। বাংলাদেশে এ দুটি মেলা এখানেই প্রথম চালু হয়।’

আপনার মতামত লিখুন :