খুঁজতে হবে নতুন বাজার

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ১০:০৫ এএম, ১৫ জানুয়ারি ২০১৯

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চলছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। গত ৯ জানুয়ারি ২৪তম মাসব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সাপ্তাহিক কোনো বন্ধ না থেকে এবারের মেলা চলবে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে।

প্রতি বছর সাধারণত প্রতিবছর ১ জানুয়ারি মেলা শুরু হয়। তবে এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে বাণিজ্যমেলা এক সপ্তাহ দেরিতে শুরু হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুারোর (ইপিবি) যৌথ আয়োজনে এবারও শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পশ্চিম পাশে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০১৯ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মেলায় থাকছে মা ও শিশু কেন্দ্র, শিশুপার্ক, ই-পার্ক ও পর্যাপ্ত এটিএম বুথ। থাকছে রেডিমেড গার্মেন্টস পণ্য, হোমটেক্স, ফেব্রিকস পণ্য, হস্তশিল্প, পাট ও পাটজাত পণ্য, গৃহস্থালি ও উপহারসামগ্রী, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। এছাড়াও থাকবে তৈজসপত্র, সিরামিক, প্লাস্টিক পলিমার পণ্য, কসমেটিকস হারবাল ও প্রসাধনী সামগ্রী। থাকবে খাদ্য ও খাদ্যজাত পণ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস সামগ্রী, ইমিটেশন ও জুয়েলারি, নির্মাণ সামগ্রী ও ফার্নিচার সামগ্রী।

মেলায় সবমিলিয়ে ৫৫০টি স্টল রয়েছে এবার। এর মধ্যে সংরক্ষিত মহিলা স্টল থাকবে ২০টি, প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন ৬০টি, প্রিমিয়ার মিনি প্যাভিলিয়ন ৩৮টি, সাধারণ প্যাভিলিয়ন ১৮, সাধারণ মিনি প্যাভিলিয়ন ২৯টি, প্রিমিয়ার স্টল ৬৭টি, রেস্টুরেন্ট তিনটি, সংরক্ষিত প্যাভিলিয়ন ৯টি, সংরক্ষিত মিনি প্যাভিলিয়ন ৬টি, বিদেশি প্যাভিলিয়ন ২৬টি, সংরক্ষিত মিনি প্যাভিলিয়ন ৯টি, বিদেশি প্রিমিয়ার স্টল ১৩টি, সাধারণ স্টল ২০১টি ও ফুড স্টল ২২টি।

এছাড়া মেলায় বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ভোক্তা অধিদফতরের কর্মকর্তা সার্বক্ষণিক নজরদারি করবেন। থাকবে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যমেরা।

এবার বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের মধ্যে রয়েছে- ভারত, পাকিস্তান, চীন, ব্রিটেন, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ইরান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ভুটান, নেপাল, মরিশাস, ভিয়েতনাম, মালদ্বীপ, রাশিয়া, আমেরিকা, জার্মানি, সোয়াজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও হংকং।

বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে ব্যবসা-বাণিজ্যে টিকে থাকতে হলে ক্রেতা চাহিদা অনুযায়ী নতুন নতুন পণ্য উৎপাদন করতে হবে। ঠিক রাখতে হবে মানও। খুঁজতে হবে নতুন বাজার। এছাড়া মেলায় দেশীয় পণ্য বিদেশি ক্রেতাদের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ নিতে হবে। এর মাধ্যমে রফতানি বাড়াতে হবে। রপ্তানি বহুমুখীকরণ করতে পারলে ২০২১ সালে রপ্তানি আয় ৬০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে। রপ্তানির ক্ষেত্রে বিশেষ একটি পণ্যের ওপর নির্ভরতার ঝুঁকি রয়েছে। একটি বিশেষ পণ্য সবসময় বাজার ধরে রাখতে পারে না। এক সময় পাট ও মসলিনের উজ্জ্বল অতীত ছিল। কিন্তু সেটি ধরে রাখা যায়নি। এ জন্য পণ্যের বহুমুখী করণের ওপর জোর দিতে হবে।

মেলা ব্যবস্থাপনায় যেন রকানো ত্রুটি না থাকে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। মেলা প্রাঙ্গণকে ধুলোমুক্ত রাখতে হবে। নকল, ভেজাল ও নিন্মমানের পণ্য যাতে মেলায় বিক্রি না হতে পারে সে ব্যাপারে প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালাতে হবে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকেও এ ব্যাপারে জোর নজরদারি রাখতে হবে। নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ক্রেতাবিক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠুক এবারের বাণিজ্য মেলা-এই প্রত্যাশাও থাকলো।

এইচআর/জেআইএম

মেলা ব্যবস্থাপনায় যেন রকানো ত্রুটি না থাকে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। মেলা প্রাঙ্গণকে ধুলোমুক্ত রাখতে হবে। নকল, ভেজাল ও নিন্মমানের পণ্য যাতে মেলায় বিক্রি না হতে পারে সে ব্যাপারে প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালাতে হবে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকেও এ ব্যাপারে জোর নজরদারি রাখতে হবে।