একদল বাকশাল এবং বর্তমান প্রেক্ষিত

শেখর দত্ত
শেখর দত্ত শেখর দত্ত
প্রকাশিত: ০১:৪২ পিএম, ২০ মার্চ ২০১৯

বাকশাল নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য উত্থাপন করেছেন। এর আগে তিনি বাকশাল নিয়ে কবে কখন কথা বলেছিলেন, তা অনেক চেষ্টা করেও মনে করতে পারিনি।

প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ নেতারা বাকশাল প্রসঙ্গটি এড়িয়ে চলেন। তবে আওয়ামী লীগের ঘোষণাপত্রে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘দারিদ্র্য, অশিক্ষা, শোষণ ও বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে এক উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় ঐক্যের প্লাটফরম হিসেবে কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ গড়ে তোলেন। বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে।’

উল্টোদিকে জাতীয় মূলধারা আন্দোলনের বিরোধী দল শক্তি গোষ্ঠী মহল ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুকে ‘স্বৈরাচার’ প্রমাণিত করতে অনবরত বাকশাল নিয়ে বিষোদগার করে চলেছে। এসব কথার উত্তর বাকশাল প্রসঙ্গ তুলে সাধারণভাবে দেয়া হয় না। তবে এই কলামে ইতোপূর্বে অনেক সময়েই তখনকার কোনো আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু বাকশাল করতে বাধ্য হয়েছিলেন বা প্রয়োজনীয়তাই কেন দেখা দিয়েছিল, তখনকার সময়ের প্রেক্ষাপটে বাকশাল নিয়ে মূল্যায়ন কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণতন্ত্র ও নির্বাচন প্রসঙ্গে বাকশাল নিয়ে বলার সুযোগে এ বিষয় নিয়ে আলোচনা বর্তমানে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। প্রসঙ্গত পাকিস্তান সৃষ্টির দুই বছরের মধ্যে গণতন্ত্র ও স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের ভেতর দিয়ে আওয়ামী লীগের জন্ম।

পাকিস্তান ও স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের জন্য যত আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে, তাতে নেতৃত্ব দিয়েছে আওয়ামী লীগ। হত্যা-ক্যু-সামরিক আইন ও স্বৈরাচারদের টার্গেট সব সময়েই ছিল আওয়ামী লীগ। আর হত্যা-ক্যু-সামরিক আইন প্রভৃতির ভেতর দিয়ে আওয়ামী লীগ কখনো ক্ষমতায় যায়নি।

জন্মের পর থেকে নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত আওয়ামী লীগ দুবার ক্ষমতায় গেছে, কিন্তু যড়যন্ত্র-চক্রান্ত ও হত্যা-ক্যুর জন্য পুরো সময় ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। ১৯৯৬-২০০১ সময়কালে নির্বাচনের ভেতর দিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গিয়ে প্রথমবারের মতো সময়কাল শেষ করতে সক্ষম হয়েছে এবং দেশেও প্রথমবারের মতো সংবিধানের ভিত্তিতে ক্ষমতা হস্তান্তর ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কিন্তু এটাই জাতির দুর্ভাগ্য যে, গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে সংবিধানসম্মতভাবে বাধাবিঘ্নহীন করতে গিয়ে ২০০১ সালের অক্টোবরের নির্বাচনের পর শুধু আওয়ামী লীগই অস্তিত্ব রক্ষার সংকটে নয়, জাতিও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নিরাপদ রাখা নিয়ে বিপদে পড়েছিল। ওই নির্বাচনের পর এথিনিক ক্লিনজিং, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর আক্রমণ প্রভৃতি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা না করে এটুকুই বলা যায় যে, কোটালীপাড়া ও বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে বোমা পুঁতে বা গ্রেনেড ছুড়ে শেখ হাসিনাকে হত্যা করে আবারো আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করে ধ্বংসের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

আর ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান, পরেশ বড়ুয়া-রাজখোর গংদের জন্য দেশের মাটিকে অভয়ারণ্য করে দেয়া এবং ‘বাংলাভাই’ ও মুফতি গংদের জঙ্গি কার্যকলাপ প্রভৃতি বিবেচনায় নিলে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিষয়টির সত্যতা প্রমাণ হবে। পাকিস্তানের ২৪ বছর এবং বাংলাদেশের ৪৮ বছরের ইতিহাস এটাই প্রমাণ করে, আমাদের জাতির গণতন্ত্র ও নির্বাচন এবং সাংবিধানিক অগ্রযাত্রার পথ প্রকৃত বিচারেই কণ্টকাকীর্ণ। বাধা-বিঘ্ন, চড়াই-উৎরাই, আঁকাবাঁকা পথ অতিক্রম করা ভিন্ন এর বিকল্প নেই। অথচ কতটা প্রত্যাশা নিয়ে যে শুরু হয়েছিল নবজাত বাংলাদেশে গণতন্ত্রের অভিযাত্রা।

তখনকার ঘটনা পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে, জাতির পিতা ফিরে আসায় কতগুলো পর্বতসম কঠিন ও জটিল কাজ নির্বিঘ্নে করা তখন জাতির পক্ষে সম্ভব হয়েছে। তিনি স্থায়ী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন। প্রসঙ্গত, বঙ্গবন্ধু ফিরে আসার আগে ২১ ডিসেম্বর ’৭১ ন্যাপ নেতা মোজাফফর আহমেদ সর্বদলীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। রাজাকার-আলবদর-আলশামস ও দুই কুকুরের লড়াইপন্থি উগ্রবামসহ ঔপনিবেশিক আমলের হিমালয়সম বাস্তব ও মনোজগতের জঞ্জাল সাফ করতে বিপ্লবী সরকার গঠন করে কিছুদিন চললে কেমন রূপ নিত বাংলাদেশ কে জানে!

এখনো মনে পড়ে সঙ্গে সঙ্গে এই দাবির বিরোধিতা করেছিল তৎকালীন চরম ডানপন্থি নেতা, আওয়ামী লীগের সমাজসেবা সম্পাদক এবং পরবর্তী সময়ে খুনি মোশতাক গংদের সাথী ওবায়দুর রহমান। বলাই বাহুল্য, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ছিল রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিপ্লব। তাই সর্বদলীয় বিপ্লবী সরকারের দাবি অপ্রাসঙ্গিক ছিল বলে মনে হয় না। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হয়েছিল।

স্বদেশে বিজয়ী বীরের বেশে ফিরে আসার তিনদিন পর ১৩ জানুয়ারি ১৯৭১ বঙ্গবন্ধু প্রথম সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেন আমাদের জাতির লক্ষ্য হলো ‘গণতান্ত্রিক পথে সমাজতন্ত্রে উত্তরণ’। ইতোমধ্যে ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ায় স্থিরিকৃত হয়ে যায়, দেশ অঙ্গীকার অনুযায়ী সংসদীয় গণতন্ত্রের পথে অগ্রসর হচ্ছে। একটুও দেরি তিনি করেননি। স্বাধীনতার এক বছর পার না হতেই নতুন সংবিধানের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল নির্বাচন।

একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে, স্বাধীনতার পর থেকেই শুরু হয়েছিল সরকারি দল ও সরকারের ভেতর এবং বাইরে থেকে বঙ্গবন্ধু সরকারের বিরুদ্ধে দুই পন্থায় আঘাত-আক্রমণ। বঙ্গবন্ধুর ঘরে-বাইরে ছিল শত্রু। এরা কেউ পরাজিত চিহ্নিত শত্রু আর কেউবা ঘাপটি মেরে পদলেহন করে লুকিয়ে থাকা শত্রু।

একদিকে নাশকতা, গুপ্তহত্যা, খুন, অগ্নিসংযোগ, উসকানি, ছিনতাই আর অন্যদিকে লুটপাট, চোরাচালানি, বাটপারি ইত্যাদি চলতেই থাকে। সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অস্থিতিশীলতা-অরাজকতা-বিশৃঙ্খলা-অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে জাতিকে হতাশাগ্রস্ত করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। যা ছিল জাতিসত্তা ও গণতন্ত্র তথা জাতীয় চারনীতির বিরুদ্ধে আঘাতেরই নামান্তর।

অনেক কথা হয় রক্ষীবাহিনী সম্পর্কে। কিন্তু তা যে মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের নিরস্ত্র না করা’ ও জাতীয় মিলেশিয়া বাহিনী গঠনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গঠন করা হয়েছিল এবং বিশৃঙ্খলা-অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে নামাতে বঙ্গবন্ধু বাধ্য হয়েছিলেন, তা এখন বলাই হয় না। এখানে বলতেই হয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নামাতে বাধ্য হলে বাড়াবাড়ি অস্বাভাবিক নয়, যদিও তা গ্রহণযোগ্য নয়।

এখনো মনে পড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার ভেতর দিয়ে সংসদ নির্বাচনের পর বাজেট অধিবেশন হয় ২ জুন ১৯৭৩। সেই দিনগুলোতে খাদ্যসহ রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-সামাজিক পরিস্থিতি তখন জটিল। বঙ্গবন্ধু খাদ্য ঘাটতি মোকাবেলায় খাদ্যশস্য দেয়ার জন্য সদস্য রাষ্ট্র না হওয়া সত্ত্বেও জাতিসংঘের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

বিনামূল্যে ক্ষেতমজুরদের কাছে খাসজমি বণ্টন চলছিল। পাকিস্তান থেকে বাঙালি নির্যাতনের খবর আসছিল। ১৯৫ জন ছাড়া পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দিদের ফেরত দেয়া হয়েছে। নতুন ছাপানো নকল নোট প্রত্যাহার করা চলছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স ও ডিলারশিপ বাতিল করা এবং জাতীয়করণকৃত শিল্পকারখানার অসাধু প্রশাসকদের বরখাস্ত করা হচ্ছিল। ত্রাণমন্ত্রী মিজান চৌধুরী পদত্যাগ করলেন।

ফরিদপুরের এমপি নুরুল হক হলেন আততায়ীর হাতে নিহত। এই সময়ে বিরোধী দল ডাকল হরতাল, চলল অনশন ধর্মঘট। এদিকে মিথ্যা ও বিকৃত প্রচারের জন্য সংবাদপত্র প্রকাশনা বন্ধ হতে থাকল। রক্ষীবাহিনী বাড়াবাড়ি করলে তা প্রত্যাহার করা ভিন্ন পথ রইল না। পার্বত্য চট্টগ্রামে গঠিত হলো সশস্ত্র শান্তিবাহিনী। যখন সংসদীয় গণতন্ত্রকে স্থায়ী করে দেশকে ইপ্সিত লক্ষ্যে অগ্রসর করে নেয়া ছিল দেশপ্রেমিক ও গণতান্ত্রিক কর্তব্য; তখন উল্লিখিত ধরনের দেশবিরোধী জনবিরোধী কাজগুলো কেন ঘটে চলছিল, তা আজ জাতির কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হওয়া একান্ত প্রয়োজন।

বাস্তবে গণতন্ত্রের মানসপুত্র জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে বাধ্য করা হয়েছিল একদল বাকশাল করতে। আর তখনকার আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও ছিল সমাজতন্ত্রের লক্ষ্যাভিমুখে দেশকে অগ্রসর করার জন্য একদলীয় প্রথা চালু করার দিকে ঝুঁকে এবং অনুকূল। বঙ্গবন্ধু এতটাই গণতান্ত্রিক ছিলেন যে, সংসদ সদস্য যারা বাকশালে যোগ দেননি, তাদের ওই অবস্থানে যেতে বাধা দেননি।

ভাসানী সমর্থন করেছিলেন। আর আতাউর রহমান থেকে জিয়াউর রহমান সবাই লাইন দিয়ে মিছিল করে বাকশালে যোগ দিয়েছিলেন। স্বাধীন দেশে প্রথম ও যথার্থ জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। আর বাকশালের সময়ে জাতীয় নির্বাচন কেমন হয়েছিল, তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উল্লিখিত বক্তব্য থেকে প্রমাণ মেলে।

যতটুকু মনে পড়ে, মৃত্যুর তিনদিন আগে ১১ আগস্ট বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত জেলা সম্পাদকদের ট্রেনিং কোর্সে (সেখানে বাকশাল অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে উপস্থিত ছিলাম) বঙ্গবন্ধু দুঃখ করে বলেছিলেন, বিশেষ পরিস্থিতিতে একদলীয় রাষ্ট্রপতিকে ব্যবস্থা করতে হয়। আবার সব ঠিক হয়ে যাবে।

জাতির চরমতম দুর্ভাগ্য, সব কিছু ঠিকঠাক করতে ঘরে-বাইরের শত্রুরা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতাকে সময় দেয়নি। আজ স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তির আগে যখন জাতীয় ঐক্যের কথা ওঠে তখন একদিকে ক্ষোভ আর অন্যদিকে বিস্ময় নিয়ে প্রশ্ন জাগে, জাতীয় ঐক্যের ওই সুযোগ তখনকার জটিল পরিস্থিতিতে আমরা পরীক্ষামূলকভাবে নিতে পারলাম না কেন?

মুষ্টিমেয় পরাজিতরা ছাড়া তখন বঙ্গবন্ধুর পক্ষেই তো কথাবার্তায় ছিল সবাই। তবুও জাতির পিতাকে জীবন দিতে হলো কেন? কেন তেমন দৃঢ়ভাবে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে দাঁড়াতে পারল না দেশবাসী? জীবনের প্রটেকশন দিতে পারা গেল না কেন? কেন এখন দেয়া হচ্ছে এই ক্ষণজন্মা মহামানবকে একদল করায় ‘স্বৈরাচার’ হিসেবে অপবাদ? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা জরুরি।

‘ক্ষমা তোমার চাইতে হবে/নামিয়ে মাথা হে বিধাতা..।’ বাংলার গণদেবতা দেশপ্রেম তথা ‘হৃদয় তন্ত্রে একের মন্ত্রে’ কবে এই সব বিষয়ে বঙ্গবন্ধুর কাছে ক্ষমা চাইবে, এটাই এখন দেখার বিষয়। যে দিন তা করবে, সে দিন হবে বাঙালি জাতির নব অভিযাত্রার পথে প্রথম পদক্ষেপ। অনাগত ওই দিনটির জন্য অপেক্ষা করা ভিন্ন জাতির কোনো বিকল্প নেই। বাকশাল আজ অতীতের বিষয়। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বর্তমানে ‘জাতীয় সংসদকে সকল রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু’ করতে, ‘গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও চেতনাকে ঊর্ধ্বে তুলে’ ধরতে এবং ‘সংবিধানকে রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ দলিল’ হিসেবে সমুন্নত রাখতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন উৎসব সামনে রেখে তাই নির্বাচন, গণতন্ত্র প্রভৃতি নিয়ে বর্তমানে জাতির সামনে যেসব প্রশ্ন সন্দেহ কুয়াশা সৃষ্টি হচ্ছে, সেসব বিদূরিত করার পথনির্দেশনা বঙ্গবন্ধুর দল এবং বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনাকে দেয়া ভিন্ন বিকল্প দেখি না। বলাই বাহুল্য, প্রশ্ন-সন্দেহ-কুয়াশা হচ্ছে হতাশার জন্মদাত্রী, যড়যন্ত্র-চক্রান্তের আঁতুরঘর। তাই পরিত্রাণের পথ খুঁজতেই হবে।

বঙ্গবন্ধু তাঁর সময়ে সংকট থেকে উত্তরণের জন্য পথনির্দেশনা দিয়েছিলেন, কিন্তু পরিণতিতে তাঁকে জীবন দিতে হয়েছে। তেমন দুর্ভাগ্যজনক মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক পথে জাতি আর যেতে চায় না। ‘মুজিব বর্ষ’ পালনের দিনগুলোতে জাতি চাইবে প্রশ্ন-সন্দেহ-কুয়াশা দূরীভূত হতে থাকুক, অঙ্গীকার অনুযায়ী পথরেখা তৈরি করে বঙ্গবন্ধু ঘোষিত জাতীয় চারনীতি নিয়ে জাতি ইপ্সিত লক্ষ্যের দিকে অগ্রসর হোক।

আজ ২০ মার্চ। এই দিনে বঙ্গবন্ধু বিবৃতিতে বলেছিলেন, ‘স্বাধীন দেশের মুক্ত নাগরিক হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে বাংলার মানুষ প্রস্তুত।’ মুজিব বর্ষকে যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালন করতে সমাধান অনুসন্ধানে ত্যাগের মহিমাকেই বোধকরি তুলে ধরতে হবে জাতিকে।

লেখক : রাজনীতিক।

এইচআর/এমকেএইচ

মুষ্টিমেয় পরাজিতরা ছাড়া তখন বঙ্গবন্ধুর পক্ষেই তো কথাবার্তায় ছিল সবাই। তবুও জাতির পিতাকে জীবন দিতে হলো কেন? কেন তেমন দৃঢ়ভাবে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে দাঁড়াতে পারল না দেশবাসী? জীবনের প্রটেকশন দিতে পারা গেল না কেন? কেন এখন দেয়া হচ্ছে এই ক্ষণজন্মা মহামানবকে একদল করায় ‘স্বৈরাচার’ হিসেবে অপবাদ? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা জরুরি।