আগুনের শহর ঢাকায় আর কত প্রাণ যাবে?

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ১০:০০ এএম, ৩১ মার্চ ২০১৯

বাস অনুপযোগী শহর হিসেবে রাজধানী ঢাকা ইতিমধ্যেই খ্যাতি কুড়িয়েছে। এবার একের পর এক অগ্নিকাণ্ডে আগুনের শহর হিসেবে খ্যাতি জুটতে যাচ্ছে কি ঢাকার? নিমতলী ট্র্যাজেডির পর চুড়িহাট্টায় এত প্রাণ গেল। সেই শোক মিলিয়ে না যেতেই ঘটলো বনানীর এফ আর টাওয়ারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। সেখানে ২৬ জন মানুষ প্রাণ হারালো। এর একদিন না যেতেই আবার আগুন লাগলো গুলশানের ডিএনসিসি মার্কেটের কাঁচা ও সুপার মার্কেটে। প্রশ্ন হচ্ছে আর কত প্রাণ গেলে থামবে এই অগ্নিকাণ্ড নামক হত্যাযজ্ঞ?

আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে ঢাকা মহানগরীর অন্তত সাড়ে ১১ হাজার বহুতল ভবন অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা- সংক্রান্ত ফায়ার সার্ভিসের কোনো ছাড়পত্র বা অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনার (ফায়ার সেফটি প্ল্যান) অনুমোদন নেই। যে কোনো মুহূর্তে ঘটতে পারো আরো ভয়াবহ ঘটনা।

গুলশানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, শুধু গুলশান-বনানী নয়, ঢাকা শহরের যেকোনো স্থানে যদি অপরিকল্পিতভাবে ইমারত নির্মিত হয়ে থাকে, অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকে- সেই বিষয়ে রোববার (৩১ মার্চ) থেকে রাজউকের পরিদর্শন শুরু করবে।

তিনি আরও বলেন, ১৫ দিনের মধ্যে চিহ্নিত করবো কোনো ভবন পরিকল্পনা বা নিয়মের বাইরে হয়েছে কি-না। প্রয়োজনে সিলগালা করে দেব, প্রয়োজনে অপসারণ করবো। অথবা উপযোগী অবস্থা সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত সব রকম কার্যক্রম স্থগিত রাখব। তিনি বলেন, এই ঘটনার সাথে মালিক হোক, ডেভেলপার হোক, এমনকি রাজউকের কেউ জড়িত থাকলে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

গৃহায়ণ মন্ত্রী বলেন, এটা কিন্তু দীর্ঘদিনের জঞ্জাল। আমরা চেষ্টা করছি, পূর্বাচল ঝিলমিলসহ নতুন যে শহরগুলো হচ্ছে সেখানে পরিকল্পনার বাইরে কোনো স্থাপনা হতে দিচ্ছি না। এখানে স্থানীয় কিছু বিরোধ আছে, আপনারা জানেন। আমরা চেষ্টা করছি তা দূর করে পরিকল্পিতভাবে সমন্বয় করার। কোথাও কোনো অনিয়ম থাকলে আমাকে জানান। অ্যাকশনে যাব।

বনানীর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়ার ৭ দিনের মধ্যে তা প্রকাশ করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী। এ ধরনের কমিটি এর আগেও হয়েছে। কিন্তু কারো কোনো দায় নিতে হয়েছে এমন নজির মেলা ভার। কিন্তু অপরাধের শাস্তি না হলে তা থেকে প্রতিকার পাওয়া যায় না। এ জন্য ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেই চলে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

এইচআর/এমএস

‘অপরাধের শাস্তি না হলে তা থেকে প্রতিকার পাওয়া যায় না। এ জন্য ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেই চলে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।’

আপনার মতামত লিখুন :