সোনালি দিন ফিরবে কীভাবে?

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ০৯:৫৫ এএম, ০৬ এপ্রিল ২০১৯

পাটের সোনালি দিন ফিরিয়ে আনার কথা বলা হচ্ছে যেই মুহূর্তে ঠিক সেই মুহূর্তে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের রাজপথে নামতে হচ্ছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। শ্রমিকদের সমস্যা জিইয়ে রেখে কোনোভাবেই পাটের সোনালি দিন ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। কাজেই পাটকল শ্রমিকদের দাবি শুনতে হবে। ন্যায্যতার ভিত্তিতে বেতন-ভাতাদি নির্ধারণ করতে হবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকরা মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, বকেয়া পরিশোধ, গ্র্যাচুইটি, বদলি শ্রমিক স্থায়ীকরণসহ ৯ দফা দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়কপথ অবরোধ করে। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী দাবি আদায়ে ৭২ ঘণ্টার কর্মবিরতির শেষ দিন ছিল বৃহস্পতিবার। সিবিএর নেতাকর্মীরা বলছেন, বিজেএমসি চেয়ারম্যান গত ২৮ মার্চের মধ্যে মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন করার আশ্বাস দিয়েছিলেন কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। দাবি আদায়ে বাধ্য হয়ে আবারও আন্দোলনে নামতে হয়েছে।

বাংলাদেশকে এক সময় সোনালি আঁশের দেশ বলা হত। এর কারণ বাংলাদেশের পাটের বিশ্বময় সুখ্যাতি। এছাড়া বৈদেশিক আয়ের সিংহভাগ আসতো পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি থেকে। কিন্তু কালের চক্রে পাটের সেই সোনালি দিন আর নেই। সরকার পাটকে কৃষিপণ্য ঘোষণা করেছে। পাট উৎপাদন বিপণন ও রফতানির ক্ষেত্রে কৃষিপণ্য হিসেবে পাওয়া সুযোগ-সুবিধাগুলো এখানেও দেয়া হবে। এছাড়া পণ্যে পাটজাত মোড়কের ব্যবহার বাধ্যতামূলক আইনও ( ২০১০) করা হয়েছে ইতোমধ্যে।

পাটখাতের মাধ্যমে এখনো বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। তাই পাটকে গুরুত্ব না দিয়ে উপায় নেই। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশকে কৃষি অর্থনীতির ওপর ভর করেই দাঁড়াতে হবে। আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসেবে বেড়ে উঠতে হলে নিজের দেশে উৎপাদিত পণ্যের দিকে মনোযোগী হতে হবে।

পাট এমন একটি ফসল যার সবকিছুই কাজে লাগে। পাটের পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায়। ঔষধি পথ্য হিসেবেও এর ব্যবহার রয়েছে। পাটখড়ি উৎকৃষ্ট জ্বালানি। ঘরের বেড়া বা আসবাবপত্র তৈরিতেও পাটখড়ি ব্যবহার করা হয়। আর পাটের আঁশের কথা তো বলাই বাহুল্য। উন্নত জাতের তোষা পাটের সুতা থেকে জামদানি পর্যন্ত তৈরি সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন।

এছাড়া পাটের জীবনরহস্য বা জিন নকশা (জিনোম সিকোয়েন্সিং) উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছেন আমাদের দেশের বিজ্ঞানীরা। এরফলে পাট বলতে এখন বাংলাদেশকেই বুঝাবে। মেধাস্বত্ব প্রতিষ্ঠা করা গেলে এখান থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। তবে এজন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করতে হবে।

এছাড়া বন্ধ হওয়া পাটকল চালু করা, যেগুলো চালু আছে সেগুলো যেন ঠিক মত চলে সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। পাট উৎপাদনে কৃষি সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, কৃষকরা যেন ন্যায্য মূল্য পায় পাটের নিশ্চিত করতে হবে সেটিও। পাটজাত পণ্য ব্যবহারে উন্মেষ ঘটাতে হবে দেশপ্রেমের। পাটের সুদিন ফিরে আসলে এর সঙ্গে জড়িত বহু মানুষ তাতে উপকৃত হবে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনও বৃদ্ধি পাবে। এ ব্যাপারে যুগোপযোগী এবং বাস্তবানুগ সিদ্ধান্ত নিতে সংশ্লিষ্টরা এগিয়ে আসবেন- আমাদের প্রত্যাশা এমনটিই।

এইচআর/জেআইএম

বন্ধ হওয়া পাটকল চালু করা, যেগুলো চালু আছে সেগুলো যেন ঠিক মত চলে সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। পাট উৎপাদনে কৃষি সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, কৃষকরা যেন ন্যায্য মূল্য পায় পাটের নিশ্চিত করতে হবে সেটিও।

আপনার মতামত লিখুন :