যৌন নিপীড়নের শাস্তির দাবি করায় এত বড় শাস্তি!

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ০৯:৪০ এএম, ০৮ এপ্রিল ২০১৯

কী নির্মম, কী পৈশাচিক। যেন নিগ্রহের শিকার একজন ছাত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। সেটিও আবার নিজেরই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। দিনে দুপুরে। এই ধরনের বর্বরতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার। নইলে ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে।

গত শনিবার সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যান নুসরাত জাহান রাফির নামের ওই শিক্ষার্থী। মাদরাসার এক ছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করছে- এমন সংবাদ দিলে রাফি ওই বিল্ডিংয়ের চার তলায় যান। সেখানে মুখোশ পরা ৪/৫ জন ছাত্রী তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। রাফি অস্বীকৃতি জানালে তারা তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।

এর আগে গত ২৭ এপ্রিল ওই ছাত্রীকে নিজ কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে আটক করে পুলিশ। ওই ঘটনার পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

গণমাধ্যমের খবর থেকে জানা যায়, মাদরাসার অধ্যক্ষের লোকজনই প্রতিহিংসার কারণে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এটি নিয়ে দুই পক্ষ তৈরি হয়েছে। প্রভাবশালী একটি পক্ষ নিপীড়নকারী অধ্যক্ষকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে। কিছু ছাত্রও অধ্যক্ষের পক্ষ নিয়ে ঘটিয়েছে এই ঘটনা। যেখানে শিক্ষার্থীরা তার সহপাঠীর প্রতি অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে সেখানে উল্টো নিজেরাই নির্যাতিতাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে। কোথায় গেল নীতি নৈতিকতা মানবিকতা? এ কোন সমাজে বাস করছি আমরা। অভম্য অধ্যক্ষের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ হয়েছে।

আগুনে দগ্ধ হয়ে নির্যাতিতা শিক্ষার্থী এখন ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। অথচ তার আলিম পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষা তো গেলই এখন জীবন নিয়েও টানাটানি। মাদরাসার মতো প্রতিষ্ঠানে যেখানে নীতিনৈতিকতার শিক্ষা দেয়া হয় সেখানে একজন নারী লোলুপ অধ্যক্ষের কারণে একজন শিক্ষার্থীর জীবন সংশয়ে। এটি হতে পারে না। অধ্যক্ষ কারাগারে আছেন মামলায়। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই এই মুহূর্তের করণীয়। মেডিকেলে ভর্তি শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যাপারটিও গুরুত্বসহকারে দেখতে হবে।

এইচআর/এমকেএইচ

আগুনে দগ্ধ হয়ে নির্যাতিতা শিক্ষার্থী এখন ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। অথচ তার আলিম পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষা তো গেলই এখন জীবন নিয়েও টানাটানি। মাদরাসার মত প্রতিষ্ঠানে যেখানে নীতিনৈতিকতার শিক্ষা দেয়া হয় সেখানে একজন নারী লোলুপ অধ্যক্ষের কারণে একজন শিক্ষার্থীর জীবন সংশয়ে। এটি হতে পারে না।

আপনার মতামত লিখুন :