প্রাথমিকে বার্ষিক পাঠ পরিকল্পনার সময় বণ্টনে অসঙ্গতি

সম্পাদকীয় ডেস্ক সম্পাদকীয় ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:১৪ পিএম, ১৫ এপ্রিল ২০১৯

ফরিদ আহাম্মদ

ইতোমধ্যেই নেপ (জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি) ) কর্তৃক "প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সময়াবদ্ধ বার্ষিক পাঠ পরিকল্পনা ২০১৯" সম্ভবত সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছে গেছে।

এই পাঠ পরিকল্পনার উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে, একই সময়ে ও তারিখে, একই পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত করা। নিঃসন্দেহ এটি একটি ভালো উদ্যোগ। কিন্তু ভালো কিছুর মাঝেও কিছু গরমিল থেকে যায়, যা সংশোধন না করলে হিতে বিপরীত ফল আসতে পারে।

মূলকথা- নেপ থেকে যে বার্ষিক পাঠ পরিকল্পনা দেয়া হয়েছে তাতে ৫ম শ্রেণির ইংরেজি বিষয়ের প্রশ্ন কাঠামোর ক্রমিক 1 - 4 পর্যন্ত অর্থাৎ Text book থেকে শুধু Seen গল্পের জন্য প্রযোজ্য। ক্রমিক 1 - 4 পর্যন্ত প্রস্তুতি নিলে একজন শিক্ষার্থীর শুধু ৩৩ নম্বরের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা হবে। কিন্তু ক্রমিক 5 - 13 পর্যন্ত অর্থাৎ বাকি ৬৭ নম্বরের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য সময় বণ্টন এই পাঠ পরিকল্পনায় নেই।

কোনো শিক্ষক যদি বাকি ৬৭ নম্বরের প্রস্তুতি নেওয়াতে চান তাহলে বার্ষিক পাঠ পরিকল্পনার সময় মেইন্টেইন করা সম্ভব হবে না। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির ইংরেজি প্রশ্ন ৫ম শ্রেণির আদলেই হয়।

আমার এই লেখাটি পড়ে অনেকেই হয়তো কমেন্টের মাধ্যমে যুক্তি দেখাতে পারি যে, Text book ভালোভাবে অনুশীলন করলে 5 - 13 ক্রমিকের প্রশ্নের উত্তর দেয়া কঠিন হবে না। কিন্তু আমরা যারা ইংরেজি পড়াই তারা ভালো করেই জানি যে, এই যুক্তির সাথে বাস্তবতার মিল নেই।

পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে হলে 5 - 13 ক্রমিকের প্রশ্নের উত্তর অর্থাৎ বাকি ৬৭ নম্বরের জন্য অবশ্যই আলাদাভাবে অনুশীলন করাতে হবে। তাই 5 - 13 ক্রমিকের জন্য সময় বরাদ্দ রেখে বার্ষিক পাঠ পরিকল্পনা সংশোধন করে সময় বণ্টন করা প্রয়োজন।

এমতাবস্থায়, কোনো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয় পরিদর্শন করে বার্ষিক পাঠ পরিকল্পনার সময় ও তারিখের সাথে পাঠদান অমিল পেলে সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিনা অপরাধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে!

বিষয়টি অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিধায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

লেখক : সাধারণ সম্পাদক,কেন্দ্রীয় কমিটি, বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক অনলাইন সমিতি।

এইচআর/এমএস

‘নিঃসন্দেহ এটি একটি ভালো উদ্যোগ। কিন্তু ভালো কিছুর মাঝেও কিছু গড়মিল থেকে যায় যা সংশোধন না করলে হিতে বিপরীত ফল আসতে পারে।’

আপনার মতামত লিখুন :