আদালতের ভেতরেই খুন!

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ০৯:৪১ এএম, ১৬ জুলাই ২০১৯

দেশে হত্যা, ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটেই চলেছে। একটি ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ঘটছে অন্য ঘটনা। এটা চলতে দেওয়া যায় না। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে। বের করতে হবে কার্যকর পন্থা।

এবার কুমিল্লায় আদালতের এজলাসে বিচারকের সামনেই ছুরিকাঘাত করে ফারুক ( ২৮) নামে এক যুবককে হত্যা করা হয়েছে। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৩য় আদালতের বিচারক ফাতেমা ফেরদৌসের আদালতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. ফারুক কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার অহিদ উল্লাহর ছেলে এবং ঘাতক হাসান জেলার লাকসাম উপজেলার ভোজপুর গ্রামের শহীদুল্লাহর ছেলে। রোববার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৩য় আদালতে জেলার মনোহরগঞ্জ থানার একটি হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলছিল। এ সময় ওই হত্যা মামলার আসামি হাসান হঠাৎ করে তার সহযোগী আসামি ফারুককে ছুরিকাঘাত করেন। এতে ফারুক নিরুপায় হয়ে দৌড়ে বিচারকের খাস কামরায় গিয়ে আশ্রয় নেন। এ সময় হাসান দৌড়ে ওই কামরায় গিয়ে ফারুককে আবারও উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করলে সে ফ্লোরে লুটিয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিক আদালতের পুলিশ, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা হাসানকে ধরে ফেলেন।

ঘাতক হাসানকে আটকসহ তার কাছ থেকে একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। গুরুতর আহত ফারুককে প্রথমে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে ও পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ফারুক ও ঘাতক হাসান একই মামলার আসামি।

এটা খুবই অবাক করা ব্যাপার যে খোদ আদালতের ভেতরেও খুন হওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। যেখানে অপরাধের বিচার হয় সেখানেই যদি অপরাধ সংঘটিত হয়ে এরচেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে! আদালত চত্বর থাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা। সেখানে ছুরি নিয়ে কী করে আদালতের ভেতরে প্রবেশ করলো তা ভাবনার বিষয়। এটি অবশ্যই জোরালোভাবে খতিয়ে দেখতে হবে।

দায়িত্বরত পুলিশই বা কী করলো। আদালতের ভেতর খুন করার মত ঘটনা ঘটানোর দুঃসাহসই বা পায় কোত্থেকে? এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে হবে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নিতে হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। ঢেলে সাজাতে হবে আদালতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যে কোনো মূল্যে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

এইচআর/জেআইএম

দায়িত্বরত পুলিশই বা কী করলো। আদালতের ভেতর খুন করার মত ঘটনা ঘটানোর দুঃসাহসই বা পায় কোত্থেকে? এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে হবে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নিতে হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। ঢেলে সাজাতে হবে আদালতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যে কোনো মূল্যে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :