ট্রাম্প এত সস্তা!

অঘোর মন্ডল
অঘোর মন্ডল অঘোর মন্ডল , স্পোর্টস এডিটর, দীপ্ত টিভি
প্রকাশিত: ০১:০৭ পিএম, ২১ জুলাই ২০১৯

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভদ্রলোকের এই মুহূর্তের পরিচয় বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। আগামীতে তাঁর সব পরিচয় ছাপিয়ে হয়তো সেটা হবে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট। কিন্তু তাঁকে ঘিরে এই মুহূর্তে বড় বিস্ময়; ভদ্রলোক এত সস্তা হয়ে গেলেন কীভাবে!

হ্যাঁ, সস্তা। এবং সেটা কোন এক প্রিয়া সাহার সৌজন্যে! এই ভদ্রমহিলা মিস্টার ট্রাম্পের সামনে একটা দেশকে তুলে ধরার চেষ্টা করলেন; যে দেশটা কোথায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট সেটাই জানেন না! প্রিয়া সাহা কী বলেছেন বা কী বলতে চেয়েছেন সেটা তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সৌজন্যে প্রিয়া সাহা যেভাবে রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে গেলেন, তা নিয়ে শব্দ এবং সময় খরচ করার কোন কারণ খুঁজে পাই না। কিন্তু মনের মধ্যে খচখচানি মিস্টার ট্রাম্পকে নিয়ে। বাংলাদেশ কোথায়, সেটা যিনি জানেন না, সেই দেশের এক মহিলার নালিশ শোনার আগ্রহ তিনি দেখালেন কীভাবে!

মিস্টার ট্রাম্প বাংলাদেশকে চেনেন না! বাংলাদেশ কোথায়? এই প্রশ্ন যার করতে হয়, তিনি সত্যিই দেশটাকে চেনে না এটা ধরে নিতে হবে। বাংলাদেশকে চিনতে হবেই, সেরকম গ্যারান্টি দিয়ে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট হননি। কিংবা মার্কিনিরা তাঁকে ভোট দিয়ে প্রেসিডেন্ট বানাননি। তবে তাঁর পূর্ব পুরুষরা নিশ্চয়ই চিনতেন। তা না হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধিতা করা থেকে শুরু করে বাঙালি নিধনের জন্য যুদ্ধ জাহাজ পাঠিয়েছিলেন কীভাবে?

বাংলাদেশকে চেনেন না! কিন্তু মিয়ানমারকে চেনেন! যে রাষ্ট্রের সরকার এবং সামরিক বাহিনী মিলে বিশাল এক ধর্মীয় জনগোষ্ঠীকে হত্যা করে মাতৃভূমি ছাড়া করেছে সেই দেশটাকে ট্রাম্প চেনেন! সেই সুবাদে বাংলাদেশকে চেনার চেষ্টা তাঁর! অথচ মিয়ানমারের এগার লাখের বেশি শরণার্থীকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে, কয়েক বছর ধরে তাদের ভরণপোষণ দিচ্ছে সেই বাংলাদেশকে তিনি চেনেন না!

যে দেশটার ইতিহাস–ভূগোল কোন বিষয় সম্পর্কে আপনার ধারণা নেই, সেই দেশের এক মহিলার নালিশ শোনার সময় কী ভাবে হলো সেটাই ভাবার বিষয়। ট্রাম্প প্রশাসন থেকে লোকজন মাঝেমধ্যেই কেন বিদায় নিচ্ছেন এখন নিশ্চয়ই সেটা বোঝা আরো সহজ হয়ে গেলো। বাংলাদেশকে ট্রাম্পের না চিনলেও চলবে। কিন্তু তিনি কী নিজের দেশটাকে চেনেন?

তবে তারচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, বাংলাদেশকে না চেনা একটা লোক কীভাবে সেই দেশের এই মহিলার নালিশ শুনে হাতটাত মিলিয়ে ফেললেন! ট্রাম্পের দেশে বাংলাদেশের একটা দূতাবাস আছে। জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধি আছে, একই ভাবে বাংলাদেশ নামক এই দেশটায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত আছেন। তাদের দূতাবাস আছে। তাদের কাছ থেকে কোন তথ্য কী তিনি পান?

যদি পেতেন তাহলে একজন এনজিও কর্মী মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছ পর্যন্ত পৌঁছানোর সুযোগ পেলেন কীভাবে? নাকি এই মহিলা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গেলেন আর মার্কিন প্রেসিডেন্টের দরোজা তার সামনে হুট করে খুলে গেলো? নাকি বাংলাদেশ-মার্কিন কূটনৈতিক সম্পর্ক একেবারেই দুর্বল যে একজন এনজিও কর্মী বাংলাদেশের কূটনীতিবিদদের চেয়ে বেশি ক্ষমতাশালী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে গেলেন!

ডোনাল্ডের কথা শুনে একুশ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ান এক ক্রিকেট সাংবাদিকের একটা কথা মনে পড়ে গেলো। ভদ্রলোকের নাম মাইক কাওয়ার্ড। হায়দ্রাবাদে বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে জয়ের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের অ্যাংকর ছিলেন তিনি। গর্ডন গ্রিনিজের সাথে ম্যাচের পরদিন কথা বলতে চান তিনি। তাই একটা অ্যাপয়েন্টমেন্ট দরকার ছিল। কথাটা শুনে মাইককে বলেছিলাম; ‘আপনিতো টিমের সাথে তাজ রেসিডেন্সিতেই আছেন। সকাল বেলায় ব্রেকফাস্ট টেবিলেই কথা বলতে পারেন।’ তাঁর উত্তরটা এখনও কানে বাজে। সেটা জীবনের একটা বড় শিক্ষাও ছিল।

‘ শোন, আমাদের দেশে সন্তানও বাবা-মাকে টেলিফোন করে তবে বাড়িতে আসে।’ উন্নত বিশ্বের সংস্কৃতি-ই এটা। তাই প্রশ্নটা বার বার মনে জাগছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে অ্যাপায়েন্টমেন্ট না করে বাংলাদেশের কোন মহিলা সেখানে গিয়ে পারিবারিক নালিশ জানানোর মত কিছু বলে ফেললেন! এটা সম্ভব নয়। তাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে দেখা করার সুযোগ করে দিলেন কারা? পিয়া সাহার পেছনের মুখগুলো কারা? তাদের মুখোশও উন্মোচিত হওয়া দরকার।

লেখক : সিনিয়র জার্নালিস্ট ও কলামিস্ট।

এইচআর/এমএস

‘মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে অ্যাপায়েন্টমেন্ট না করে বাংলাদেশের কোন মহিলা সেখানে গিয়ে পারিবারিক নালিশ জানানোর মত কিছু বলে ফেললেন! এটা সম্ভব নয়। তাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে দেখা করার সুযোগ করে দিলেন কারা? পিয়া সাহার পেছনের মুখগুলো কারা? তাদের মুখোশও উন্মোচিত হওয়া দরকার।’

আপনার মতামত লিখুন :