জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিন

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ০৯:৫৪ এএম, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নগরবাসীর পথ চলাচল নিশ্চিত ও রাজধানীর দুঃসহ যানজট থেকে রক্ষা পেতে হলে ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে হবে। এ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। নানা সময় নির্দেশনায়ও এসেছে। ঢাকার দুই মেয়র দায়িত্ব নেওয়ার পর ফুটপাত দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে ব্যানার, তোরণ, ফেস্টুন ও ফুটপাথে সকল প্রকার অবৈধ দোকান উচ্ছেদের কথা বলছেন। একই সঙ্গে ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে স্থাপিত রাজনৈতিক কার্যালয় দ্রুত সরিয়ে নেয়ার কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। একদিকে চলে উচ্ছেদ অভিযান, অন্যদিকে আবার দোকান বসে যায়-এভাবে চলে উচ্ছেদ-দখল খেলা। কিন্তু দিনের পর দিন তো এ অবস্থা চলতে পারে না। জনস্বার্থে এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করাটা অত্যন্ত জরুরি।

বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে ব্যানার, ফেস্টুন লাগানো এবং তোরণ নির্মাণ করায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় ট্রাফিক সিগনাল বোঝা যায় না। এতে করে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। সে কারণে এ সকল জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। রাজধানীর ফুটপাতে অবৈধ দোকানপাট গড়ে ওঠায় সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। রাজধানীর মোট দুই হাজার ২৮৯ দশমিক ৬৯ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে অনেকাংশই নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের দখলে। বিশেষ করে ঢাকার ফুটপাথগুলো দখলে থাকায় যারপরনাই ভোগান্তির শিকার হয় সাধারণ মানুষজন। যানজটের নিগড়ে পিষ্ট মানুষের কাছে এ যেন গোদের ওপর বিষফোঁড়া।

সাধারণত হকাররাই ফুটপাথগুলো দখল করে রাখে। এজন্য ফুটপাথগুলো হকারমুক্ত রাখা প্রয়োজন। বাংলাদেশ ছিন্নমূল হকার সমিতির তথ্যানুসারে বর্তমানে ঢাকা শহরে ১ লাখ ৩০ হাজার হকার রয়েছে। এর মধ্যে ৭০ হাজার স্থায়ী ও ৬০ হাজার অস্থায়ী। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সহায় সম্বলহীন এসব মানুষ ঢাকা শহরে কাজের সন্ধানে এসে হকার পেশায় যুক্ত হয়ে পড়ে। আসলে ঢাকায় যে পরিমাণ জমি রয়েছে তার জন্য ২৫ ভাগ রাস্তা দরকার। সেখানে অলিগলিসহ আছে মাত্র ৭ ভাগ। মেইন রোড আছে ৩ ভাগ। এই ৩ ভাগের ৩০ ভাগ দখল করে অবৈধ দখলদাররা। যার মধ্যে একটি অংশ হচ্ছে হকাররা। রাজধানীর ৭০ শতাংশ ফুটপাথ প্রাইভেট গাড়ি দখল করে রেখেছে। অবাক করা বিষয় হচ্ছে, রাজধানীর অধিকাংশ রাস্তার পাশেই যেসব দোকান ও আবাসিক ভবন রয়েছে তাদের কোনো পার্কিং ব্যবস্থা নেই। ফলে রাস্তার অর্ধেকটা তারা দখল করে গাড়ি পার্কিং করে। দিনের পর দিন এ প্রকাশ্যে এ ধরনের কার্যক্রম চললেও এগুলো দেখার যেন কেউ নেই।

ফুটপাথ থেকে হকার উচ্ছেদ করতে হলে তাদের পুনর্বাসনের মানবিক দিকটিও ভাবতে হবে। রাজধানীর ভাসমান হকারদের পুনর্বাসনে গত ২৫ বছরে অন্তত দুই ডজন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন। স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময় ১৯৫২ সালে এবং স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৭৯ সালেও বাস্তবায়ন করা হয় দুটি প্রকল্প। ডিসিসির খাতাপত্রে এসব প্রকল্পের আওতায় সর্বমোট ১৮ হাজার হকারকে পুনর্বাসনের কথা বলা হয়েছে। রাজধানীর হকারদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে তৎকালীন ঢাকা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ নগরীর সদরঘাট এলাকায় প্রথম প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে ১৯৫২ সালে। ‘সদরঘাট হকার্স মার্কেট’ নামের ওই প্রকল্পে পুনর্বাসন করা হয় সর্বমোট ৮১২ জন হকারকে। এরপর ১৯৭৯ সালে সদরঘাট এলাকাতেই হকার পুনর্বাসনের ২য় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। লেডিস পার্ক হকার্স মার্কেট নামের ওই প্রকল্পে ৬৪৫ জন হকার পুনর্বাসিত হয়। তারপর আশির দশকের শেষার্ধে হকার পুনর্বাসনের ব্যাপকভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এভাবেই গত ২৫ বছর ধরে বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১৮ হাজার হকারকে পুনর্বাসন করা হয়। কিন্তু এত প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও নগরজুড়ে হকারের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।

আসলে ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে হলে উভয়পক্ষ থেকেই দায়িত্বশীল কর্মপন্থা অবলম্বন করতে হবে। স্রোতের মতো হকাররা আসতে থাকবে আর তারা ফুটপাথ দখল করে ব্যবসাবাণিজ্য করবে তারপর পুনর্বাসনের দাবি তুলবে এটি কখনও বাস্তবসম্মত নয়। এজন্য সবাইকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। এ লক্ষ্যে একটি সুসমন্বিত পন্থায় এগিয়ে যেতে হবে।

এইচআর/জেআইএম

আসলে ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে হলে উভয়পক্ষ থেকেই দায়িত্বশীল কর্মপন্থা অবলম্বন করতে হবে। স্রোতের মতো হকাররা আসতে থাকবে আর তারা ফুটপাথ দখল করে ব্যবসাবাণিজ্য করবে তারপর পুনর্বাসনের দাবি তুলবে এটি কখনও বাস্তবসম্মত নয়। এজন্য সবাইকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। এ লক্ষ্যে একটি সুসমন্বিত পন্থায় এগিয়ে যেতে হবে।