ছিনতাই-হত্যা বন্ধ করুন

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ১০:০২ এএম, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

জানমালের নিরাপত্তা দেয়া সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে সামান্যতম গাফিলতির কোনো সুযোগ নেই। দুঃখজনক হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে-বাহ্যত এমন মনে হলেও বাস্তবে কিন্তু বিষয়টি সে রকম নয়। কেননা খোদ রাজধানীতেই বেড়ে গেছে ছিনতাইকারীর দৌরাত্ম্য। এছাড়া দেশব্যাপী চুরি ছিনতাই এমনকি ছিনতাইকারীর হাতে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। এ ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে যে কোনো মূল্যে।

গাজীপুরের টঙ্গী কলেজ গেট এলাকায় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে কামরুল ইসলাম (৩৫) নামে আরএফএল’র এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। শনিবার ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কামরুল ইসলাম নওগাঁ সদর উপজেলার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি আরএফএল’র জোনাল ম্যানেজার হিসেবে সিলেটে কর্মরত ছিলেন।

এর আগে গত ২৫ আগস্ট দিবাগত রাতে রাজধানীর মালিবাগ ফ্লাইওভারে মোটরসাইকেল চালক মিলনকে হত্যা করে তার মোটরসাইকেল ছিনতাই করা হয়। ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। তার নাম নুরুজ্জামান ওরফে অপু ওরফে নুর উদ্দিন ওরফে সুমন।

এছাড়া বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বটতলা বাজার সংলগ্ন সড়কের পাশের একটি ডোবা থেকে ভাসমান অবস্থায় রিয়াজুল হক সরদার (৩৬) নামে এক মোটরসাইকেল চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত মাসে ঘটনার দিন দুপুর ১টার দিকে বরিশাল-লাকুটিয়া-বাবুগঞ্জ সড়কের পাশের ওই ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে এক জোড়া রক্তমাখা জুতা, একটি শার্ট এবং দুটি ওড়না উদ্ধার করা হয়েছে। মোটরসাইকেলটি ছিনতাই করতে রিয়াজুলকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এর বাইরেও অনেক ছিনতাই অপরাধ সংঘটনের ঘটনা আছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে গেছে।

রাজধানীতে এত এত বাহিনী। বলতে গেলে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকে রাজধানী। এর মধ্যেও যদি জানমালের নিরাপত্তা না থাকে সেটি খুবই দুঃখজনক। রাজধানীসহ সারাদেশেই নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ছিনতাইকারী একাধিকবার ধরা পড়লেও জামিনে বেরিয়ে আবারও ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়ছে। অপরাধের শাস্তি না হলে তা কমার কোনো কারণ নেই। এজন্য অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে প্রতিদিন ঘর থেকে প্রচুর সংখ্যক মানুষ বাইরে বের হন। তারা যেন নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারে সেটি দেখতে হবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে। রাজধানীতে থানার সংখ্যা বাড়ছে। বাড়ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের সংখ্যাও। কিন্তু অপরাধ না কমে বরং বাড়ছে। এই বৈপরীত্য চলতে পারে না।

এইচআর/এমএস

‘জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে প্রতিদিন ঘর থেকে প্রচুর সংখ্যক মানুষ বাইরে বের হন। তারা যেন নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারে সেটি দেখতে হবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে। রাজধানীতে থানার সংখ্যা বাড়ছে। বাড়ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের সংখ্যাও। কিন্তু অপরাধ না কমে বরং বাড়ছে। এই বৈপরীত্য চলতে পারে না।’