পেঁয়াজের দাম কমান, উৎপাদন ও সংরক্ষণে মনোযোগী হোন

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ০৮:৫১ এএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

হঠাৎ করেই পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে। কিছুদিন আগেও যে পেঁয়াজ ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি তা এক লাফেই বেড়ে এখন ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মূল্যবৃদ্ধির জন্য নানা অজুহাত দেখানো হচ্ছে। কিন্তু পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুদও রয়েছে। তাই দাম বাড়ার বিষয়টি কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত হতে পারে না। এমনিতেই দ্রব্যমূল্য নাগালের বাইরে, তার ওপর পেঁয়াজের দাম বাড়ায় যেন বাজ পড়ছে ভোক্তাদের মাথায়। প্রশ্ন হচ্ছে এগুলো দেখার কি কেউ নেই?

কথায় আছে, দুর্জনের ছলের অভাব হয় না। ব্যবসায়ীদের আমরা দুর্জন বলতে চাই না। আর সব ব্যবসায়ীর দায়-দায়িত্ব এবং নীতিনৈতিকতাও একই পাল্লায় মাপা ঠিক হবে না। তবে একশ্রেণির মুনাফালোভী ব্যবসায়ীর লাভ ও লোভের কারণেই যে পেঁয়াজের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না। মুনাফালোভী এই মানসিকতা কিছুতেই কাম্য হতে পারে না। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা সরকারের হাতে খুব একটা নেই। তারপরও টিসিবিকে কার্যকর করে একটি প্যারালাল সরবরাহ ব্যবস্থা চালু রেখে পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা যায়। সরকার বলছে, পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুদ আছে। এরপরও পেঁয়াজের দাম আকাশচুম্বী হল কী করে। এক্ষেত্রে কী কারো কোনো দায়-দায়িত্ব নেই?

মৌসুমে কৃষকরা পেঁয়াজের দাম পায় না। অথচ এখন আকাশচুম্বী। এই বর্ধিত টাকাও উৎপাদক কৃষকরা পান না। পেঁয়াজ পচনশীল। এজন্য পেঁয়াজ সংরক্ষণের দিকে মনোযোগী হতে হবে। যাতে সারাবছরই পেঁয়াজের সরবরাহ অব্যাহত রাখা যায়। এছাড়া আমদানি নির্ভরতা কমাতে হবে। উৎপাদন ও সংরক্ষণের দিকেই জোর দিতে হবে বেশি।

পেঁয়াজের দাম বাড়ার ক্ষেত্রে ভারতে দাম বৃত্তির কথা বলা হচ্ছে। ভারতের মূল্যবৃদ্ধির পেঁয়াজ এখনো বাংলাদেশের বাজারে আসেনি। অথচ স্থানীয় বাজারে দাম বেড়ে গেছে। যে কোনো উসিলায় দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে আইন-কানুন নীতি-নৈতিকতার কোনো বালাই নেই এখানে।

ভোক্তাদের পকেট কাটা হবে আর সরকার শুধু চেয়ে চেয়ে দেখবে এটা হতে পারে না। বাজারে নজরদারি বাড়ানো এবং সিন্ডিকেটধারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। অবিলম্বে পেঁয়াজের মূল্য জনসাধারণের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসতে যার যা করণীয় রয়েছে সেটি করতে হবে। এজন্য সরকার-ব্যবসায়ী সব পক্ষকেই এগিয়ে আসতে হবে। ত্যাগ করতে হবে মুনাফালোভী মানসিকতা।

এইচআর/পিআর

মৌসুমে কৃষকরা পেঁয়াজের দাম পায় না। অথচ এখন আকাশচুম্বী। এই বর্ধিত টাকাও উৎপাদক কৃষকরা পান না। পেঁয়াজ পচনশীল। এজন্য পেঁয়াজ সংরক্ষণের দিকে মনোযোগী হতে হবে। যাতে সারাবছরই পেঁয়াজের সরবরাহ অব্যাহত রাখা যায়। এছাড়া আমদানি নির্ভরতা কমাতে হবে। উৎপাদন ও সংরক্ষণের দিকেই জোর দিতে হবে বেশি