রাজনীতি রাজনীতিকদের হাতে থাকা প্রসঙ্গ

শেখর দত্ত
শেখর দত্ত শেখর দত্ত
প্রকাশিত: ০১:১৮ পিএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

‘রাজনীতিবিদদের হাতে দেশের রাজনীতি নেই’- অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ স্মরণসভায় কথাটা বলেছেন ক্ষমতাসীন দলের বর্ষীয়ান জননেতা তোফায়েল আহমেদ। কথাটা মনে করিয়ে দেয় পাকিস্তান আমলে আইয়ুব খান ও বাংলাদেশ আমলে জিয়াউর রহমানের কথা ও কাজ। আইয়ুব খান ক্ষমতা দখল করে প্রথমেই রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করেন এবং জারি করেন ‘দি ইলেকটিভ বডি ডিসকোয়ালিফিকেট অর্ডার’ (এবডো)। তাতে পূর্ব বাংলার জাতীয় মূলধারা আন্দোলনের ৪৩ রাজনীতিককে অযোগ্য এবং তাদের রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণ না করলে বিচার করা হবে বলে ঘোষণা করা হয়।

প্রায় একইভাবে রাষ্ট্রপতি জিয়া ক্ষমতায় এসে ‘রাজনীতিকদের জন্য রাজনীতি কঠিন করব’ ঘোষণা দেন এবং তা করার জন্য সব পন্থা নেন। সামরিক ফরমান দিয়ে দেশ পরিচালনা, প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কর্তাদের বসানো ও দলীয়করণ করা, লাইসেন্স নিয়ে রাজনৈতিক দল করা, ক্ষমতায় থেকে লোভ-লালসার টোপ দিয়ে নিজের দল গঠন করা, ছাত্ররাজনীতি পঙ্কিলতায় নিক্ষেপ করা, সামরিক-বেসামরিক আমলা, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ীদের পদ দিয়ে রাজনীতিতে নিয়ে আসা, দলগুলোর মধ্যে ভাঙন সৃষ্টির পন্থা গ্রহণ করা, ঘাতক দালালদের দল করতে দেয়া এবং বঙ্গবন্ধুর নাম নিয়ে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা প্রভৃতি ছিল বিরাজনীতিকীকরণের দিকে দেশকে টেনে নিয়ে যাওয়ার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

বলাই বাহুল্য বিরাজনীতিকীকণের ফল হচ্ছে, জনগণ থেকে সরকারের সংযোগ বিচ্ছেদ, যা সরকার পরিচালনায় গণবিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল স্বৈরাচারী অনৈতিক পথের অনুষঙ্গ এবং রাজনীতি-অর্থনীতি-সমাজকে তা কলুষিত করতেই থাকে। আগ্রহোদ্দীপক ব্যাপার হলো রাজনীতি ও রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করে ক্ষমতায় এসে দুই সেনাশাসকই আবার নিজের জন্য রাজনৈতিক দল গঠন করেন এবং সুবিধাবাদী-সুযোগসন্ধানী সামরিক-বেসামরিক আমলা-ব্যবসায়-পেশাজীবী ও দলছুট সুবিধাবাদী রাজনীতিকদের নিয়ে দল গঠন করেন। এরই ফলে রাজনীতি অর্থ-অস্ত্র, দুর্নীতি-দাপট ও পবিত্র ধর্মের যথেচ্ছ ব্যবহার প্রভৃতির কাছে বন্দি হয়। যাতে পতন হয় অবশ্যম্ভাবী।

গণতন্ত্র ও জাতীয় স্বাধিকার তথা ৬ দফা ও ১১ দফার ভিত্তিতে গণজাগরণের মধ্য দিয়ে আইয়ুবের পতন হয়। আর নিজ সৃষ্ট কলুষিত রাজনীতির শিকার হয়েই নিজ সাথীদের দ্বারা জিয়া সেনাবিদ্রোহে নিহত হন। পরে ঘটনার ঘাত-প্রতিঘাতে আরেক সেনাশাসক এরশাদ ক্ষমতা দখল করে জিয়ার বিরাজনীতিকীকরণের ধারাই বহাল রাখে। ১৯৮৬ সালের মিডিয়া ক্যু করে ১৫ দলের বিজয়কে গায়ের জোরে ছিনিয়ে নেয়া ছিল দেশকে বিরাজনীতিকীকরণের পথে রেখে দেয়ারই ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত। স্বৈরাচারবিরোধী সফল গণতন্ত্রের আন্দোলনের মাধ্যমে এরশাদের পতনের পর রাজনীতি রাজনীতিকদের জন্য হয়ে ওঠার সম্ভাবনা ছিল।

কিন্তু সব সময় শুভ সম্ভাবনা তো আর বাস্তবে রূপ পায় না। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে সেনাশাসক জিয়ার দল ক্ষমতায় আসে। রাজনীতিকদের জন্য রাজনীতি কঠিন করার প্রতিজ্ঞা নিয়ে যে দলের জন্ম, সেই দল ক্ষমতায় এসে রাজনীতির ধারায় দেশকে প্রতিষ্ঠা করতে পারার কথা নয়। ফলে বিরাজনীতিকরণের ধারায়ই দেশ গণবিচ্ছিন্ন অন্ধকারের দিকে ধাবিত হয়। জনগণ তা প্রতিরোধ করে এবং ১৯৯৬ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়ে দেশকে রাজনীতির ধারায় ফিরিয়ে আনার পন্থা গ্রহণ করে।

ক্ষুদ্র এ কলামে বেশি কথায় না গিয়ে বলা যায়, ’৯১-৯৬ শাসনামলে দেশে মুক্তিযুদ্ধের ধারার বিপরীতে দেশ বিরাজনীতিকীকরণের পথে ছিল এমন অভিযোগ এবারের মতো দলের ভেতর থেকে কেউ উত্থাপন করেননি। প্রকৃত বিচারেই সীমাবদ্ধতা-দুর্বলতার মধ্যে সাফল্য-অর্জন নিয়ে দেশ ঘুরে দাঁড়ায় এবং গণসম্পৃক্ত রাজনীতির ধারায় দেশ অগ্রসর হয়। কিন্তু সুদীর্ঘ ২১ বছরের পথপরিক্রমায় বিরাজনীতিকীকরণের যে শক্তি পরাজিত শক্তির প্রতিভূ হিসেবে রাষ্ট্রযন্ত্রে দৃঢ় ও বিস্তৃত অবস্থান নেয়, সেই শক্তির পক্ষে দেশবাসীর ঈপ্সিত রাজনীতিকীকরণের পথকে মেনে নেয়া সম্ভব ছিল না। ফলে ২০০১-এর ভোট ডাকাতির নির্বাচন অবশ্যম্ভাবী ছিল।

ওই নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটের বিজয় ছিল বিরাজনীতিকীকরণের রাজজোটক বিশেষ। হাওয়া ভবন-খোয়াব ভবন-প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় মিলে দুর্নীতি-লুণ্ঠন-সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অশুভ চক্র বা চেইন সৃষ্টি, বিএনপি-জামায়াত জোটের সঙ্গে বাংলা ভাই-মুফতি গংয়ের অশুভ আঁতাত, ১০ ট্রাক অস্ত্র নাটক, উপমহাদেশের আতঙ্ক ডন ইব্রাহীমকে দেশের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করা, জনসভায় গ্রেনেড-বোমা হামলা, ড. ইয়াজউদ্দিনকে দিয়ে দি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নীলনকশা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা প্রভৃতি ছিল বিরাজনীতিকীকরণের পথে দেশের টেনে ধরে রাখারই হীন প্রচেষ্টা।

জনগণের তা মেনে নেয়নি। শুরু হয় প্রতিরোধ আন্দোলন। ঘটনার ঘাত-প্রতিঘাতে আবারো আসে ১/১১-এর জরুরি আইনের সেনা ও নিরপেক্ষ দাবিদার সুশীলদের যৌথ শাসন। ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দিনের আমলে দুই নেত্রীকে রাজনীতি থেকে বিতাড়ন করার জন্য ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ কিংবা ড. ইউনূস ও দলছুট ফেরদৌস আহমেদ কোরাইশীকে দিয়ে ‘কিংস পার্টি’ গঠনের প্রচেষ্টা ছিল বিরাজনীতিকীকরণেরই অপচেষ্টা। কিন্তু জনগণ তা রুখে দাঁড়ায় এবং আন্দোলনের মাধ্যমে আবারো ওই ধারাকে প্রতিহত করা হয়।

২০০৮ সালে গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক ধারা বহাল হয়। স্বাভাবিকভাবেই ধারণা করা গিয়েছিল যে, এরপর রাজনীতি আবার রাজনীতিকদের হাতে ফিরে আসবে। বর্তমানে আওয়ামী লীগ প্রায় ১১ বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছে। কিন্তু ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ বলেছেন দেশ রাজনীতির ধারায় ফিরে আসেনি। কেবল এই কথা থেকেই নয়, রাজনৈতিক অঙ্গনে কান পাতলেও শোনা যায়, ঐতিহ্যবাহী সংগ্রামী দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেও রাজনীতি এখন রাজনীতিকদের হাতে নেই। যদি তেমনটাই হয় দেশের অবস্থা তবে তা থেকে চারটি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। এক. কেন রাজনীতি রাজনীতিকদের হাতে নেই? দুই. রাজনীতি রয়েছে কার হাতে? তিন. রাজনীতিকদের হাতে না থাকাটা কি দেশের জন্য মঙ্গলজনক? চার. যদি মঙ্গলজনক না হয় তবে এ থেকে পরিত্রাণের পথ কী?

রাজনীতি কেন রাজনীতিকদের হাতে নেই এটা বললেই জাতীয় মূলধারার রাজনীতির কেউ কেউ বলবেন যে, পরাজিত শক্তির হত্যা-ক্যু-প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সামরিক শাসন ও ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত ওই ঈপ্সিত পথে জাতিকে থাকতে দেয়নি। কিন্তু আমরা যদি স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শাসনামলের দিকে তাকাই তবে বুঝতে পারব, জাতীয় মূলধারার রাজনীতি তথা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ রাজনৈতিক দলগুলো বঙ্গবন্ধুর পাশে দৃঢ়তা, ঐকান্তিকতা ও ধারাবাহিকতা নিয়ে দাঁড়ায়নি।

পরাজিত শক্তির যড়যন্ত্র-চক্রান্তের মধ্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে পুনর্গঠন-পুনর্বাসন কাজ সম্পন্ন করা, ভারতীয় মিত্র বাহিনীকে দেশে পাঠানো, রাষ্ট্রযন্ত্র তথা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, জাতীয় চার নীতি সংবলিত সংবিধান প্রণয়ন ও সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের স্বীকৃতি আদায় করা প্রভৃতি সাফল্য-অর্জনে বঙ্গবন্ধুর শাসনামল নিঃসন্দেহে গৌরবোজ্জ্বল। কিন্তু তখন ‘দুই কুকুরের লড়াই’পন্থি ‘রাতের বাহিনী’, ‘গণবাহিনী’ ‘শান্তিবাহিনী’সহ বিভিন্ন বাহিনীর নাশকতামূলক কিংবা দেশ ও গণবিরোধী অতি উগ্র কাজের মধ্যে সরকার ও সরকারি দলে বঙ্গবন্ধু কথিত ‘চাটার দল’-এর উত্থান ছিল কলঙ্কের। বঙ্গবন্ধু সেনাবাহিনী নামিয়ে ‘চাটার দলকে’ দমন করতে গেলে দল থেকেই এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ওঠায় তা বন্ধ করতে হয়েছে। ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনে শফিউল আলম প্রধানের মতো খুনি এবং শ্রমিক সংগঠনে মান্নানের লাল বাহিনীর উত্থান এবং পরীক্ষিত নেতা তাজউদ্দীনের মন্ত্রিসভা ও আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব থেকে প্রস্থান ও দলীয় কোন্দল ছিল এরই পরিণতি।

যদি ক্ষমতাসীন দল তখন নিজেদের এই দুর্বলতা-সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করতে পারত, তবে কি সংসদীয় গণতন্ত্রের পথ থেকে সরে এসে বঙ্গবন্ধুকে একদল বাকশাল আদৌ করতে হতো! নিজেদের ফাঁকফোকর তথা উঠান যদি বাঁকা না হতো তা হলে কি বঙ্গবন্ধু নিহত হতেন! বিরাজনীতিকীকরণের পাকিস্তানি ধারা কি ফিরে আসত? বর্তমানে একই ধরনের ঘটনার পাঁকের মধ্যে পড়েছে দেশ। ছাত্রলীগে সিক্স পারসেন্ট খাওয়া কিংবা ৪০ লাখ টাকা নিয়ে পদ বিক্রির শোভন-রাব্বানী চক্র গড়ে ওঠা হচ্ছে এরই উদাহরণ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের খবরে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নাকি বলেছেন, এরা ‘মনস্টার’ হয়ে গেছে, যুবলীগের কিছু নেতা নাকি ‘শোভন-রাব্বানীর চেয়েও খারাপ’ ইত্যাদি। ‘তৃণমূলের কোন্দল তথা অবস্থার জন্য ‘কেন্দ্রীয় নেতারাই দায়ী’ বলেই কেবল মন্তব্য করেননি, জন্মদিন পালন করার কর্মসূচি সামনে এলে তিনি বলেছেন ‘চাঁদাবাজি হালাল করার জন্য আমার নামে মিলাদের দরকার নেই’। আওয়ামী লীগ দলের উঠান যে বাঁকা এসবই এর প্রমাণ।

এই অবস্থায় বিরাজনীতিকীকরণের ধারা ফিরে আসবে না তো কি হবে? শেখ হাসিনা ‘মনস্টার’দের জিরো টলারেন্স দেখাতে লালবার্তা দিলেই আপনাআপনি রাজনীতিকীকরণের ধারা ফিরে আসবে না। এক ধাক্কায়ও তা হবে না। নেত্রীর চারপাশের রাজনীতিকদের ওই লালবার্তার নির্দেশ পালন করা ভিন্ন অন্ধকার থেকে আলো উৎসারিত হবে না। দেশ-বিদেশে যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা তখন দলের জন্য তাকে লালবার্তা দিতে হচ্ছে। এটা কোনোভাবেই অভিপ্রেত হতে পারে না। লালবার্তাকে দলে প্রয়োগ করে প্রমাণ করতে হবে যে, দল রয়েছে শেখ হাসিনার সঙ্গে।

প্রসঙ্গত বর্তমানে ’৭১-৭৫ আমলের চেয়ে সামরিক-বেসামরিক আমলা, ব্যবসায়ী সম্প্রদায় সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এখন হত্যা-ক্যু-সামরিক আইন জারি করে দেশকে বিরাজনীতিকীকরণের পথে নেয়ার প্রয়োজন পড়ে না। গণতন্ত্র-সংবিধান বহাল রেখেই দেশকে বিরাজনীতিকীকরণের দিকে টেনে নেয়া যায়। বলা যায় রাজনীতিকদের যেখানে পরাজয়, সেখানেই অরাজনীতিকদের বিজয়। কীভাবে রাজনীতিতে সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনের হস্তক্ষেপ বাড়ছে, সেসব গল্পকথা শুনলে বিস্ময় ও হতাশার সীমা থাকে না।

দুর্ভাগ্যই বলতে হবে, তোফায়েল ভাই তথা আমাদের প্রজন্মের। দেশ স্বাধীন করে এই প্রজন্ম গৌরবের আসনে প্রতিষ্ঠিত থাকবে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জীবন বাজি রেখে সুকৌশলে সংগ্রাম করে জাতীয় মূলধারার রাজনীতিকে সুযোগ করে দিলেও ওই প্রজন্ম বিরাজনীতিকীকরণের ধারা থেকে সরিয়ে এনে রাজনীতির ধারায় দেশকে পুনঃস্থাপন করতে পারেননি। এই প্রশ্নের মুখোমুখি মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের হতেই হবে। হত্যা-ক্যু-সামরিক শাসন আর ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে না।

এখনো সময় আছে। সব ফুরিয়ে যায়নি। সামনে রাজনীতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী উৎসব পালিত হবে। আওয়ামী লীগের কাউন্সিলও সামনে। জাতীয় মূলধারার রাজনৈতিক দল ও রাজনীতিকদের জন্য এমন দুর্লভ সময় ও সুযোগ বোধকরি আর আসবে না। রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মসূচি প্রণয়ন আওয়ামী লীগের সমস্যা নয়। বিগত নির্বাচনের ইশতেহারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা দেশবাসীর সামনে দিয়ে রেখেছেন। সমস্যা হলো দলকে গোছানো। সম্মেলনের মতো সম্মেলন করা। প্রসঙ্গত ‘কাউয়া’ কথাটা তো আর এমনি এমনি সাধারণ সম্পাদক ওবায়েদুল কাদের বলছেন না।

প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামও আওয়ামী লীগ বদলালে দেশ বদলাবে কথাটি বলেছিলেন। প্রকৃত বিচারে এই যদি হয় ক্ষমতাসীন ঐতিহ্যবাহী সংগ্রামী দল আওয়ামী লীগের অবস্থা, তবে বিরাজনীতিকীকরণ হবে না তো কি হবে? আশার কথা, সম্মেলন সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের বিষয়টি সামনে এনেছেন।

এমন নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে অগণিত-অসংখ্যক। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশমতো জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে আইন নিজস্ব গতিতে চলতে না থাকলে কিংবা দলীয় ভাবমূর্তি যারা বিনষ্ট করে তাদের দল থেকে সরাতে না পারলে অর্থ ও অস্ত্রের কাছে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের পথের দিশা খুঁজে পাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। রাজনীতি তথা দেশপ্রেম ও জনসেবার প্রশিক্ষণ ও মোটিভেশনও এই ক্ষেত্রে জরুরি, নতুবা যে যাবে লঙ্কায় সে-ই হবে রাবণ। রাজনীতির মাঠ রাজনীতিকদের হাতে ফিরে আসুক- এই কামনা করেই আজ কলামের সমাপ্তি টানছি।

লেখক : রাজনীতিক।

এইচআর/পিআর

নিজেদের ফাঁকফোকর তথা উঠান যদি বাঁকা না হতো তা হলে কি বঙ্গবন্ধু নিহত হতেন! বিরাজনীতিকীকরণের পাকিস্তানি ধারা কি ফিরে আসত? বর্তমানে একই ধরনের ঘটনার পাঁকের মধ্যে পড়েছে দেশ। ছাত্রলীগে সিক্স পারসেন্ট খাওয়া কিংবা ৪০ লাখ টাকা নিয়ে পদ বিক্রির শোভন-রাব্বানী চক্র গড়ে ওঠা হচ্ছে এরই উদাহরণ